কর্মজীবী নারীর পর্দার বিধান

Business and Job · Hanafi

Question No: 56
Questioner: Tamanna Binte Tofazzel
Question Asked: 13 May 2026, 04:38 PM
Reviewed & Published: 13 May 2026, 04:52 PM
Views: 109
Tokens: 3,100
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক বোন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে/প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে কর্মরত আছে। সেখানে কাজের প্রয়োজনে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে হয় বা মিটিং করতে হয়। শরীয়তের সীমারেখা বজায় রেখে সে কীভাবে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং এক্ষেত্রে পর্দার নূন্যতম ও উত্তম বিধানগুলো কী কী?

Answer

উত্তর:

প্রশ্নকারী বোনের জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় শরীয়তের সীমারেখা ও পর্দার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ককে সম্পূর্ণ পবিত্র ও শালীন রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ জায়েজ, তবে তা নিম্নলিখিত শর্তাবলী মেনে করতে হবে:

পর্দার ন্যূনতম বিধান (Farz/Avoidance):

  1. পোশাক: শরীরের গঠন প্রকাশ করে না এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। চেহারা ও হাতের তালু ছাড়া অন্যান্য অংশ ঢেকে রাখা ফরজ। (সূরা নূর: ৩১)
  2. দৃষ্টি নিচু রাখা: অপ্রয়োজনে পুরুষ সহকর্মীদের দিকে তাকানো যাবে না। (সূরা নূর: ৩০)
  3. কথার ধরন: স্বাভাবিক ও পেশাগত সুরে কথা বলতে হবে। কোনোরূপ আকর্ষণীয় বা নরম কণ্ঠে কথা বলা যাবে না। (সূরা আহযাব: ৩২)
  4. একান্তে দেখা: কোনো অবস্থাতেই পুরুষ সহকর্মীর সাথে একান্তে (প্রাইভেট রুম) দেখা বা মিটিং করা যাবে না। (তিরমিজি: ১১৭১)
  5. স্পর্শ: কাজের প্রয়োজনে হ্যান্ডশেক বা দৈহিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে হবে। (মুয়াত্তা মালিক: ১৮৫৫)

উত্তম বিধান (Mustahab/Superior):

  1. লিখিত মাধ্যম: সরাসরি কথার চেয়ে ইমেইল, ম্যাসেঞ্জার, বা লিখিত যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
  2. গ্রুপ মিটিং: একান্তে মিটিং না করে অন্য নারী সহকর্মী বা উন্মুক্ত পরিবেশে মিটিং করা।
  3. হিজাব পূর্ণ করা: চেহারা ও হাতের তালুও আবৃত রাখা (যেহেতু এটি ফিতনা থেকে দূরে রাখে)।
  4. সময় সীমিত: অপ্রয়োজনে কথাবার্তা বা দেরি না করে শুধু কাজের প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলা।
  5. নিয়ত সংশোধন: পেশাগত দায়িত্ব পালনকে আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যম হিসেবে নিয়ত করা।

কুরআন ও হাদিসের দলিল:

  • সূরা নূর (২৪:৩১): "বলুন মুমিন নারীদের তারা যেন তাদের দৃষ্টি নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে..."
  • সূরা আহযাব (৩৩:৫৩): "যখন তোমরা তাদের (নবীপত্নীদের) কাছে কিছু চাইবে, পর্দার আড়ালে চাইবে..."
  • আবু দাউদ (৪০১৯): ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "যখন হিজাবের আয়াত নাযিল হলো, তখন নারী-পুরুষ একসাথে বের হতো না।"

ফিকাহি হানাফি গ্রন্থের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৬/৩৬০): "নারী-পুরুষের সাথে সীমাহীন মেলামেশা হারাম, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লেনদেন জায়েজ।"
  • ফাতাওয়া আলমগিরি (৫/৩২৪): "কর্মক্ষেত্রে নারী যদি পুরুষের সাথে কথা বলে, তাহলে তাকে অবশ্যই হিজাব ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২২৩): "মর্দ-আরতের মেলামেশা স্পষ্টভাবে হারাম, তবে কাজের প্রয়োজনে কঠোর শর্তে অনুমতি আছে।"

আধুনিক প্রয়োগ:

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজের প্রয়োজনে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কথা বলা জায়েজ, যদি:

  • পর্দার বিধান পুরোপুরি পালন হয়।
  • কোনো প্রকার অবাধ মেলামেশা বা ফূর্তিবাজির উদ্দেশ্য না থাকে।
  • কর্তৃপক্ষকে বোঝানো যায় যে, ইসলামী শালীনতা রক্ষা করাই তার পছন্দ।

সতর্কতা:

  • ফেতনার ভয়: যদি কর্মক্ষেত্রে পর্দা রক্ষা করা কঠিন হয়, তবে হালাল রিজিকের জন্য অন্য চাকরি খোঁজা উচিত। (মুসলিম: ১০০২)
  • নিয়মিত তওবা: দুর্বলতার কারণে যদি কোনো সীমা লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।

সর্বশেষ পরামর্শ:

সবকিছু আল্লাহর রেজামন্দির জন্যই করুন। আপনার দায়িত্বশীল পদটি যদি দ্বীন রক্ষায় সহায়ক হয়, তাহলে তা সুসংবাদ। আর যদি মনে করেন তা দ্বীনদারিতে বাধা সৃষ্টি করছে, তাহলে অন্য পেশার কথা ভাবুন। আল্লাহ তাআলা সহায়তা করেন তাদেরকে যারা তাঁর পথে চেষ্টা করে। (সূরা আনকাবুত: ৬৯)

উত্তম কাজ: উপরোক্ত শর্ত মেনে কাজকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করুন এবং প্রতিদিন সূরা নূর ও আহযাবের আয়াতগুলোর তাফসির পড়ুন। (মাআরিফুল কুরআন, সূরা নূরের তাফসির)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পর্দা ও শালীনতার পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.