মৃত ব্যক্তির কাযা রোজার ফিদইয়া কীভাবে আদায় করবো এবং কাযা স্বলাতের ফিদইয়া আছে কি না?
Janazah-Burial · Hanafi
Question
Answer
মৃত ব্যক্তির কাযা স্বলাত ও রোজার কাফফারা/ফিদইয়া সংক্রান্ত বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
মৃত ব্যক্তির যদি কাযা স্বলাত বা কাযা রোজা বাকি থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে কীভাবে কাফফারা বা ফিদইয়া আদায় করা হবে?
জবাবঃ- এক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার পর থেকে নিয়ে তার সমস্ত অনাদায়ী ফরজ নামাজ ও বিতর নামাজ গুলোর ফিদইয়া আদায় করতে হবে।
প্রত্যেকটি ফিদইয়া হল একটি করে সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা।
অনুরূপভাবে প্রত্যেকটি ফরজ রোজার পরিবর্তে একটি করে ফিদইয়াহ আদায় করতে হবে। একটি ফিদইয়াহ হল একটি করে সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা।
উল্লেখ্য মাইয়্যিত যদি মারা যাওয়ার আগে এসমস্ত নামাজ ও রোজার ফিদিয়া আদায় করার ওছিয়ত করে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশ সম্পদ হতে তার অনাদায়ী নামাজ ও রোযার ফিদিয়া আদায় করা ওয়ারিশদের উপর আবশ্যক হবে।
ওয়ারিশরা আদায় না করলে এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা গুনাহগার হবেন।
আর যদি মাইযয়্যিত মারা যাওয়ার আগে তার অনাদায়ী নামাজ ও রোজার ফিদইয়া আদায়ের ওছিয়ত না করে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ওয়ারিশদের উপর ফিদইয়া আদায় করা আবশ্যক হবে না।
তারপরেও ওয়ারিশরা যদি মাইয়্যিতের অনাদায়ী নামাজ রোজার ফিদইয়া আদায় করে দেয়, তাহলে তা মাইয়্যিতের জন্য অনুগ্রহ ও দয়া বলে গন্য হবে।
মৃত ব্যক্তির কাযা রোজার ক্ষেত্রে ফিদইয়া আদায় করা হবে — প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে এক সা‘ (প্রায় ৩.৫ কেজি গম বা তার সমমূল্য, অথবা খেজুর/যবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পরিমাণ) খাদ্য দেওয়া।
দলিল: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
«مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرٍ فَلْيُطْعِمْ عَنْهُ وَلِيُّهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا»
"যে ব্যক্তি এক মাসের রোজা বাকি রেখে মারা যায়, তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে।"
— সুনানে তিরমিযী: ৭১৮; সুনানে আবু দাউদ: ২৪০১; মুসনাদে আহমাদ। ইমাম তিরমিযী (রহ.) হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে এ হাদীস অনুযায়ী আমল করা হয়।
ফিদইয়ার পরিমাণ ও পদ্ধতি
- প্রতিদিনের রোজার জন্য এক সা‘ পরিমাণ খাদ্য (গম, চাল, খেজুর ইত্যাদি) অথবা তার বাজারমূল্য মিসকিনকে দেওয়া।
- একাধিক রোজার ফিদইয়া এক মিসকিনকে একসাথে দেওয়াও জায়েয (ইবনে আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার: ২/৪২৭)।