এই কোম্পানি যে চাকরি করা ঠিক হবে কিনা

Business and Job · Hanafi

Question No: 146
Questioner: Zawad Tasinnn
Question Asked: 16 May 2026, 07:13 PM
Reviewed & Published: 16 May 2026, 07:34 PM
Views: 95
Tokens: 3,653
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, উস্তায।
আমার এক ফ্রেন্ড ইউটিউবে ভিডিও বানায়। সে মূলত ইউটিউবে আর ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে এবং অ্যাডের মাধ্যমে ইনকাম করে। সে মূলত পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিডিও বানায় এবং শিক্ষার্থীদের খারাপ আসক্তি থেকে বের হতে সহায়তা করে। সম্প্রতি সে একটি কোর্স চালু করেছে যেটা থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার মতো আয় হয় গিয়েছে।
এখন আমার প্রশ্ন আমার বন্ধুর অধীনে আমি কি ওর কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করতে পারবো? যেহেতু আমার জানামতে, ইউটিউব এর ফেসবুকের অ্যাড এর মাধ্যমে যে ইনকাম আসে সেটা হারাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাকওয়ার বিবেচনায় এমন প্ল্যাটফর্মে আমার চাকরি করা উচিৎ হবে কি? যদিও এখন তার মূল ইনকাম আসবে কোর্স বেচার মাধ্যমে, যেটা আমার জানামতে হালাল। অ্যাড থেকে খুব অল্প ই হয়তোবা ইনকাম আসবে।
আমার মূলত এখানে চাকরি করার ইচ্ছা কারণ এখানে কোনো নারী নেই। পাশাপাশি আরও যারা আছে তারাও বেশ ভালো, বেশ কয়েকজন দ্বীনদার ভাই আছেন। আর তাছাড়াও কোম্পানি যে উদ্দ্যেশে কাজ করে ব্যক্তিগতভাবে আমার সেই উদ্দেশ্যে কাজ করার ইচ্ছা আছে।
জাযাকাল্লাহু খইরন।

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আপনার বন্ধুর কোম্পানির আয়ের উৎস দুটি: (১) ইউটিউব ও ফেসবুকের এড ইনকাম, (২) কোর্স বিক্রি। আপনার জানামতে এড ইনকাম হারাম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে কোর্স বিক্রি হালাল। এখন আপনি এই কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিতে চান। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই চাকরি জায়েজ হবে কি না, তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর:

১. আয়ের মিশ্রণ এবং মূল উৎসের অবস্থান

যদি কোম্পানির মোট আয়ের মধ্যে হারাম অংশ (এড ইনকাম) সংখ্যাগরিষ্ঠ বা উল্লেখযোগ্য হয়, তাহলে সেই কোম্পানিতে চাকরি করা অত্যন্ত সতর্কতার দাবি রাখে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামের নীতি হলো: “যখন হালাল ও হারাম মিশ্রিত হয়, তখন হারামের প্রাবল্য বা প্রাধান্য দেখা হয়।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৪০)

আপনি বলেছেন, এখন মূল ইনকাম হবে কোর্স বিক্রি থেকে, আর এড ইনকাম অল্প। যদি বাস্তবেই এড ইনকাম নগণ্য হয় এবং কোম্পানির স্থায়ী নীতি হিসেবে ধীরে ধীরে তা বন্ধ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনার চাকরি জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে শর্ত হলো, আপনার দায়িত্বে সরাসরি এড ব্যবস্থাপনা বা হারাম উৎসের প্রচার-প্রসার না থাকে।

২. ম্যানেজার হিসেবে আপনার ভূমিকা

যেহেতু আপনি ম্যানেজার হবেন, তাই কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রমের ওপর আপনার তত্ত্বাবধান থাকবে। যদি আপনার দায়িত্বের মধ্যে এমন কোনো কাজ না থাকে যা সরাসরি হারাম আয় (এড) উৎপাদনে সহায়তা করে, তাহলে তা জায়েজ। কিন্তু যদি এড ইনকামের জন্য আপনার কোনো ভূমিকা থাকে (যেমন: এড অপশন চালু রাখা, অ্যাডমিন প্যানেল পরিচালনা), তাহলে তা হারামের সহায়তা হওয়ার কারণে নাজায়েজ হবে। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২৮)

৩. তাকওয়া ও ইহতিয়াতের গুরুত্ব

আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন, এড ইনকাম হারাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাকওয়ার দৃষ্টিতে এমন জায়গায় চাকরি করা উচিত নয়, যেখানে লেনদেনের কোনো অংশই হারামের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে পবিত্র রাখে।” (বুখারি, মুসলিম)

অতএব, ইহতিয়াত (সতর্কতা) হলো আপনার বন্ধুকে প্রথমে এড ইনকাম সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিয়ে কেবল হালাল উৎস (কোর্স, স্পন্সরশিপ ইত্যাদি) থেকে আয় করতে উদ্বুদ্ধ করা। যদি তিনি তা করেন, তাহলে তাঁর কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেওয়া পুরোপুরি জায়েজ হবে।

৪. পরিবেশের ইতিবাচক দিক

আপনি বলেছেন, সেখানে নারী-পুরুষের মিশ্রণ নেই, এবং সহকর্মীরা দ্বীনদার। এটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু ভালো পরিবেশ থাকলেই হারাম আয়ের উৎস বৈধ হয়ে যায় না। পবিত্র আয়ের মাধ্যমেই দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের কল্যাণ নিহিত।

৫. বিকল্প পথ

আপনার যদি সেখানে কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা থাকে, তবে আপনি আপনার বন্ধুকে পরামর্শ দিতে পারেন:

  • ইউটিউব/ফেসবুকের এড ব্যবস্থা বন্ধ করে শুধু কোর্স ও অন্যান্য হালাল মাধ্যম (যেমন: সরাসরি ওয়েবসাইটে ডোনেশন, স্পন্সরশিপ) থেকে আয় করুক।
  • বর্তমানে অনেক ইসলামিক চ্যানেল এড ছাড়াই দান-সাদকার মাধ্যমে চলে; তারাও এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে।

যদি বন্ধু এড বন্ধ করতে রাজি না হয়, তাহলে আপনার জন্য ইহতিয়াত হলো এই চাকরি না নেওয়া, কারণ হারামের সঙ্গে সম্পৃক্ততার আশঙ্কা রয়ে যাবে।

সারসংক্ষেপ

  • যদি কোম্পানির আয়ের প্রধান উৎস হালাল (কোর্স) হয় এবং এড ইনকাম নগণ্য ও পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকে, এবং আপনার কাজ এডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না হয়, তাহলে চাকরি জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তাকওয়ার দাবি হলো শুধু হালাল উৎসের ওপর নির্ভর করা।
  • বিশুদ্ধ সমাধান: আপনার বন্ধুকে এড ছেড়ে দিতে রাজি করান। তারপর চাকরিতে যোগ দিন।
  • যদি এড বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই চাকরি না নেওয়াই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়্যাত ও তাকওয়া কবুল করুন এবং হালাল রিজিকের পথ সহজ করে দিন। (আমিন)

উল্লেখযোগ্য কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/২৪০, ২৪৬)
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৪২৮)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৩৪৫)
  • বাহিশতি জেওর (৮/১৫৭-১৫৮)

মেটা বর্ণনা:

SEO কীওয়ার্ডস:

SEO সার্চ ফ্রেজেস:


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.