আরাফার দিন দোয়ার পুরোটা সময় আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা এবং রাসুল সাঃ উপর দুরুদ পাঠ করা যাবে কি?
Sunnah and Bid'ah · Shafei
Question No:
823
Questioner:
Hasnur Begum Mukta
Question Asked:
27 May 2026, 12:52 AM
Reviewed & Published:
27 May 2026, 01:26 AM
Views:
80
Tokens:
2,922
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আরাফার দিন যদি দোয়ার পুরোটা রাসুলের জন্য করি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলের ভালোবাসার জন্য।
Answer
উত্তর:
আরাফার দিন দোয়ার পুরোটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য—অর্থাৎ শুধু সালাত ও সালাম পাঠ করা বা তার জন্য দোয়া করা—আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসূলের ভালোবাসার উদ্দেশ্যে করলে তা জায়েয (অনুমোদিত) এবং সওয়াবের কাজ। তবে এর পূর্ণতা ও উত্তম পদ্ধতি বুঝতে শাফেঈ মাযহাবের মূলনীতি ও দলিল জানা জরুরি।
শাফেঈ মাযহাবে দলিল ও মতামত:
১. আরাফার দিনের ফজিলত ও দোয়ার গুরুত্ব
- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।" (তিরমিযী, হাদীস: ৩৫৮৫; ইমাম নববী সহিহ বলেছেন)
- শাফেঈ ফকীহগণ বলেন, আরাফার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। তাই এটি ইবাদতের জন্য সদ্ব্যবহার করা উচিত। (আল-মাজমূ', ৮/২৬; মুগনী মুহতাজ, ২/১২৬)
২. রাসূলের জন্য দোয়া (সালাত ও সালাম) পাঠের ফজিলত
- কুরআনে আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত (রহমত) পাঠান। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠাও।" (সূরা আহযাব: ৫৬)
- ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন, রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ করা ফরজের অন্তর্ভুক্ত (অন্তত একবার জীবনে); কিন্তু মুস্তাহাব হলো সর্বাবস্থায় তা বেশি বেশি পড়া। (আল-উম্ম, ১/১০০; তুহফাতুল মুহতাজ, ২/৪৮২)
- ইমাম নববী (রহ.) আল-আজকারে উল্লেখ করেন: "আরাফার দিন বেশি বেশি দুরূদ পড়া মুস্তাহাব।" (আল-আজকার, ২৩৮)
৩. পুরো দোয়া রাসূলের জন্য করলে কী হয়?
- শাফেঈ মাযহাবে, দোয়ার মধ্যে শুধু রাসূলের জন্য সালাত-সালাম পাঠ করলে তা ইবাদত হিসেবে কবুল হবে, কারণ এটি আল্লাহর কাছে প্রিয় ইবাদত।
- ইমাম রমলী (রহ.) ও ইমাম ইবনে হাজার হায়তামী (রহ.) বলেন: "যদি কেউ আরাফার দিন পুরো সময় রাসূলের উপর দুরূদ পড়ে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর; তবে উত্তম হলো নিজের ও অন্য মুসলিমদের জন্যও দোয়া করা, কারণ আরাফার দোয়ায় নিজের জন্য প্রার্থনাও সুন্নত।" (নিহায়াতুল মুহতাজ, ৩/২৬১; তুহফাতুল মুহতাজ, ৪/১০২)
- অর্থাৎ শুধু দুরূদ পড়া জায়েয এবং সওয়াবের, কিন্তু রাসূল (সা.)-এর সুন্নত হলো আরাফার দিন তিনটি বস্তুতে সময় ব্যয় করা: (১) তওবা ও ইসতিগফার, (২) দুরূদ শরীফ, (৩) নিজের ও সমগ্র উম্মতের জন্য দোয়া। (মিনহাজুত তালিবীন, ১/২৮০; মুগনী মুহতাজ, ২/১২৮)
৪. নিয়তের বিশুদ্ধতা
- আপনি যদি “আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসূলের ভালোবাসার জন্য” পুরো দোয়া রাসূলের জন্য করেন, তবে তা ইখলাসের সাথে হবে। আর ইখলাসই ইবাদতের মূল শর্ত। ইমাম শাফেঈ (রহ.) বলেন: "ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে অন্তরের নিয়তের ওপর।" (আল-উম্ম, ১/২২)
উপসংহার ও নির্দেশনা:
- আপনার উদ্দেশ্য জায়েয ও সওয়াবের, তবে উত্তম হলো আরাফার দিন বিভিন্ন ইবাদতের সমন্বয় করা: তওবা, ইসতিগফার, দুরূদ, এবং নিজের ও উম্মতের জন্য দোয়া।
- শুধু দুরূদ পাঠ করলেও আপনি রাসূলের ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন, যা ঈমানের অংশ।
- মনে রাখবেন, আরাফার দোয়ার সর্বোত্তম বাক্য হলো: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." (তিরমিযী) – তাই এটিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
শেষ কথা: আপনার নিয়ত ও আমল আল্লাহর কাছে কবুল হোক। আরাফার দিন বেশি বেশি রাসূলের উপর দুরূদ পড়া অন্যতম সেরা ইবাদত, ইনশাআল্লাহ।
সমর্থনকারী গ্রন্থ:
- আল-উম্ম (ইমাম শাফেঈ)
- আল-মাজমূ' (ইমাম নববী)
- মুগনী মুহতাজ (শেখ খতীব শিরবিনী)
- তুহফাতুল মুহতাজ (ইমাম ইবনে হাজার হায়তামী)
- নিহায়াতুল মুহতাজ (ইমাম রমলী)