বিবিধ কিছু মাসআলা সম্পর্কে জানতে চাই?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 2390
Questioner: saifurrahman 1974
Question Asked: 06 Jul 2026, 05:37 PM
Reviewed & Published: 06 Jul 2026, 06:07 PM
Views: 67
Tokens: 56,760
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি হানাফি মাযহাবের।
১.নামাজে সিজদাহ তে পা কি একত্রে লাগিয়ে রাখা সুন্নত?কিভাবে রাখবো অনেকে আবার বলে ফাকা রাখা সুন্নত.।কোনটা সবচেয়ে সহিহ?

২.নামাযে রুকুতে হাত কি টান টান সোজা থাকবে নাকি ডান হাতের কনুই ডান দিকে, বাম হাতের টা বাম দিকে?(কনুই মানে আরকি যেই পর্যন্ত অজুতে হাত ধুই ঐটা পর্যন্ত)

৩.নামাজে কেউ যদি ১ম বা ২য় রাকাতে সুরা ফাতিহা না পড়ে অন্য সূরা প্রথমে পড়ে তাহলে কি পরে ওই সূরা পরে ফাতিহা পড়বো নাকি অন্য কিছু করবো?

৪.আচ্ছা নামাজে যে বৈঠকে বা দুই সিজদাহ্ এর মাঝে বসি, তাতে তো বাম পা এর উপরে বসে ডান পা খাড়া করে রাখি। এখন ডান পা কি একদম সোজা খাড়া হবে?আর পুরো বাম পা এর উপরে বসতে হবে?আর বাম পা এর আঙুলগুলো কি ডান পা এর আঙুলের সাথে লাগাতে হবে?

৫.সানা নিচের কোনটা সঠিক :
(।)সুবহানাকাল্লাহুম্মা....
(।।)সুবহানাকা আল্লাহুম্মা....

৬.কাপড়ে রক্ত লাগলে তো নাপাক হয়ে যায়।তো অনেক ভালো কইরা ঘষলেও তো নাপাকি মানে রক্ত দূর হয় না। তাই কাপড়ে রক্ত লাগলে কি শুধু ৩বার ধোয়া আর প্রত্যেকবার ভালো করে চিপা,তাহলেই কি হবে?

৭.নাপাক কাপড় ধোয়ার সময় তো হাতেও নাপাক লাগে, তাই হাত কি প্রত্যেকবার পাক করা লাগবে?
৮.নাপাক কাপড় ধোয়ার সময় তো বালতি তেও নাপাক লাগে, তাই বালতি কি প্রত্যেকবার পাক করা লাগবে?
৯.নাপাক কাপড় ধুয়ার সময় মুখে নাপাকি চলে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে অই নাপাক পা ই খেলে কি করবো আর ইচ্ছাকৃতভাবে না হলে কি করবো? কারণ নাপাকি দেহে চলে যাবে?
১০.প্লাস্টিক বা স্টীলের টেপ পাক করার নিয়ম কি?
১১.বালতি,মগ, বদনা, জুতা পাক করার নিয়ম কি?
১২.পায়খানা করার পর হাত পাক করার নিয়ম কি?সাবানসহ বলিয়েন আবার শুধু পানি দিয়েও।
১৩.হাতে দৃশ্যমান নাপাকি লাগলে কিভাবে পাক করবো, আর অদৃশ্যমান নাপাকি লাগলে কিভাবে পাক করবো? শুধু পানি দিয়ে, আবার সাবান ব্যবহার করে, আলাদা করে।
১৪.হাতে বীর্য লাগলে পাক করবো কিভাবে? শুধু পানি দিয়ে, আর সাবান দিয়ে আলাদা করে।
১৫।হাতে প্রস্রাব লাগলে পাক করবো কিভাবে? সাবানসহ আবার সাবান ছাড়া আলাদা করে।
১৬.নাপাক জিনিস ধরার পর হাত নাপাক হলে হাত কিভাবে পাক করবো?সাবান সহ আবার শুধু পানি দিয়ে।
১৭.আচ্ছা ফরয গোসলে নাপাকি দূর করার সময় তো নাপাকির পানি পা বেয়ে পরে।তাহলে পা ও কি নাপাক হয়ে যাবে?
১৮.শরীর মাজনিতে নাপাকি লাগলে পাক করবো কিভাবে?কারন বেসিনে এটা থাকে।আর বেসিনে তো হাত নাপাক হলেও ধুয়া হয়, তাহলে তো বেসিন ও নাপাক। আর অই নাপাক বেসিনে লাগে?
১৯.যে বেসিনে নাপাক হাত বা জিনিস ধুওয়া হয় তাহলে তো বেসিনে এর নাপাকি লাগে তাহলে এটা পাক করবো কিভাবে?নাকি পাক থাকে এটা।
২০.নাপাক কাপড় যে তিন বার চিপবো তো কতটুকু চিপতে হবে?মানে কেমন চিপতে হবে?যতবারই চিপি ততবারই তো পানি পড়বে??
২১.ফরয গোসলে কি দাতের ফাকে পানি পৌছানো ফরয? আর দাতের ফাকে খাবার থাকলে কি দ্বারা পরিষ্কার করবো সুন্নত।
২২.ফরয গোসলে নখের ভিতরে পানি কিভাবে পৌছাবো?
২৩.ফরয গোসলে কানে,নাভিতে পানি পৌছানোর সুন্নত নিয়ম কি।
২৪.ফরয গোসলে ছেলেরা চুলের গোড়ায় কিভাবে পানি পৌছাবো? সহজ ভাষায় সুন্নত নিয়ম।
২৫.নবিজি ফরয গোসলে কতটুকু পানি ব্যবহার করতেন?
২৬.ফরজ গোসলে নাপাকি দূর করার পর হাত পাক করবো কিভাবে? সাবান ব্যবহার করে আবার শুধু পানি ব্যবহার করে আলাদা করে।

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তর: আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হানাফি মাযহাবের আলোকে নিম্নরূপ দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তর প্রামাণ্য কিতাব যেমন রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, আল-হিদায়া, বাহিশতী জেওর, ইমদাদুল ফাতাওয়া প্রভৃতির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।


১. সিজদায় পা রাখার নিয়ম

সিজদায় উভয় পায়ের পাতার আঙুলগুলো কিবলামুখী করে মাটিতে রাখা এবং পায়ের পাতা একসাথে লাগিয়ে রাখা সুন্নত। ফাঁকা রাখা সুন্নত নয়। ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন, “পুরুষের জন্য সিজদায় পেট ও পা পৃথক না রাখা এবং পায়ের আঙুল কিবলামুখী রাখা সুন্নত।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৭)


২. রুকুতে কনুইয়ের অবস্থান

রুকুতে উভয় হাত হাঁটুতে রাখতে হবে এবং বাহু সোজা রাখতে হবে। কনুই ডানে-বামে ছড়ানো সুন্নত নয়। বরং হাত সোজা রাখতে হবে। নবী (সা.) রুকুতে এমনভাবে হাত রাখতেন যেন বাহু ও পিঠ সোজা থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮২০; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৮)


৩. ফাতিহা না পড়ে অন্য সূরা পড়লে করণীয়

প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাতে কেউ যদি ভুলে ফাতিহা না পড়ে অন্য সূরা পড়ে ফেলে, তাহলে সে যদি পরে ফাতিহা পড়ার কথা মনে করে, তবে সে ঐ সূরা শেষ করে ফাতিহা পড়তে পারে। কিন্তু যেহেতু ক্রম ভঙ্গ হয়েছে, তাই সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। আর যদি মনে না করে, তাহলে ফাতিহা পড়া ফরজ ছুটে গেছে, তবে নামাজ সহিহ হবে এবং সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৮৮; বাহিশতী জেওর, ১/১৫৪)


৪. বৈঠকে পায়ের অবস্থান

দুই সিজদার মাঝে ও তাশাহহুদে বাম পা বিছিয়ে তার উপরে বসা এবং ডান পা খাড়া রাখা সুন্নত। ডান পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী হবে এবং বাম পায়ের আঙুলের সাথে লাগানো জরুরি নয়। পুরো বাম পায়ের উপরে বসতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮২০; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৯)


৫. সানার সঠিক উচ্চারণ

দুটিই সহিহ, তবে অধিক প্রচলিত ও সহিহ হলো: “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” (এতে “সুবহানাকাল্লাহুম্মা” সংযুক্ত)। অপরটি “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...” (পৃথক) হলেও তা জায়েয। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, “সুবহানাকাল্লাহুম্মা” পাঠই অধিক সুন্নত। (বাদায়েউস সানায়ি, ১/২০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৭২)


৬. কাপড়ে রক্ত লাগলে পাক করার নিয়ম

কাপড়ে যদি রক্তের পরিমাণ এক দিরহাম (প্রায় ৩.৫ সেমি) বা তার বেশি হয়, তবে তা ধুয়ে ফেলা ফরজ। তিনবার ধুয়ে প্রতিবার ভালোভাবে চিপালেই কাপড় পাক হবে, যদি রক্তের রং চলে যায়। আর যদি রং থাকে কিন্তু পদার্থ না থাকে, তবুও তা পাক বলে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫২)


৭. নাপাক কাপড় ধোয়ার সময় হাত পাক করা

হাত নাপাক হবে, তাই হাত ধোয়া ফরজ। প্রতিবার নাপাক কাপড় ধোয়ার পর হাত তিনবার ধুয়ে নেওয়া ভালো, তবে একবার ধুলেও হাত পাক হবে যদি নাপাকি দূর হয়। (আল-হিদায়া, ১/২৬)


৮. নাপাক কাপড় ধোয়ার বালতি পাক করা

বালতি নাপাক হবে। প্লাস্টিক বা ধাতব বালতি হলে একবার ধুলেই পাক হবে। যদি মাটির বা কাঠের হয়, তবে তিনবার ধুতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৫)


৯. নাপাক পানি মুখে চলে গেলে করণীয়

ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাক পানি মুখে নিলে তা নাজাসাত (নাপাকি) হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা পান করা হারাম। পানির ছিটা অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে গেলে কিছুই করণীয় নয়, ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট। দেহে নাপাকি লাগলে ধুয়ে ফেলতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৬৪)


১০. প্লাস্টিক বা স্টিলের টেপ (থালা/পাত্র) পাক করা

প্লাস্টিক ও স্টিলের পাত্র পাক করতে হলে নাপাকি দূর হওয়া পর্যন্ত ধুতে হবে। একবার ধুলেই পাক হবে, তবে তিনবার ধোয়া উত্তম। (আল-হিদায়া, ১/২৮)


১১. বালতি, মগ, বদনা, জুতা পাক করার নিয়ম

এগুলো নাপাক হলে, প্লাস্টিক/ধাতব হলে একবার ধুয়ে পাক হবে। চামড়ার জুতা বা কাপড়ের জুতা নাপাক হলে ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা মাটিতে ঘষে নিলেও পাক হবে (যদি নাপাকি শুকনো থাকে)। তবে ধোয়াই উত্তম। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪০)


১২. পায়খানার পর হাত পাক করার নিয়ম

পায়খানার পর হাত সাবান বা শুধু পানি দিয়ে ধোয়া সুন্নত। সাবান ব্যবহার করা ভালো, তবে পানি দিয়েই পাক হবে যদি নাপাকি দূর হয়। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, পায়খানার পর হাত তিনবার ধোয়া মুস্তাহাব। (বাহিশতী জেওর, ২/১৬)


১৩. হাতে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নাপাকি লাগলে পাক করার নিয়ম

  • দৃশ্যমান নাপাকি: ধুয়ে ফেলতে হবে যতক্ষণ না চিহ্ন ও গন্ধ দূর হয়। একবার ধুলেই পাক হবে, তবে তিনবার উত্তম।
  • অদৃশ্যমান নাপাকি (যেমন শুকনো রক্তের চিহ্ন থাকলে): শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। সাবান ব্যবহার জরুরি নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০; রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪)

১৪. হাতে বীর্যযুক্ত হলে পাক করার নিয়ম

বীর্যযুক্ত নাপাক (হানাফি মতে)। শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। সাবান ব্যবহার করা জরুরি নয়, তবে ভালো। শুকনা বীর্য হলে ঘষে তুলে ফেললেও পাক হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬; রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০)


১৫. হাতে প্রস্রাব লাগলে পাক করার নিয়ম

প্রস্রাব নাপাক। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। সাবান ছাড়া বা সাবান দিয়ে—উভয়ই জায়েজ, তবে সাবান ব্যবহার উত্তম যাতে গন্ধ দূর হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩২৫)


১৬. নাপাক জিনিস ধরার পর হাত পাক করার নিয়ম

নাপাক জিনিস ধরার পর হাত নাপাক হবে। শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই পাক হবে। সাবান ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই, তবে ব্যবহার করলে ভালো। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০)


১৭. ফরজ গোসলে নাপাক পানি পায়ে পড়লে

ফরজ গোসলের সময় নাপাক পানি পায়ে পড়লে পা নাপাক হবে। তবে গোসল শেষে পা ধুয়ে ফেলা ফরজ নয়, বরং গোসলের শেষে সরাসরি পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিলেই পা পাক হবে। অপরিবর্তে, গোসলের পানি যদি পা স্পর্শ করে, তবে পা নাপাক হয় না যদি পানি নাপাক না হয়। (বাদায়েউস সানায়ি, ১/৪৯)


১৮. শরীর মাজনির (সাবান/বডি ওয়াশ) বোতলে নাপাকি লাগলে

বোতলের বাইরের অংশ নাপাক হলে ধুয়ে ফেলতে হবে। ভিতরের উপাদান পাক থাকবে যদি বোতল সিল করা থাকে। বেসিন (সিঙ্ক) নাপাক হলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। প্লাস্টিক/ধাতব বেসিন একবার ধুলেই পাক হয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪০)


১৯. নাপাক হাত বা জিনিস ধোয়ার বেসিন

বেসিন নাপাক হবে। একে পাক করতে হবে। প্লাস্টিক বা সিরামিকের বেসিন হলে একবার ধুয়ে ফেললেই পাক হয়। যদি পানি জমে থাকে, তবে সেই পানি নাপাক হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৫)


২০. নাপাক কাপড় চিপার পরিমাণ

তিনবার ধোয়ার সময় প্রতিবার ভালোভাবে চিপতে হবে যাতে পানি বের হয়ে যায়। এমনভাবে চিপতে হবে যে, পুরাতন পানি বের হয়ে যায়। যদি স্রোত থাকে বা কাপড় চেপে পানি বের হয়, তাহলেই যথেষ্ট। পানি যদি আবারও পড়ে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; কাপড় পাক হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫)


২১. ফরজ গোসলে দাঁতের ফাকে পানি পৌঁছানো

দাঁতের ফাকে পানি পৌঁছানো ফরজ নয়, তবে সুন্নত। যদি খাবার আটকে থাকে, তা সরিয়ে ফেলা সুন্নত। দাঁতের ফাক পরিষ্কার করার জন্য মিসওয়াক বা ফ্লস ব্যবহার করা সুন্নত। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮০)


২২. নখের ভিতরে পানি পৌঁছানোর নিয়ম

নখের নিচে ময়লা থাকলে তা পরিষ্কার করে পানি পৌঁছানো ফরজ। গোসলের সময় আঙুলগুলো ভালোভাবে নাড়ে বা পানি দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে নখের নিচে পানি পৌঁছেছে। (বাহিশতী জেওর, ১/৩৫)


২৩. কানে ও নাভিতে পানি পৌঁছানোর সুন্নত নিয়ম

  • কান: কানের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো ফরজ নয়, তবে সুন্নত। আঙুল দিয়ে কানের ছিদ্রে পানি দেওয়া সুন্নত।
  • নাভি: নাভির ভিতর পানি পৌঁছানো ফরজ। নাভি গভীর হলে আঙুল দিয়ে পানি পৌঁছানো সুন্নত। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮২)

২৪. ছেলেদের চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর নিয়ম

ফরজ গোসলের সময় পুরো মাথা ও চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো ফরজ। চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর জন্য আঙুল দিয়ে চুল ভিজিয়ে মাথা ঘষতে হবে। সুন্নত হলো তিনবার পানি ঢালা এবং প্রতিবার মাথা ভালোভাবে ঘষা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩১৬)


২৫. নবিজি (সা.) ফরজ গোসলের পানি ব্যবহার করতেন

নবী (সা.) ফরজ গোসলের জন্য প্রায় এক সা‘ (আনুমানিক ২.৫-৩ লিটার) পানি ব্যবহার করতেন। তিনি পানি অপচয় না করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩২৫)


২৬. ফরজ গোসলের পর হাত পাক করার নিয়ম

ফরজ গোসলের সময় নাপাকি দূর করার পর হাত নাপাক হতে পারে। গোসল শেষে হাত ধুয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ গোসলের শেষ পানি দিয়ে হাত পাক হয়ে যায়। তবে আলাদাভাবে হাত ধোয়া জরুরি নয়। সাবান ব্যবহার করাও প্রয়োজন নেই। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৮)


উল্লেখিত উত্তরগুলোর জন্য প্রধান রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি)
  • আল-হিদায়া (মারগিনানী)
  • বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি শফি)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.