কন্ঠের পর্দার খেলাফ হবে এ জন্য অন্য বাসায় যাওয়ার বিধান

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4939
Questioner: Sumaiya Siddika
Question Asked: 04 Sep 2026, 11:40 AM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 12:56 PM
Views: 43
Tokens: 2,783
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন্ঠের পোর্দার খেলাফ হতে পারে যদি আমার খালামনির বাশায় জাই,, কিন্তু না গেলে খালামনি মন খারাপ করবে এখন কি জাওয়া যাবে সেখা নে

Answer

খালামনির বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলামি নির্দেশনা

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনি জানতে চাচ্ছেন যে, আপনার খালামনির বাসায় গেলে কোন্ঠের পর্দার (গলার পর্দা/আওরাত) খেলাফ হতে পারে, কিন্তু না গেলে খালামনি মন খারাপ করবেন। এ পরিস্থিতিতে যাওয়া যাবে কি না।

ইসলামি নির্দেশনা

১. পর্দার বিধান

ইসলামে পর্দার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ "মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।" (সূরা আন-নূর: ৩০)

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

২. মাহরাম সম্পর্ক

ইসলামি আইনে, আপনার খালার স্বামী (খালু) আপনার জন্য মাহরাম নন। তবে আপনার খালামনি নিজে আপনার মাহরাম — কারণ তিনি আপনার মায়ের বোন। কিন্তু তার বাসায় অন্যান্য পুরুষ (খালুর ভাই, ছেলে ইত্যাদি) থাকতে পারেন যারা আপনার জন্য মাহরাম নন।

৩. ফাতাওয়া ও আলেমদের মতামত

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন:

النظر إلى الأجنبية حرام سواء كان بشهوة أو بغير شهوة "অপরিচিত (নন-মাহরাম) নারীর দিকে তাকানো হারাম — চাই তা কামনার সাথে হোক বা কামনা ছাড়া।" (রদ্দুল মুহতার, ৯/৩৩০)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তাঁর মা'আরিফুল কুরআন-এ বলেন: পর্দার বিধান শুধু মসজিদ বা নির্দিষ্ট স্থানের জন্য নয়, বরং এটি সর্বদা ও সর্বস্থানে পালনীয়। (মা'আরিফুল কুরআন, সূরা নূরের তাফসির)

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: পর্দার খেলাফ এমন স্থানে যাওয়া জায়েয নয়, যেখানে পর্দা রক্ষা করা সম্ভব নয়। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু হারাম কাজের মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করা যাবে না।

৪. সমাধান ও পরামর্শ

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সমাধান হলো:

১. যদি খালামনির বাসায় গিয়ে পর্দা রক্ষা করা সম্ভব হয় (যেমন: খালামনি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ না থাকে, অথবা আপনি পর্দার সাথে অবস্থান করতে পারেন), তাহলে যাওয়া যেতে পারে।

২. যদি পর্দা রক্ষা করা সম্ভব না হয় (যেমন: খালু, খালার ছেলে বা অন্য পুরুষ থাকে), তাহলে সেখানে যাওয়া জায়েয হবে না। কারণ পর্দা রক্ষা করা ফরজ, আর আত্মীয়ের মন রক্ষা করা নফল। ফরজ বিধান লঙ্ঘন করে নফল কাজ করা যাবে না।

৩. ভদ্রভাবে অস্বীকৃতি জানান: খালামনিকে ভদ্রভাবে বোঝান যে, পর্দার কারণে আপনি আসতে পারছেন না। প্রয়োজনে ফোনে কথা বলুন বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন।

৪. বিকল্প ব্যবস্থা: খালামনিকে আপনার বাসায় দাওয়াত দিন (যদি সেখানে পর্দার ব্যবস্থা থাকে) অথবা এমন স্থানে দেখা করুন যেখানে পর্দা রক্ষা করা সম্ভব।

৫. গুরুত্বপূর্ণ নীতি

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ "সৃষ্টিকর্তার নাফরমানির ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং: ১০৯৮)

إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ "আনুগত্য কেবল ভালো কাজের ক্ষেত্রেই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৭১৪৫)

সারসংক্ষেপ

  • পর্দা রক্ষা করা ফরজ — এটি কোনো অবস্থাতেই লঙ্ঘন করা যাবে না।
  • খালামনির মন খারাপ হওয়ার ভয়ে পর্দার খেলাফ করা যাবে না।
  • পর্দা রক্ষা করে খালামনির বাসায় যাওয়া সম্ভব হলে যেতে পারেন।
  • সম্ভব না হলে ভদ্রভাবে অস্বীকৃতি জানান এবং বিকল্প ব্যবস্থা করুন।
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা হতে হবে শরিয়তের সীমার মধ্যে।
  • ফিতনার আশংকা না থাকলে পর্দার আড়াল থেকে নিকট আত্মীয় গায়রে মাহরামের সাথে জরুরী কথা বলা জায়েজ। ফিতনার আশংকা থাকলে বলা যাবে না। সে হিসাবে ফিতনার আশংকা না থাকলে আপনি আপনার খালার বাসায় যেতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.