একেবারে অনিয়মিত সালাত আদায়কারী ব্যক্তির ফায়সালা।

Janazah-Burial · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 185
Questioner: Rased Hasan
Question Asked: 17 May 2026, 05:28 AM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 12:43 PM
Views: 59
Tokens: 5,318
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন ৩৫ বছর বয়সী বিবাহিত মুসলিম যুবক, যিনি চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানের জনক। তিনি ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং নিজের সন্তানকে কুরআনের হাফেজ বানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে অলসতাবশত তিনি ইসলামের বিধি-বিধান ও মৌলিক ইবাদতগুলো ঠিকমতো পালন করতেন না; বছরে মাত্র ২/৪ বার বা জীবনে খুব অল্প ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন।
কিছুদিন আগে তিনি নিজের পিতাকে বৈদ্যুতিক শক থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বর্তমানে তাঁর পিতা জীবিত আছেন এবং যুবকের জানাজা শেষে তাঁকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হচ্ছে যে:
১. নামাজ না পড়ার কারণে যেখানে মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যের হাদিস রয়েছে, সেখানে তাঁর শেষ পরিণতি কী হবে?
২. পরকালে তাঁর ক্ষমা পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা?
৩. তাঁর জন্য দোয়া করা যাবে কিনা?
৪. তাঁর পরিবার যদি তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করে, তবে তা তাঁর কোনো উপকারে আসবে কিনা?

Answer

উত্তর:
আল্লাহর নামে শুরু, যিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওপর।

প্রশ্নে বর্ণিত যুবকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তিনি ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু নামাজের মতো ফরজ ইবাদতকে গুরুত্ব দেননি—বছরে মাত্র ২/৪ বার বা জীবনে খুব অল্প ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন। এটি সুস্পষ্ট নামাজ ত্যাগের শামিল। সহিহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
«بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ»
“মানুষ ও শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮২)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় সাহাবি ও সালাফে সালেহিনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত হলো—সুস্থ-সচেতন অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ সম্পূর্ণ ত্যাগকারী ব্যক্তি (ফরজিয়ত স্বীকার করলেও) ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা, ইবনুল কাইয়িম, শায়খ ইবনু বাজ, শায়খ আলবানী, শায়খ উসাইমিন ও শায়খ ফাওজান (রহিমাহুমুল্লাহ) সবাই এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। শায়খ ইবনু বাজ (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, সে কাফির; তার জানাজা পড়া যাবে না, মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা যাবে না, তার জন্য দোয়া করাও জায়েয নয়।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনু বাজ, ১০/২৫৮)

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব লক্ষ করুন:


১. নামাজ না পড়ার কারণে তাঁর শেষ পরিণতি কী হবে?

কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ও অলসতাবশত নামাজ পুরোপুরি ত্যাগ করে (অথবা এত কম পড়ে যা নামাজ ত্যাগের শামিল), তার ব্যাপারে হাদিসে সতর্কতা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
«فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ»
“সুতরাং ধ্বংস ঐ সব নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।” (সূরা আল-মাউন: ৪-৫)

তবে এই ব্যক্তি নিজের পিতাকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করায় তার শেষ মুহূর্তে সম্ভবত তওবা বা ইখলাস ছিল—এটি আমরা জানি না। বাহ্যিক অবস্থা অনুযায়ী, নামাজ ত্যাগের কারণে তিনি কুফরি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর কাছে। শায়খ ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, সে যদি ফরজিয়ত অস্বীকার করে তাহলে কাফির, আর যদি অলসতার কারণে ত্যাগ করে তাহলে অধিকাংশ সাহাবি ও ইমামের মতে সেও কাফির। তবে ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়; আমরা বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিই।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনু উসাইমিন, ১২/৪৭)

সুতরাং তাঁর জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে, যদি না আল্লাহ বিশেষ রহমত করেন।


২. পরকালে তাঁর ক্ষমা পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি?

আল্লাহর রহমত অপরিসীম, কিন্তু কুরআনে বলা হয়েছে:
«إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ»
“নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং তা ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সূরা আন-নিসা: ৪৮)

নামাজ ত্যাগ করাকে সালাফেরা শিরকের সমকক্ষ বা তার থেকেও ভয়ানক বলেছেন। তবে যদি তিনি মৃত্যুর পূর্বে অন্তরে তওবা করে থাকেন বা তাঁর পিতাকে বাঁচানোর কাজটি ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তবে আল্লাহ হয়তো ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু যেহেতু তিনি নামাজ ত্যাগের কারণে স্থায়ী কুফরি অবস্থায় ছিলেন, তাই শিরক ছাড়া অন্য পাপের জন্য ক্ষমার প্রতিশ্রুতি তাঁর ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে না—যতক্ষণ না তিনি তওবা করেন। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে তিনি ক্ষমা পাবেন। তবে আশা করা যায় যে, তাঁর পিতার প্রতি সদয় আচরণ ও আকস্মিক মৃত্যু আল্লাহর রহমতের কারণ হতে পারে; কিন্তু সেটি তওবা ও ঈমানের ওপর নির্ভরশীল।

শায়খ ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে অথবা রোজা ত্যাগ করে, কিন্তু ফরজিয়ত বিশ্বাস করে, তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ সালাফের মতে সে কাফির, এবং তার জন্য ক্ষমার আশা করা যায় না, যদি না তওবা করে।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া, ২২/২৯)


৩. তাঁর জন্য দোয়া করা যাবে কি?

যদি আমরা বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে মুসলিম না মনে করি (নামাজ ত্যাগের কারণে), তাহলে তার জন্য ইস্তিগফার বা জান্নাতের দোয়া করা জায়েয নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
«مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ»
“নবী ও মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকট আত্মীয় হয়।” (সূরা আত-তওবা: ১১৩)

তবে যদি কেউ মনে করে যে, তিনি সম্ভবত মুসলিম ছিলেন (কারণ তিনি ঈমান রেখেছিলেন, নামাজ ত্যাগ করলেও কুফরি অস্বীকার করেননি—এটি হানাফী মাজহাবের মত), তাহলে তার জন্য দোয়া করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা সালাফি মতে থাকায়, অধিকাংশ সালাফের মত অনুযায়ী—যিনি নামাজ ত্যাগ করেন, তার জন্য দোয়া করা উচিত নয়। বরং তার পরিবারের উচিত আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য ধৈর্য ও হেদায়েত প্রার্থনা করা।

শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, তাকে মুসলিম গণ্য করা যাবে না; তাই তার জন্য রহমতের দোয়া করা জায়েয নয়।” (সিলসিলা হুদা ওয়া নূর, ক্যাসেট ২৪)


৪. তাঁর পরিবার যদি তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করে, তবে তা তাঁর কোনো উপকারে আসবে কি?

সদকার উপকার শুধু মৃত মুসলিমের জন্যই প্রমাণিত (হাদিসে বর্ণিত)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
«إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»
“মানুষ মারা গেলে তার আমলের ধারা ছিন্ন হয়ে যায়, তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হয়, অথবা সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)

এই হাদিসে ‘সদকায়ে জারিয়া’ ও ‘সন্তানের দোয়া’ মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে, যদি সে মুসলিম হয়। কিন্তু যদি সে কাফির হয়—যেমনটি নামাজ ত্যাগের কারণে আমাদের মতে—তবে তার জন্য দান-সদকা কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
«مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন, এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম।” (সূরা আল-মায়েদা: ৭২)

তবে পরিবার যদি নেক নিয়তে সদকা করে, তবে তা তাদের নিজেদের জন্যই সওয়াব হবে, মৃতের জন্য নয়। শায়খ ইবনু বাজ (রহ.) বলেন:
“কাফিরের জন্য সদকা বা দোয়া কোনো উপকারে আসে না। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে তাকে কাফির গণ্য করা হয়, তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা নিরর্থক।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া, ১৩/১৮৫)


উপসংহার ও পরামর্শ

এই যুবকের ব্যাপারে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বরং আল্লাহর কাছে তার অবস্থা ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে শরিয়তের বাহ্যিক বিধান অনুযায়ী, তাকে নামাজ ত্যাগকারী কাফির হিসেবেই গণ্য করতে হবে। তাই তার জন্য দোয়া বা সদকা করা যাবে না। পরিবারের সদস্যদের উচিত নিজেদের ঈমান ও নামাজের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া, এবং মৃত ব্যক্তির সন্তানকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া—যাতে সে নিজে সৎ হয় এবং তার পিতার জন্য দোয়া করতে পারে (যদি পিতা মুসলিম হন)। কিন্তু যেহেতু পিতার অবস্থা সন্দেহজনক, তাই সন্তানকে কেবল সাধারণভাবে দোয়া করতে বলা যেতে পারে: “হে আল্লাহ, যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের ক্ষমা করুন”—এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়।

আল্লাহই অধিক জ্ঞানী এবং তাঁর রহমতের আশা করা যায়, কিন্তু সুস্পষ্ট হাদিসের আলোকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর জন্য দোয়া না করি।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.