ওয়াশরুমের পর প্রস্রাবের ফোঁটা স্বাভাবিক কি

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 6402
Questioner: Shadek Hossain
Question Asked: 05 Oct 2026, 07:05 AM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 07:19 AM
Views: 32
Tokens: 3,525
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ওয়াশরুমে গেছিলাম,তো বাথরুম শেষ করে আমি পড়তে বসার পর মনে হলো কি এক ফোটা প্রসাব পড়ে গেছে,,এখন এটা কি স্বাভাবিক,,ওয়াসরুমের পর কি এমনটা হয়?
আরো একবার এমন হইছিলো তখন চেক করার পর কিছু দেখতে পাই নি,,
এখন কি করনীয়,,নরমালি যখন প্রসাব করে বের হই তখন ১ ফোটা পড়তে পারে,,কিন্তু আমি তো মলত্যাগ করেছি

Answer

উত্তর

১. প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এটি ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা)

আপনার বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এটি ওয়াসওয়াসা-এর সমস্যা। কারণ:

  • আপনি নিজেই বলছেন "মনে হলো" — অর্থাৎ নিশ্চিত নন।
  • আরেকবার এমন হয়েছিল, চেক করে কিছু পাননি।
  • আপনি নিজেই স্বীকার করছেন এটি সম্ভবত মনের ভ্রম।

শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো:

"আল-ইয়াকীন লা ইয়াযুলু বিস-শাক্ক" — নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা বাতিল হয় না।

অর্থাৎ, পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলে পরবর্তী সন্দেহ-সংশয়ের কোনো মূল্য নেই।


২. মলত্যাগের পর প্রস্রাবের ফোঁটা পড়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত। এর কারণ:

  • মলত্যাগের সময় মলাশয়ের চাপে মূত্রথলির নিচের অংশে (urethra) অবশিষ্ট প্রস্রাব বেরিয়ে আসতে পারে।
  • মলত্যাগের সময় পেলভিক মাসল শিথিল হয়, ফলে মূত্রনালিতে আটকে থাকা এক-দুই ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে পড়তে পারে।
  • বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে মলত্যাগের পর post-micturition dribble (প্রস্রাবের পর ফোঁটা পড়া) একটি পরিচিত শারীরিক ঘটনা।

সুতরাং, মলত্যাগের পর এক ফোঁটা প্রস্রাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।


৩. শরীয়তের বিধান

(ক) যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে নাপাকি বের হয়েছে:

  • বাহ্যিক অঙ্গে (লজ্জাস্থান বা কাপড়ে) নাপাকি লেগে থাকলে শুধু সেই অংশ ধুয়ে ফেললেই পবিত্র হয়ে যাবে।
  • অজু ভেঙে যাবে — নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে।
  • কাপড়ে নাপাকি লেগে থাকলে সেই কাপড় ধুতে হবে।

(খ) যদি শুধু সন্দেহ হয় (নিশ্চিত নয়):

  • কিছুই করতে হবে না। অজু ভাঙবে না, কাপড় নাপাক হবে না।
  • কারণ নিশ্চিত পবিত্রতার উপর সন্দেহ প্রভাব ফেলে না।

দলিল:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল যে, সে নামাজে থাকা অবস্থায় এমন কিছু অনুভব করে (বাতাস বের হওয়ার সন্দেহ)। তিনি বললেন:
"তোমরা শব্দ শুনবে না বা গন্ধ পাবে না, যতক্ষণ না (নিশ্চিতভাবে) তা হয়।"
— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৬১

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ লিখেছেন:

"শক (সন্দেহ) দ্বারা ইয়াকীন (নিশ্চয়তা) বাতিল হয় না। অতএব, যে ব্যক্তি পবিত্র ছিল, তার সন্দেহ হলে সে পবিত্রই থাকবে।"
— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৫


৪. আপনার করণীয়

| অবস্থা | করণীয় | |--------|--------| | চেক করে কিছু পাননি | কিছুই করতে হবে না। অজু ভাঙেনি, কাপড় পাক। | | নিশ্চিতভাবে ফোঁটা দেখেছেন | শুধু সেই অংশ ধুয়ে ফেলুন + অজু করুন। | | শুধু মনে হচ্ছে, নিশ্চিত নন | কিছুই করতে হবে না। এটা ওয়াসওয়াসা। |

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক ফিকহি সমাধান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.