বিয়ের ক্ষেত্রে কি করা উচিত?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, বয়স প্রায় ২৮। পারিবারিক বিভিন্ন কারণ, ব্যস্ততা এবং নিজের অনেক গাফিলতির কারণে এই বয়সে যতটুকু আর্থিক, মানসিক বা শারীরিক ভাবে গোছানো থাকা উচিত আমি তেমন নেই। আয় রোজগার, ক্যারিয়ার আলহামদুলিল্লাহ পারিবারিক একটা ব্যবসা থেকে চলছে, তবে আমার মনে হয় না বিয়ে করে স্ত্রীর জন্য তা যথেষ্ট। এরই মাঝে আল্লাহ্ তা'আলা দ্বীন এর বুঝ দেওয়ার পর, আল্লাহ্ তা'আলার উপর ভরসা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই এবং দ্বীনদারিতা কে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করি। এরমাঝে শুধু ১ জনকেই দেখা হয়েছে আমার। তার পরিবার ভদ্র, তিনি স্বাভাবিক পর্দা করেন (নরমাল বোরকা), জেনারেল শিক্ষিত, নামায পড়েন এবং আপাত দৃষ্টিতে সহজ সরল। আমার আর্থিক বিষয়ে, এবং আরো কিছু বিষয়ে যা জানার পর সাধারণত কেউ বিয়ের জন্য আগ্রহী হয় না (যেমন আমি যে বাড়ি তে থাকি তা বিক্রি করে দিচ্ছি বাবার ঋণ শোধ করতে)। এসব কিছুর পর ও তারা প্রচন্ড রকমের আগ্রহী। এখন আসি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, আমি অনেক ভাবে চেষ্টা করেছি তাকে দেখায় পছন্দ করতে, কিন্তু মন থেকে যতটুকু পছন্দ হওয়া উচিত বিয়ের জন্য, আমার ভিতর থেকে তা আসছে না। এটা যাতে তারা কষ্ট না পান, তাই দেখে আসার পর তাদের বলা হয়েছিল যে আপনারা ও আরো ছেলে দেখেন, আমরাও দেখি। তবে তারা এখনো আজ প্রায় ৮ মাস চলে যাওয়ার পর ও অনেক আগ্রহী বিশেষ করে মেয়ে নিজে। অনেক কান্নাকাটি ও করেন। আমি আসলে কি করতে পারি? ইদানিং কি বলবো বুঝতে না পেরে তাদের ফোন ও ধরছি না, এতে কি আল্লাহ্ তা'আলা আমার উপর নারাজ হচ্ছেন?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
** উত্তর:**
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—একটি প্রস্তাব যেখানে মেয়েপক্ষ অত্যন্ত আগ্রহী, কিন্তু আপনার অন্তরে বিয়ের জন্য যথেষ্ট পছন্দ জন্মাচ্ছে না; অন্যদিকে আপনি ভাবছেন, ফোন না ধরলে বা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহ তা‘আলা নারাজ হবেন কি না। ইসলামের দৃষ্টিতে এখানে মূলনীতি হলো: বিয়ে সহজ করাই সুন্নাহ, কিন্তু জোর করে বা শুধু অন্যের চাপে এমন বিয়েতে এগোনো উচিত নয়, যেখানে অন্তরে প্রকৃত সম্মতি নেই। পাশাপাশি, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা বা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া কোনো গুনাহ নয়; বরং অস্পষ্টতা ও ঝুলিয়ে রাখাই বেশি ক্ষতিকর। তবে ফোন এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ভদ্র ও সম্মানজনক ভাষায় স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া উচিত।
১. বিয়ের সিদ্ধান্তে মূল বিবেচনা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ»
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারির কারণে। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও।”
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪৬৬
আপনি দ্বীনদারিতা প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—এটি প্রশংসনীয়। কিন্তু দ্বীনদারিতা মানে এই নয় যে, অন্তরের স্বাভাবিক সম্মতি ও পারস্পরিক মানসিক উপযুক্ততাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে হবে। হাদীসে আরও এসেছে:
«لَمْ نَرَ لِلْمُتَحَابِّينَ مِثْلَ النِّكَاحِ»
“পরস্পর ভালোবাসা পোষণকারীদের জন্য বিয়ের মতো উপযুক্ত বন্ধন আর নেই।”
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৮৪৭
ইমাম ইবনে আবিদীন রহ. «রাদ্দুল মুহতার»-এ বিয়ের উপযুক্ততা আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, কেবল দ্বীনদারিতা নয়; বরং পারস্পরিক সামঞ্জস্য, মানসিক অনুকূলতা ও সংসার পরিচালনার সামর্থ্যও বিবেচনায় নিতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার ৩/৫৬ প্রসঙ্গ)
অর্থ: দ্বীনদারিতা প্রধান শর্ত, কিন্তু একমাত্র শর্ত নয়। আপনার অন্তরে যদি বারবার প্রতিরোধ আসে, তাহলে শুধু “মেয়েপক্ষ আগ্রহী” বা “তারা কষ্ট পাবে না” এই ভয়ে বিয়ে করাই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
২. আপনার আর্থিক অবস্থা ও বিয়ের সামর্থ্য
আপনি বলেছেন, পারিবারিক ব্যবসা থেকে আয় চলছে, তবে স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হয় না; বাবার ঋণ শোধের জন্য বাড়ি বিক্রি করছেন। ইসলামে বিয়ের জন্য অতিরিক্ত সম্পদশালী হওয়া শর্ত নয়; বরং সামর্থ্য অনুযায়ী সহজ বিয়ে করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»
“হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে; কারণ তা দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হেফাযত করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য ঢাল।”
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৬৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪০০
ইমাম আত-তাহাবী রহ. «শারহু মা‘আনিল আছার»-এ এবং ইমাম সারাখসী রহ. «আল-মাবসূত»-এ উল্লেখ করেছেন, বিয়ের সামর্থ্য বলতে সাধারণভাবে খোরপোশ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হওয়াকে বোঝায়; অতিরিক্ত বিলাসিতা নয়। (আল-মাবসূত ৪/১৯৯ প্রসঙ্গ)
তবে আপনার নিজের মনে যদি দৃঢ়ভাবে হয় যে, এখন বিয়ে করলে আপনি স্ত্রীর হক আদায় করতে পারবেন না বা নিজের ঋণ-দায়িত্বের চাপে সংসার ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবেন না, তাহলে এখনই বিয়ে করা ফরজ নয়; বরং সামর্থ্য ও প্রস্তুতি অনুযায়ী সময় নেওয়া বৈধ। কিন্তু এটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টালবাহানা বানানোও ঠিক নয়।
৩. মেয়েপক্ষের আগ্রহ ও আপনার অন্তরের অনীহা
আপনি লিখেছেন, মেয়ে দ্বীনদার, নামায পড়ে, পর্দা করে, পরিবার ভদ্র; কিন্তু আপনার অন্তরে বিয়ের জন্য যথেষ্ট পছন্দ আসছে না। ইসলামে বিয়ের বৈধতা কেবল বাহ্যিক গুণে নয়; বরং পাত্র-পাত্রীর সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। জোরপূর্বক বিয়ে ইসলামে সমর্থিত নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ، وَلَا الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ»
“কুমারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং বিধবা/পূর্ব-স্বামীযুক্ত নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।”
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪১৯
যদিও এখানে পাত্রের সম্মতির বিষয়টি সরাসরি পাত্রীর হাদীস দ্বারা বোঝানো হচ্ছে, তবু ফকীহগণ বলেছেন, পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে সম্পূর্ণ নয় এবং জোরপূর্বক বিয়ে ফাসিদ/নাজায়েয। (রাদ্দুল মুহতার ৩/৯ প্রসঙ্গ; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২৭৬ প্রসঙ্গ)
অতএব: আপনি যদি অন্তর থেকে সম্মত না হন, শুধু তাদের আগ্রহ বা কষ্টের ভয়ে বিয়ে করেন, তাহলে এতে আপনারও কষ্ট হবে এবং তাদেরও দীর্ঘমেয়াদে কষ্ট হতে পারে। এ ধরনের বিয়ে ইসলামে কাম্য নয়।
৪. “তারা কষ্ট পাবে” বলে অস্পষ্ট রাখা কি ঠিক?
আপনি দেখে আসার পর বলেছেন, “আপনারা আরও ছেলে দেখেন, আমরাও দেখি।” এটি ভদ্রতার দিক থেকে ভালো হলেও ৮ মাস ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা এবং এখন ফোন না ধরা—এতে মেয়েপক্ষ আরও বিভ্রান্ত ও আশাবাদী হয়ে পড়ছে। ইসলামে প্রতারণা ও অস্পষ্টতা নিষিদ্ধ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ»
“প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।”
— সহীহ বুখারী, হাদীস ১০
আরও এসেছে:
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
“যে আমাদের সাথে ধোঁকা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
— সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১
ইমাম ইবনে আবিদীন রহ. «রাদ্দুল মুহতার»-এ বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। (রাদ্দুল মুহতার ৩/৮ প্রসঙ্গ)
সুতরাং: ফোন এড়িয়ে যাওয়া বা “হয়তো পরে দেখব” বলে অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা ইসলামically উত্তম পদ্ধতি নয়। বরং একবার স্পষ্টভাবে, ভদ্রভাবে ও সম্মানসহ নিজের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন বলা যেতে পারে:
“আল্লাহর শুকরিয়া, আপনারা খুব ভালো পরিবার এবং আপনার মেয়েও দ্বীনদার। কিন্তু আমি নিজের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থা এবং অন্তরের পূর্ণ সম্মতির বিষয়টি বিবেচনা করে এই বিয়েতে এগোতে পারছি না। আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য আমি দুঃখিত। আল্লাহ আপনাদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দেন।”
এভাবে স্পষ্ট বললে তাদের কষ্ট হতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি বিভ্রান্তি ও আরও বড় কষ্ট থেকে রক্ষা করবে। আর আপনি দায়িত্ব এড়ানোর অপরাধ থেকেও মুক্ত থাকবেন।
৫. ফোন না ধরলে আল্লাহ নারাজ হবেন কি?
আল্লাহ তা‘আলা কারও ওপর অন্যায় করেন না। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা নিজে থেকে কোনো গুনাহ নয়; বরং পাত্র-পাত্রীর সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা বা মিথ্যা আশা দেওয়াই বেশি সমস্যার। তবে ইসলামের আদব হলো, প্রত্যাখ্যানেও স্পষ্টতা, ভদ্রতা ও সম্মান বজায় রাখা। ফোন এড়িয়ে যাওয়া, বারবার এড়িয়ে চলা বা অস্পষ্ট রাখা—এতে সাময়িকভাবে নিজের অস্বস্তি কমতে পারে, কিন্তু অপর পক্ষের কষ্ট ও বিভ্রান্তি বাড়ে। তাই উত্তম হলো:
- একবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে আপনি এই বিয়েতে এগোতে পারছেন না।
- অভিভাবক বা পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি বলানো, যাতে সরাসরি মেয়ের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না হয়।
- অভদ্রতা বা অপমান না করা; তাদের দ্বীনদারি ও ভালো গুণের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানের সাথে বিদায় হওয়া।
- দ্বীনি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া: আপনি যদি মনে করেন, দ্বীনি দিক থেকে মেয়েটি উপযুক্ত, কিন্তু আপনার নিজের প্রস্তুতি ও সম্মতির অভাব আছে—তাহলে সেটাই স্পষ্ট বলুন। আর যদি মনে করেন, দ্বীনি দিকেও কোনো গুরুতর অসামঞ্জস্য আছে—তাহলে সেটিও বিবেচনায় নিন।
- ইস্তিখারা ও পরামর্শ: পরিবারের বড়দের সাথে পরামর্শ করুন এবং সালাতুল ইস্তিখারা করুন। আল্লাহর কাছে ভালোটা চেয়ে নিন।
৬. আপনার করণীয়—ধাপে ধাপে
- নিজের অন্তরের অবস্থা পরিষ্কার করুন: আপনি কি সত্যিই এই মেয়েকে বিয়ে করতে চান না, নাকি আর্থিক ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাবই প্রধান বাধা? যদি শুধু আর্থিক ভয় হয়, তাহলে সহজ বিয়ের সুন্নাহ অনুসরণ করে এগোনো যায়। আর যদি অন্তরে প্রকৃত অনীহা থাকে, তাহলে জোর করবেন না।
- পরিবারের সাথে পরামর্শ করুন: আপনার বাবা-মা বা বিশ্বস্ত বড়দের সাথে বিষয়টি খুলে বলুন।
- স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন: ভদ্র ভাষায়, অভিভাবকের মাধ্যমে, একবারই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। “আরও দেখি” বলে অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখবেন না।
- ফোন এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বার্তা বা অভিভাবকের মাধ্যমে জানান: সরাসরি মেয়ের সাথে দীর্ঘ কথাবার্তা ইসলামically কাম্য নয়; বরং অভিভাবকের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিন।
- দুআ করুন:
«رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ»
“হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।” (সূরা আল-কাসাস: ২৪) - ভবিষ্যতে বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিন: আর্থিক পরিকল্পনা, দায়িত্ববোধ ও দ্বীনি প্রস্তুতি গড়ে তুলুন; ইনশাআল্লাহ সময়মতো উপযুক্ত সঙ্গী আসবে।
৭. একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আপনি বলেছেন, “আমি যে বাড়িতে থাকি তা বিক্রি করে দিচ্ছি বাবার ঋণ শোধ করতে।” এটি আপনার পিতার ঋণ পরিশোধে সহায়তা—নেক কাজ, ইনশাআল্লাহ। তবে বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তারপরও তারা আগ্রহী—এটি তাদের দিক থেকে ভালো নিয়তের পরিচায়ক হতে পারে। কিন্তু আপনার অন্তরে সম্মতি না থাকলে শুধু তাদের আগ্রহের কারণে বিয়ে করবেন না। আবার তাদের আগ্রহকে ভুলভাবে ব্যবহারও করবেন না। স্পষ্টতা是最好的 সমাধান।
উপসংহার
- বিয়ে করা সুন্নাহ ও ইবাদত, কিন্তু জোরপূর্বক বা অন্তরের সম্মতি ছাড়া বিয়ে ইসলামে সমর্থিত নয়।
- দ্বীনদারিতা প্রধান, কিন্তু পারস্পরিক মানসিক সামঞ্জস্য ও সম্মতিও জরুরি।
- প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা গুনাহ নয়; বরং স্পষ্টভাবে, ভদ্রভাবে ও সম্মানের সাথে জানিয়ে দেওয়া কর্তব্য।
- ফোন এড়িয়ে যাওয়া বা অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা ইসলামের আদব নয়; এতে অপর পক্ষের কষ্ট ও বিভ্রান্তি বাড়ে।
- আল্লাহ তা‘আলা ন্যায়বিচারক ও দয়ালু; আপনি স্পষ্ট ও সৎভাবে সিদ্ধান্ত জানালে তিনি নারাজ হবেন না, ইনশাআল্লাহ।
- ইস্তিখারা, পরামর্শ ও স্পষ্ট যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিন।
আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে উত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আপনার জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণকর সঙ্গী নির্ধারিত করে দিন। আমীন।
তথ্যসূত্র:
- সহীহ বুখারী, হাদীস ১০, ৫০৬৫, ৫০৯০, ৫১৩৬
- সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১, ১৪০০, ১৪১৯, ১৪৬৬
- সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৮৪৭
- রাদ্দুল মুহতার, ৩/৮, ৩/৯, ৩/৫৬
- আল-মাবসূত, ৪/১৯৯
- ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৭৬
- শারহু মা‘আনিল আছার