Ruqyah

সকাল সন্ধ্যায় হেফাজতের আমল

হেফাজতের আমল ১: 
আয়াতুল কুরসি: সকাল সন্ধ্যায় ১ বার করে
হেফাজতের আমল-২: 
হাদিসের দুআ: সকাল সন্ধ্যায় ৩ বার করে
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
হেফাজতের আমল-৩: 
হাদিসের দুআ: সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে
بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
হেফাজতের আমল-৪: 
সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস: সকাল সন্ধ্যায় ৩ বার করে

হেফাজতের আমল-৫: 
শয়তানের প্রভাব থেকে সুরক্ষা: সকাল সন্ধ্যায় ১০০ বার করে
(তবে কোন সমস্যা না থাকলে ১০ বার করে পড়লেও হবে)
لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
হেফাজতের আমল-৬:
সুরা তাওবাহ ১২৯ নং আয়াতের অংশ: সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার করে
حَسْبِيَ اللّٰهُ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ



হাদিসের কিছু শক্তিশালী রুকইয়া বা তিব্বে নববি
তিব্বে নববি বা নবির চিকিৎসা শুধু শয়তান বা জিনের বিরুদ্ধে নয়। বরং যেকোনো সাধারণ রোগের জন্যও এই চিকিৎসা কাজ করে। 
কুরআনের আয়াত ও হাদিসের দুআর মধ্যে শিফা আছে। আর এই শিফা নেওয়ার জন্য বড়ো বুজুর্গ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিংবা রাকী হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিংবা মনের ভেতরে সন্দেহ তৈরি করার দরকার নেই, আমি তো এত আমল করি না, আমার দ্বারা হবে না। দুআগুলো বিশ্বাসের সাথে পড়তে পারলেই হবে। শয়তান পড়ার সময়ও বিশ্বাসে সন্দেহ তৈরি করবে, যে তোমার পড়ার দ্বারা কিছু হবে না। এই সন্দেহ আসলেও পড়তে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই কাজ হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ এই শক্তি আমার আপনার নয় বরং কুরআন ও হাদিসের শক্তি। 
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যেকোনো রোগের জন্য (যেমন: মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, জ্বর, ডায়েরিয়া ইত্যাদি) রোগীর গায়ে বা ব্যথার স্থানে হাত দিয়ে বিশ্বাসের সাথে রুকইয়াহ ১ থেকে ৬ এর আমল করলেই ইনশাআল্লাহ ফলাফল পাওয়া যাবে।
বদনজর, সিহর, জিন-শয়তান অথবা অন্য কোনো কঠিন সমস্যার জন্য ১৩ নম্বর রুকইয়াহ পুরোটা পড়লেই হবে ইনশাআল্লাহ।



রুকইয়াহ-১: যেকোনো রোগের জন্য: সূরা ফাতিহা: ৭ বার


أَعُوْذُ بِاللہِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ
اَلْحَمْدُ لِلّٰہِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ﴿۱﴾
اَلرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيْمِ ﴿۲﴾
مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ﴿۳﴾
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنَ ﴿۴﴾
اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ﴿۵﴾
صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ﴿۶﴾
 غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ
وَلَا الضَّالِّيْنَ﴿۷﴾



ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা ফাতিহা সব রোগের মহৌষধ।’- (সুনানে দারেমি, হাদিস ৩৪১৩; মিশকাত, হাদিস ২১৭০)।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, কয়েকজন সাহাবি আরবের এক গোত্রে এলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোনো মেহমানদারি করল না। হঠাৎ ওই গোত্রের নেতাকে সাপে কাটে। তখন তারা এসে বলল, আপনাদের কাছে কি কোনো ওষুধ আছে? তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তোমাদের আমাদের মেহমানদারি করতে হবে। আমরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। তারা মেহমানদারি করতে রাজি হল। এ ছাড়া আমরা তাদের কাছে একপাল বকরি চাইলাম। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা পড়ে মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির ক্ষতে মেখে দিলেন। ফলে বিষ নেমে গেল এবং সে সুস্থ হয়ে গেল।
সাহাবিরা খাওয়া-দাওয়া করে নবি করিম (সা.)-এর কাছে বকরিসহ ফিরে এলেন। তারা রাসুল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন তাদের এ ধরনের কাজ ঠিক হল কি না। নবি (সা.) শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও একটি অংশ রেখে দিও।’ (বুখারি, হাদিস ৫০০৬)
হজরত জাফর সাদেক (রা:) বর্ণনা করেন, সুরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রন্ত লোকের মুখমণ্ডলে ছিঁটিয়ে দিলে, এর বরকতে জ্বর দূরীভূত হয়ে যাবে।
ফজরের নামাজের সুন্নত ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ৪১ বার এ সুরা পাঠ করে চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যাথা দূর হয়।
রুকইয়াহ-২: রোগীর সুস্থ হওয়ার দুআ: ৭ বার
أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ: আসআলুল্লহাল আ’য্বিমী রব্বাল আ’রশীল আজীম আইইয়্যাশফিয়্যাক।
অনুবাদ: আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রভুর নিকট তোমার আরোগ্য (সুস্থতা) প্রার্থনা করছি।
ফজিলত: ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোন রুগ্ন মানুষকে সাক্ষাৎ করবে, যার এখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি এবং তার নিকট সাতবার এই দুআটি বলবে, আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন।
রুকইয়াহ-৩: যেকোনো রোগের জন্য: সূরা ফাতিহার প্রতি আয়াতের সাথে নিচের দুআ ১ বার করে
প্রথমে রুকইয়াহর আউজুবিল্লাহ এরপর সাধারন বিসমিল্লাহ এরপর সূরা ফাতিহার প্রতি আয়াতের সাথে নিচের দুআটি পড়তে হবে। সূরা ফাতিহার মোট আয়াত ৭টি আবার এই দুআটাও পড়ার কথা এসেছে ৭ বার। সূরা ফাতিহা নিজেই একটি শিফা এবং এই নির্দিষ্ট দুআটিও শিফার জন্য বিখ্যাত। এই দুটি একসাথে পাঠ করার ফলে রুকইয়াহর কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়।
أَعُوذُ بِاللّٰهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ -أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ


রুকইয়াহ-৪: ব্যাথার জন্য দুআ: তিনবার বিসমিল্লাহ এবং সাতবার নিচের দুআ
আবু আব্দুল্লাহ উসমান ইবনে আবুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল (সা.) এর নিকট ব্যাথার অভিযোগ করলেন। অতঃপর রাসুল (সা.) তাঁকে বললেন, তুমি তোমার দেহের ব্যথিত স্থানে হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ এবং সাতবার দুআটা পড়ো।
৩ বার- بِسْمِ اللّٰهِ
৭ বার-
أَعُوذُ بِاللّٰهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ: আউযু বিল্লা-হি ওয়াকুদরতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়াউহা-যির।
অনুবাদ: আমি আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরতের অসীলায় সেই জিনিসের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি যা আমি পাচ্ছি ও ভয় করছি।
[মুসলিম ২২০২ নং আবু দাউদ ৪/১১]
রুকইয়াহ-৫: ফোঁড়া, গোটা, ইত্যাদির জন্য: ৩ বার
নিয়ম: প্রথমে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলে একটু থুতু নিয়ে, আঙ্গুলটি মাটিতে রেখে নিচের দুআটি পড়তে হবে। এরপর ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিতে হবে। ঢাকা শহরে যেহেতু ফিজিক্যাল মাটি পাওয়া যায় না তাই টবের মাটির উপরে নখ রাখলেও ইনশাআল্লাহ হবে।  
بِسمِ اللّٰهِ، تُرْبَةُ أرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদ্বিনা, বিরীক্বাতি বা’দিনা, ইয়্যুশফা সাক্বীমুনা, বিইযনি রাব্বিনা।
অনুবাদ: আল্লাহর নামের সঙ্গে আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কিছু লোকের থুতু মিশ্রিত করে (ফোঁড়াতে) লাগালাম। আমাদের প্রতিপালকের আদেশে এর দ্বারা আমাদের রোগী সুস্থতা লাভ করবে। [বুখারি ও মুসলিম]
ফজিলত: আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, যখন কোন ব্যক্তি নবি (সা.) এর নিকট নিজের কোন অসুস্থতার অভিযোগ করত অথবা (তার দেহে) কোন ফোঁড়া কিংবা ক্ষত হতো, তখন নবি (সা.) নিজ আঙ্গুল নিয়ে এরকম করতেন। (হাদিসের রাবী) সুফ্য়ান তাঁর শাহাদত আঙ্গুলটিকে জমিনের উপর রাখার পর উঠালেন। (অর্থাৎ তিনি এভাবে মাটি লাগাতেন।)
রুকইয়াহ-৬: অসুস্থ থেকে সুস্থতার দুআ: ৩ বার
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বান নাস, আজহাবিল বা’সা, ওয়াশফি আনতাশ শা-ফি-, লা শিফাআ’ ইল্লা- শিফা-উকা শিফা-আ’ লা ইউগাদিরু সাক্বমা।
অনুবাদ: ‘হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর করো এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য, যা বাকি রাখে না কোনো রোগ।’ [বুখারি, মিশকাত]
ফজিলত: হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হতো তখন রাসুল সা. তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন এবং বলতেন। 

রুকইয়াহ-৭: অসুস্থ থেকে সুস্থতার দুআ: ৩ বার

بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ , مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ , اللّٰهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লা-হি আরক্বীক, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীক, ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ আইনি আউ হা-সিদ, আল্লা-হু ইয়াশফীক, বিসমিল্লা-হি আরক্বীক
অনুবাদ: “আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাঁড়ফুক করছি, কষ্টদায়ক সকল কিছুর ক্ষতি হতে, যে কোনো মানুষ বা বদনজর অথবা হিংসুকের হিংসার নজর হতে। আল্লাহ আপনাকে শিফা বা রোগমুক্ত করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর নামেই ঝাঁড়ফুক করছি।” [সহিহ মুসলিম: ৪/১৭১৮]

ফজিলত: আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, ‘জিবরীল নবি (সা.) এর নিকট এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরীল তখন এই দুআটি পড়লেন।’