স্বামী নফকা না দিলে স্ত্রীর বাইরে চাকরি করার বিধান এবং রাগের কথায় তালাক হয় কি না?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6432
Questioner: Ikra
Question Asked: 05 Oct 2026, 05:52 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 06:38 PM
Views: 39
Tokens: 8,873
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
আগে একটু ভুল হয়েছিল প্রশ্ন লিখতে
আমার হাসবেন্ড বাসায় সব সময় ব্যাগ ভরে বাজার করে আমি কখনো উনার কাছে দামি গহনা জামা কাপড় চাই না উনার সামথ্য থাকা সত্ত্বেও। যদি আমার নিত্য প্রয়োজনী কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে উনি সাথে সাথে এনে দেন না।আমাকে ১ টাকাও হাত খরচ দেন না।আলহামদুলিল্লাহ আমার হাসবেন্ড ভালো সেলারিতে জব করেন।উনার পরিবারের প্রয়োজনে উনার টাকা আছে আমি কিছু চাইলে ঝগড়া করে বলেন তোমাকে খাওয়াচ্ছি এতে শুকরিয়া আদায় করো।সোজা কথা উনি মনে করেন আমাকে খাওয়ানো এটাই উনার দায়িত্ব বাড়তি আমার পেছনে ১০ ইউরোও উনি খরচ করবেন না।উনার কাছে টাকা থাকা পরও কোথায় ঘুরতে নিয়ে যান না বলেন টাকা নেই দেশে উনি ঠিকই মাসে মাসে দেশে টাকা পাঠান।আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে দেশের বাইরে থাকি যেহেতু ইউরোপে নগদ টাকার লেনদেন কম তাই আমার হাসবেন্ডের সামনে উনার প্যকেট থেকে ১/২ ইউরো করে আমি টাকা জমাই উনি আমার জমানো টাকা নেন আর দেন না।প্রশ্ন ১।এমন অবস্থায় শরিয়ার নিয়ম মেনে বাইরে যদি আমি জব করি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?

দুই দিন আগে আমার হাসবেন্ড কে বললাম আমাকে নিয়ে একটা জায়গায় ঘুরতে উনি বললেন আমার কাছে ট্রেন ভাড়া নেই আমি বললাম ১০ ইউরো কি আপনার কাছে নেই আমার কাছ থেকে তো টাকা নিলা আপনি ভালো স্যালারিতে জব করে আমার জন্য ১০ ইউরো খরচ করতে আপনি হিসাব করেন উনি রেগে বললেন তুই যদি আমার সাথে এইভাবে ঝগড়া করলে আমি বাসা থেকে চলে যাব তোকে পেলে , তুই তোর মতো খাইবে নে, তোর বাবদ তোর আল্লাহ আছেন। প্রশ্ন ২।আমার হাসবেন্ড যে বললেন তুই আমার সাথে এইভাবে ঝগড়া করলে আমি বাসা থেকে চলে যাব তোকে পেলে, তুই তোর মত খাইবে নে, তোর বাবদ তোর আল্লাহ আছেন এই কথা বলায় কি তা***হয়েছে???এবং আর এই বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে কি শর্তযুক্ত তা*** হবে??

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উত্তর দিচ্ছি।


প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ইসলামী শরীয়তে স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ (নফকা) প্রদান করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "সন্তানের পিতার উপর তাদের মায়ের খাবার ও পোশাকের দায়িত্ব রয়েছে ন্যায়সংগতভাবে।" (সূরা বাকারা: ২৩৩)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ "সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে।" (সূরা তালাক: ৭)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমাদের উপর তাদের (স্ত্রীদের) খাবার ও পোশাকের অধিকার রয়েছে ন্যায়সংগতভাবে।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেন:

"স্বামীর উপর স্ত্রীর নফকা (খাবার, পোশাক, বাসস্থান) ওয়াজিব। এমনকি স্ত্রী ধনী হলেও।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৫৭২)


প্রশ্ন ১: এমন অবস্থায় শরিয়ার নিয়ম মেনে বাইরে জব করলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর:

মূলনীতি:

ইসলামী শরীয়তে স্ত্রীর জন্য বাইরে চাকরি করা অনুমোদিত (জায়েজ) , তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে:

  1. স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে — কারণ স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর উপর ওয়াজিব (যতক্ষণ না তা গুনাহের কাজ হয়)।
  2. পর্দা ও শরীয়তের সীমা রক্ষা করতে হবে — পূর্ণ হিজাব, মাহরাম-গায়র মাহরামের বিধান মেনে চলা।
  3. ঘরের দায়িত্ব ও সন্তান-সন্ততির হক নষ্ট না হওয়া।
  4. নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটানো।

আপনার ক্ষেত্রে:

আপনার স্বামী নফকা (ভরণপোষণ) পূর্ণভাবে আদায় করছেন না — তিনি আপনাকে হাত খরচ দেন না, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দেন না, বিনোদন তো দূরের কথা। অথচ তিনি ভালো বেতনে চাকরি করেন এবং নিজের পরিবারে টাকা পাঠান।

এমতাবস্থায়:

  • যদি আপনার স্বামী আপনাকে নফকা থেকে বঞ্চিত রাখেন এবং আপনি অভাব-কষ্টে পড়েন, তাহলে শরীয়তের সীমা রক্ষা করে বাইরে চাকরি করা আপনার জন্য জায়েজ।
  • তবে স্বামীর অনুমতি নেওয়া উত্তম। যদি তিনি অনুমতি না দেন, তাহলে আপনি ইসলামী আদালত বা শরীয়তের বিচারকের (কাজী) কাছে অভিযোগ করতে পারেন।
  • গুনাহ হবে না, বরং আপনার স্বামী নফকা না দেওয়ার কারণে তিনি গুনাহগার হবেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে:

"স্বামী যদি নফকা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে কাজী (বিচারক) তাকে বাধ্য করবেন। যদি সে না দেয়, তাহলে কাজী তার সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর নফকা আদায় করবেন।" (আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃ. ৩৫০)

ফাতাওয়া উসমানি তে উল্লেখ আছে:

"স্ত্রী যদি স্বামীর নফকা না পাওয়ার কারণে কষ্টে থাকে, তাহলে শরীয়তের সীমা রক্ষা করে চাকরি করা তার জন্য জায়েজ।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩৮৫)

তবে সতর্কতা:

  • আপনি স্বামীর সম্পত্তি বা টাকা চুরি করে বা তার অগোচরে নিয়ে জমানো টাকা — এটা আমানতের খিয়ানত। আপনার স্বামীর পকেট থেকে টাকা নেওয়া তার অনুমতি ছাড়া জায়েজ নয়।
  • আপনি বলেছেন: "আমার হাসবেন্ডের সামনে উনার প্যকেট থেকে ১/২ ইউরো করে আমি টাকা জমাই" — এটা তার সামনেই করছেন, তাই তিনি জানেন। কিন্তু তিনি সেই টাকা নেন এবং ফেরত দেন না — এটা তার পক্ষ থেকে জুলুম।

পরামর্শ: আপনি যদি চাকরি করেন, তাহলে আপনার উপার্জন আপনার নিজের (ইসলামী শরীয়তে স্ত্রীর উপার্জন তার নিজের)। আপনি তা নিজের প্রয়োজন ও সন্তানদের জন্য খরচ করতে পারবেন। তবে স্বামীর সাথে সদাচরণ ও পরামর্শ করে চলা উত্তম।


প্রশ্ন ২: স্বামীর কথায় কি তালাক (তা***) হয়েছে? এবং ঝগড়া হলে কি শর্তযুক্ত তালাক হবে?

উত্তর: না,তালাক হবেনা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.