ইসলামী শরীয়ায় অংশীদারিত্বের নিয়ম

Business and Job · Hanafi

Question No: 2220
Questioner: Shahinur Mony
Question Asked: 02 Jul 2026, 02:26 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 02:40 PM
Views: 71
Tokens: 3,710
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আসসালামু আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্। একজন ব্যক্তি যদি কাউকে ব্যবসার মূলধন দেয় অন্য কোন শ্রম নয়। বিপরীতে যে মূলধন নিবে সময়, শ্রম ও কেনা-বেচার দায়িত্ব তার নিজের। এক্ষেত্রে মূলধন সরবরাহকারী ব্যক্তি কোন পণ্য বিক্রি হলে কতভাগ লভ্যাংশ পাবে শরীয়া মোতাবেক?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে ব্যবসা করা মুদারাবা (Mudarabah) নামে পরিচিত, যা ইসলামী শরীয়তে একটি বৈধ অংশীদারিত্ব। এখানে এক পক্ষ মূলধন সরবরাহ করে (রাব্বুল মাল) এবং অপর পক্ষ শ্রম ও ব্যবস্থাপনা প্রদান করে (মুদারিব)।

শরীয়া মোতাবেক লভ্যাংশ বণ্টনের নিয়ম:

  1. লাভের অংশ নির্ধারণ:
    মুদারাবা চুক্তিতে লাভের শতকরা হার (যেমন ৫০%, ৪০%, ৬০% ইত্যাদি) চুক্তির শুরুতে নির্ধারণ করা আবশ্যক। কোনো পক্ষের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (যেমন ১০,০০০ টাকা) লাভ হিসেবে ধার্য করা জায়েজ নয়। বরং মোট লাভের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (Percentage) ধার্য করতে হবে।

  2. শরীয়া সম্মত হার:

    • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অধিকাংশ হানাফি ফকীহের মতে, মূলধন সরবরাহকারী (রাব্বুল মাল) ও শ্রমদাতা (মুদারিব) উভয়ের জন্যই লাভের শতকরা হার যে কোনো সম্মত অনুপাতে হতে পারে। যেমন: ৫০:৫০, ৬০:৪০, ৭০:৩০ ইত্যাদি। তবে কোনো পক্ষের জন্য লাভের নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণ ঠিক করা যাবে না।
    • রদ্দুল মুহতার (رد المحتار) -এ উল্লেখ আছে:

      "المضاربة عقد على الشركة في الربح بمال من واحد وعمل من الآخر"
      (مُضاربة হল একটি চুক্তি যেখানে এক পক্ষের মূলধন ও অপর পক্ষের শ্রমের ভিত্তিতে লাভে অংশীদারিত্ব হয়)

  3. ক্ষতির দায়িত্ব:
    ব্যবসায় ক্ষতি হলে তা শুধুমাত্র মূলধন সরবরাহকারীকে বহন করতে হবে। মুদারিব (শ্রমদাতা) তার সময় ও শ্রম হারাবে, কিন্তু মূলধনের কোনো ক্ষতি পূরণ করতে বাধ্য নয়। তবে যদি মুদারিব অসততা বা গাফিলতি করে, তাহলে সে দায়ী হবে।

  4. প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে উত্তর:
    আপনার বর্ণনায় মূলধন দাতা শুধু টাকা দিচ্ছেন, আর অপর ব্যক্তি সময়, শ্রম ও কেনাবেচার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এই চুক্তিতে লভ্যাংশ বণ্টন উভয়ের সম্মতিক্রমে যেকোনো অনুপাতে হতে পারে। তবে শরীয়া নির্দিষ্ট কোনো হার (যেমন "৩০% বা ৫০%") বেঁধে দেয়নি।

    উদাহরণ:

    • যদি তারা চুক্তি করে ৪০% মূলধন দাতা ও ৬০% শ্রমদাতা পাবে, তাহলে তা জায়েজ।
    • যদি ৫০:৫০ বা ৬০:৪০ হয়, তাও জায়েজ।

মাসআলার মূলনীতি:

  • মূলধন দাতা শুধু লাভের অংশ পাবেন, নির্দিষ্ট টাকা নয়।
  • শ্রমদাতা লাভের অংশ পাবেন, কিন্তু ক্ষতির দায় মূলধন দাতার উপর বর্তাবে।
  • চুক্তি লিখিতভাবে করা উত্তম, যাতে ভবিষ্যতে বিরোধ না হয়।

প্রাসঙ্গিক কিতাবের রেফারেন্স:

  1. রদ্দুল মুহতার (৪/৫০৫): মুদারাবার শর্তাবলী।
  2. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৩/২২৬): মুদারাবায় লাভ বণ্টনের নিয়ম।
  3. ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/২৫০): আশরাফ আলী থানভী (রহ.) - মুদারাবা ও লাভের অংশ।

সংক্ষেপে: শরীয়া মোতাবেক মূলধন সরবরাহকারী যে শতকরা হার চুক্তিতে নির্ধারণ করবেন, সেই অনুপাতে লাভ পাবেন। তবে ক্ষতির ঝুঁকি শুধু তার।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.