রোজার কাফফারা কি সদকা দিলে হবে?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 4984
Questioner: Blue
Question Asked: 05 Sep 2026, 07:40 AM
Reviewed & Published: 05 Sep 2026, 07:53 AM
Views: 42
Tokens: 3,858
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফরজ রোজার কাফফারা হিসেবে আমি যদি শারিরিকভাবে শক্তি সামর্থ হই, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখতে হবে। মাঝখানে রোযা ভাঙ্গা যাবে না। যদি মাঝখানে রোযা ভেঙ্গে ফেলি তাহলে আবার প্রথম থেকে ৬০ দিন গণনা করতে হবে। এভাবে ষাট দিন রোযা রাখলে আমার রোযা ভঙ্গের কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

কিন্তু শারীরিকভাবে সমর্থ পরও আমি কি ৬০ টা রোজা না রেখে শুধু সদকা করে দিলে চলবে?

Answer

ফরজ রোজার কাফফারা: সদকা দেওয়ার বিধান

প্রশ্নের উত্তর:

না, শারীরিকভাবে সক্ষম অবস্থায় আপনি কাফফারা হিসেবে ৬০টি রোজা না রেখে শুধু সদকা দিলে চলবে না। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তিনটি বিকল্প রয়েছে:

১. একজন দাস/ক্রীতদাস মুক্ত করা (বর্তমানে প্রযোজ্য নয়) ২. লাগাতার ৬০টি রোজা রাখা (যদি দাস মুক্ত করতে সক্ষম না হন) ৩. ৬০ জন মিসকিনকে খাদ্য দান করা (যদি রোজা রাখতে অক্ষম হন)

কুরআন ও হাদিসের দলিল

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অনর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না; কিন্তু যে শপথ তোমরা দৃঢ়ভাবে করেছ, তার জন্য পাকড়াও করবেন। তার কাফফারা হলো—তোমাদের পরিবার-পরিজনকে যে মধ্যমমানের খাবার দাও, তা দশজন মিসকিনকে খাওয়ানো অথবা তাদেরকে বস্ত্রদান করা অথবা একজন দাস মুক্ত করা। আর যে সামর্থ্য রাখে না, তবে তিন দিন রোজা রাখা।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯)

রোজা ভঙ্গের কাফফারা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে:

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রমজানে স্ত্রী সহবাস করে ফেললে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছিলেন:

أَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ لَا أَجِدُهَا قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لَا أَسْتَطِيعُ قَالَ فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا "একটি দাস মুক্ত করো। সে বলল, আমি পাচ্ছি না। তিনি বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোজা রাখো। সে বলল, আমি সক্ষম নই। তিনি বললেন, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াও।" (সহিহ বুখারি: ১৯৩৬, সহিহ মুসলিম: ১১১১)

হানাফি ফিকহের বিধান

রদ্দুল মুহতার (শামি) গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

(وَكَفَّارَةُ الظِّهَارِ وَالْيَمِينِ وَالْجِمَاعِ فِي رَمَضَانَ) أَيْ وَكَذَا الْإِفْطَارُ بِغَيْرِ الْجِمَاعِ عَلَى الْمُعْتَمَدِ (عَلَى التَّرْتِيبِ) عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ - رَحِمَهُمَا اللَّهُ - فَلَا يَنْتَقِلُ إلَى الْإِطْعَامِ إلَّا عِنْدَ الْعَجْزِ عَنْ الصَّوْمِ "যিহার, শপথ এবং রমজানে সহবাসের কাফফারা (এবং অন্যান্য কারণে রোজা ভঙ্গের কাফফারাও) ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে হবে—ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদের মতে। সুতরাং রোজা রাখতে অক্ষম না হলে খাদ্য দানে যাওয়া যাবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৭৫)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) তে বলা হয়েছে:

وَلَوْ كَانَ قَادِرًا عَلَى الصَّوْمِ لَا يَجُوزُ لَهُ الْإِطْعَامُ "যদি কেউ রোজা রাখতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য খাদ্য দান করা জায়েয নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২০৯)

গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

১. রোজা ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে লাগাতার ৬০টি রোজা রাখা ফরজ। ২. মাঝখানে কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভঙ্গ করলে প্রথম থেকে পুনরায় ৬০ দিন গণনা করতে হবে। ৩. শুধুমাত্র এমন ওজরের কারণে রোজা ভঙ্গ করলে (যেমন: হায়েজ/নিফাস, সফর, অসুস্থতা) পূর্বের রোজাগুলো গণনা হবে এবং পরবর্তীতে বাকি দিনগুলো পূরণ করলেই হবে। ৪. শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি সদকা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে পারবেন না। সদকার বিকল্প তখনই প্রযোজ্য যখন কেউ রোজা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম হন (যেমন: বার্ধক্য বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা)।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনি শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ৬০টি রোজা না রেখে শুধু সদকা দিলে কাফফারা আদায় হবে না। আপনাকে অবশ্যই লাগাতার ৬০টি রোজা রাখতে হবে। যদি কোনো বৈধ ওজরে (যেমন: অসুস্থতা, সফর) মাঝখানে রোজা ভঙ্গ হয়, তবে সেক্ষেত্রে নতুন করে ৬০ দিন শুরু করতে হবে না; বরং বাকি দিনগুলো পূরণ করলেই হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভঙ্গ করলে প্রথম থেকে পুনরায় ৬০ দিন গণনা করতে হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.