নামাজে মেয়েদের সিজদা দেওয়ার সময় এবং বসার সময় পা রাখার নিয়ম
Salah-Prayer · Hanafi
Question
১. নামাজে সিজদা দেওয়ার সময় এবং বসার সময় মেয়েদের পা রাখার নিয়ম কী?
২. বসা এবং সিজদা দেওয়ার সময় পা ডান দিকে বের করে দেওয়া হলে ডান পা বেশিরভাগ সময়ই কাপড়ের বাইরে বের হয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে পায়ের গোড়ালিও বের হয়ে যায়। আবার পায়ের আঙুলের হাড়ের কাছে ঘষা লেগে লেগে পা ফুলে গেছে এবং আঙুলের আকৃতিও পরিবর্তন হয়ে গেছে এজন্য কি পা ডান দিকে বের না করে পিছন দিকে সোজা করে রাখা যাবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
الجواب وبالله التوفيق
১. মেয়েদের নামাজে বসা ও সিজদার নিয়ম:
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, মেয়েদের নামাজে পুরুষদের থেকে ভিন্নভাবে বসা ও সিজদা করার বিধান রয়েছে। মেয়েদের জন্য নামাজে সর্বাধিক সংকুচিত (সংকীর্ণ) অবস্থায় থাকা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢেকে রাখা কর্তব্য।
বসার নিয়ম (তাশাহহুদ ও অন্যান্য বৈঠকে): মেয়েরা তাশাহহুদে ও দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে তাওয়াররুক করবে না, বরং ইফতিরাশ করবে। তবে পুরুষদের ইফতিরাশে ডান পা খাড়া রাখা হয়, আর মেয়েরা ডান পা ডান দিকে সমতলভাবে বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে (এবং বাম পা-ও ডান পায়ের নিচ থেকে ডান দিকে বের করে দেবে)। এতে সতর ঢেকে রাখা সহজ হয়।
সিজদার নিয়ম: মেয়েরা সিজদায় যাওয়ার সময় শরীরকে মাটিতে লাগিয়ে (চেপে) রাখবে, হাত দু'পাশে শরীরের সাথে মিলিয়ে রাখবে (কনুই মাটিতে বা শরীরের সাথে লাগিয়ে), এবং পেট রান-থাইয়ের সাথে মিলিয়ে রাখবে। পা দুটি ডান দিক থেকে বের করে দিয়ে বসবে, যাতে সতর (পিছন দিক) ঢেকে থাকে।
২. পা ডান দিকে বের না করে পিছনে সোজা রাখা যাবে কি?
মূল বিধান হলো—মেয়েদের নামাজে এমনভাবে বসা ও সিজদা করা যে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংকুচিত থাকে এবং সতর সম্পূর্ণরূপে ঢেকে থাকে। মেয়েদের জন্য পা ডান দিকে বের করা সুন্নত হিসেবে বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) নয়; বরং এটি সতর ঢেকে রাখার একটি মাধ্যম।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী—
- পা ডান দিকে বের করলে কাপড়ের বাইরে পা ও গোড়ালি বের হয়ে যাচ্ছে (যা নামাজে সতর ঢেকে রাখার বিধানের পরিপন্থী),
- ঘর্ষণের কারণে পা ফুলে যাচ্ছে ও আঙুলের আকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে (যা শারীরিক কষ্ট ও ক্ষতির কারণ)।
এমতাবস্থায়: ১. যদি পা ডান দিকে বের করলে সতর (পায়ের গোড়ালি ও পায়ের অংশ) কাপড়ের বাইরে বের হয়ে যায়, তাহলে সেই অবস্থায় নামাজ আদায় করা ঠিক হবে না; কারণ মেয়েদের জন্য পায়ের গোড়ালী-সহ সমস্ত শরীর সতরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এমনভাবে বসা জরুরি যাতে পা ঢেকে থাকে। ২. শারীরিক কষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে (যেমন পা ফুলে যাওয়া, আকৃতি পরিবর্তন), শরীয়তের সাধারণ নিয়ম হলো—"الضرر يزال" (ক্ষতি দূর করা হবে)। এমতাবস্থায় আপনি পা ডান দিকে বের না করে পিছনে সোজা করে বা যেভাবে সহজ ও সতর ঢেকে রাখা সম্ভব হয়, সেভাবে বসতে পারেন। এতে নামাজ বাতিল হবে না, ইনশাআল্লাহ। ৩. তবে চেষ্টা করবেন—যেমনভাবে সম্ভব হয় সতর ঢেকে রাখতে, এবং পায়ের ক্ষতি না হয় এমন একটি মাঝামাঝি পদ্ধতি অবলম্বন করতে। যেমন: প্রশস্ত কাপড় ব্যবহার করা, পায়ের নিচে নরম কিছু রাখা, অথবা পা সামান্য ভিন্নভাবে রাখা—যাতে সতরও ঢাকে এবং ক্ষতিও না হয়।
সারকথা: মেয়েদের জন্য পা ডান দিকে বের করা আবশ্যক নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো সতর ঢেকে রাখা ও সংকুচিত থাকা। সতর ঢেকে রাখা সম্ভব হলে এবং শারীরিক ক্ষতি এড়ানোর জন্য পা পিছনে সোজা করে বা সহজভাবে রাখা জায়েয আছে।
والله سبحانه وتعالى أعلم بالصواب
References (হানাফি কিতাব):
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ২, "باب صفة الصلاة" — মেয়েদের সিজদা ও বসার পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
- ফাতাওয়া আলমগিরি (ফাতাওয়া হিন্দিয়া), খণ্ড ১, "كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة"।
- আল-হিদায়া (মারগিনানি), "كتاب الصلاة"।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী), খণ্ড ১ — মেয়েদের নামাজের বৈঠক প্রসঙ্গে।
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড ১ — নামাজের বৈঠক ও সতর প্রসঙ্গে।
- বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী), নামাজের মাসায়েল অধ্যায়।