তাশাহুদ বা দুরুদে হরফ উঁচু আওয়াজে উচ্চারণ হলে স্বলাত ফাসিদ হবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6413
Questioner: Guraba
Question Asked: 05 Oct 2026, 01:11 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 02:38 PM
Views: 58
Tokens: 4,194
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নামাজে কান্না ছাড়াও কদাচিৎ এক বা দুইটা হরফের উচ্চারণ জোরে হয়ে যায়। আজ ফরজ নামাজের মধ্যে দুনিয়াবি কারণে কান্না করলে চোখ দিয়ে পানি পড়া থেমে গেলেও বুকের চাপা কষ্ট থেকে শেষ বৈঠকে দুরুদ বা তাশাহুদ পড়ার সময় একটা হরফ উচু আওয়াজে উচ্চারণ হয়ে যায়। এতে কি আমার স্বলাত ভেঙে গেছে?

Answer

নামাজে কান্না ও ভুল উচ্চারণে স্বলাত ভঙ্গের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—ফরজ নামাজের মধ্যে দুনিয়াবি কারণে কান্না করলে (চোখের পানি না এলেও বুকের চাপা কষ্ট থেকে) শেষ বৈঠকে তাশাহুদ বা দুরুদ পড়ার সময় একটি হরফ উঁচু আওয়াজে উচ্চারণ হয়ে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে কি না।


উত্তর

প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে আপনার নামাজ ভেঙ্গে যায়নি। আপনার নামাজ শুদ্ধ হয়েছে।

১. নামাজে কান্নার বিধান

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নামাজে কান্না তিন অবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন বিধান বহন করে:

(ক) দুনিয়াবি কারণে কান্না: যদি কোনো পার্থিব দুঃখ-কষ্ট, বিপদ বা সমস্যার কারণে নামাজে কাঁদা হয় এবং তা এমন হয় যে আওয়াজ (শব্দ) বের হয় (যেমন—"হায়!", "উফ!" ইত্যাদি), তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ে কিন্তু কোনো আওয়াজ বা হরফের উচ্চারণ না হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।

(খ) জান্নাত-জাহান্নামের ভয় বা আল্লাহর মহব্বতে কান্না: এতে নামাজ ভঙ্গ হয় না, যদিও আওয়াজ বের হয়—তবে শর্ত হলো, তা কুরআন-হাদিসে বর্ণিত স্বাভাবিক কান্না হবে, কৃত্রিম বা জোর করে চিৎকার নয়।

(গ) ব্যথা বা অসুস্থতার কারণে কান্না: যদি ব্যথার তীব্রতায় "আহ্" বা "উফ্" জাতীয় শব্দ বের হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে।

দলিল:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا" (সূরা বনী ইসরাইল: ৭৮)

হাদিসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন:
"إِنَّ فِي الصَّلَاةِ لَشُغْلًا"
অর্থাৎ—"নিশ্চয়ই নামাজে (অন্য কাজ থেকে) ব্যস্ততা রয়েছে।"
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৩৮)

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর মত: নামাজে দুনিয়াবি কারণে কান্না করলে—যদি আওয়াজ বের হয়, নামাজ ভঙ্গ; আওয়াজ না বের হলে নামাজ ভঙ্গ নয়।
(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ১০২)


২. হরফের উচ্চারণ ভুল হওয়ার বিধান

নামাজে কিরাআত বা তাশাহুদ-দুরুদে হরফের উচ্চারণে ভুল হলে তা দুই প্রকার:

(ক) উচ্চারণের ভুল যাতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় (মুখরিজ বা সিফাতের মারাত্মক ভুল):
যেমন—"আলহামদু লিল্লাহি" এর পরিবর্তে "আলহামদু লিল্লাহে" বলা, বা "عبد" কে "عيد" পড়া ইত্যাদি। এতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়।

(খ) সামান্য ভুল যা অর্থ পরিবর্তন করে না বা উচ্চারণের স্বাভাবিক তারতম্য:
যেমন—একটি হরফ একটু উঁচু বা নিচু আওয়াজে পড়া, যেখানে অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না এবং শব্দটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এতে নামাজ ভঙ্গ হয় না।

দলিল:
"وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا" (সূরা মুযযাম্মিল: ৪)

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহঃ) বলেন:
"لَوْ أَخْطَأَ فِي الْحَرْفِ خَطَأً يُغَيِّرُ الْمَعْنَى تَفْسُدُ صَلَاتُهُ، وَإِنْ لَمْ يُغَيِّرْ لَا تَفْسُدُ"
অর্থাৎ—"যদি হরফে এমন ভুল হয় যা অর্থ পরিবর্তন করে, নামাজ ফাসিদ হবে; আর যদি অর্থ পরিবর্তন না করে, নামাজ ফাসিদ হবে না।"
(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৬২৬)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.