নেফাসের রক্ত ৫দিন পর বন্ধ হয়ে গেলে করণীয় কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4936
Questioner: Fariha Rejoana
Question Asked: 04 Sep 2026, 10:35 AM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 11:17 AM
Views: 48
Tokens: 2,196
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ২য় বাবু হয়েছে ৬ অগাস্ট, আজকে ৩০ তম দিন চলছে, ১ম বেবীর সময় ৩৬ তম দিন থেকে আমি নামাজ শুরু করি এখন আমি আপাতত কিছু দেখছি না তাহলে কততম দিন থেকে নামাজ শুরু করবো?

Answer

পবিত্রতা ও নামাজ শুরু করার বিধান

উত্তর: আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—ইসলামি শরিয়তে সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত আসে তাকে নিফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) বলা হয়। নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন (ইমাম আবু হানিফার মতে)।

নিফাসের বিধান:

১. নিফাসের সর্বনিম্ন সময়: কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম সময় নেই। সন্তান প্রসবের পর যতক্ষণ রক্ত আসে, ততক্ষণ নিফাস চলতে থাকে।

২. নিফাসের সর্বোচ্চ সময়: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে ৪০ দিন। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে ৪০ দিনের অধিক হলে তা ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত স্রাব) হিসেবে গণ্য হবে।

৩. ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হলে: যদি ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গোসল করে নামাজ শুরু করতে হবে। রক্ত আবার আসলে তা ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে (যদি ৪০ দিনের মধ্যে হয়)।

আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান:

আপনি উল্লেখ করেছেন যে:

  • ২য় সন্তান হয়েছে ৬ আগস্ট
  • আজ ৩০তম দিন চলছে
  • বর্তমানে কিছু দেখছেন না (রক্ত বন্ধ)

সুতরাং, যেহেতু আপনি এখন রক্ত দেখছেন না, তাই এখনই গোসল করে নামাজ শুরু করা আপনার জন্য আবশ্যক। ৩৬তম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কারণ, নিফাসের রক্ত বন্ধ হওয়ামাত্রই পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং নামাজ শুরু করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, নিফাস বা হায়েজের রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে নামাজ পড়তে হবে। হাদিসে এসেছে:

عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا تَطَهَّرَتْ إِحْدَانَا مِنْ نِفَاسِهَا أَتَصَلِّي؟ قَالَ: نَعَمْ، فَلْتَتَطَهَّرْ وَلْتُصَلِّ

"আসমা বিনতে উমাইস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ নিফাস থেকে পবিত্র হলে সে কি নামাজ পড়বে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে যেন পবিত্র হয় এবং নামাজ পড়ে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪০; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৬৪৯)

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

১. ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হলে — গোসল করে নামাজ শুরু করুন। পরবর্তীতে আবার রক্ত এলে তা ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত স্রাব) হিসেবে গণ্য হবে, যা নামাজ থেকে বিরত থাকার কারণ নয়। তবে হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে আবার আসলে সেটি নিফাস হিসেবেই গণ্য হবে যদি তা একই নিফাসের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু বর্তমানে আপনি রক্ত বন্ধ থাকায় নামাজ শুরু করবেন।

২. ৪০ দিনের বেশি রক্ত চলতে থাকলে — ৪০ দিন পূর্ণ হলে গোসল করে নামাজ শুরু করতে হবে। এরপর যে রক্ত আসবে তা ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

৩. প্রথম সন্তানের সময় ৩৬তম দিন থেকে নামাজ শুরু করেছিলেন — এটি সম্ভবত তখনকার পরিস্থিতিতে রক্ত ৩৬ দিনে বন্ধ হওয়ার কারণে হয়ে থাকতে পারে, অথবা কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শে। তবে মূল নীতি হলো: রক্ত বন্ধ হলেই নামাজ শুরু করতে হবে, নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

যেহেতু আপনি এখন (৩০তম দিনে) রক্ত দেখছেন না, তাই এখনই গোসল করে পবিত্র হয়ে নামাজ শুরু করুন। ৩৬তম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.