বিড়াল

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7424
Questioner: rumi kulsum
Question Asked: 27 Oct 2026, 02:00 AM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 03:13 AM
Views: 21
Tokens: 3,532
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিড়াল কি পবিত্র প্রাণী?

Answer

বিড়াল কি পবিত্র প্রাণী?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

হ্যাঁ, বিড়াল শরী'আতের দৃষ্টিতে একটি পবিত্র প্রাণী। বিড়াল মানুষের ঘরে ও আশপাশে সর্বদা চলাফেরা করে (তওয়াফীন ওয়া তওয়াফাত), তাই জ্যান্ত অবস্থায় বিড়ালের শরীর, পশম ও লালা পবিত্র।

হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবসমূহ থেকে বিড়াল সংক্রান্ত বিভিন্ন ফিকহী মাসআলা ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. বিড়ালের উচ্ছিষ্ট (এঁটো পানি বা খাবার)-এর হুকুম:

  • পবিত্র কিন্তু মাকরূহ: বিড়াল যদি কোনো পাত্রের অল্প পানিতে বা খাবারে মুখ দেয় এবং তার মুখে কোনো বাহ্যিক নাপাকী না থাকে, তবে সেই পানি বা খাদ্য নাপাক হয় না; বরং তা পবিত্র থাকে।
  • তবে সাধারণ অবস্থায় অন্য ভালো পানি থাকা সত্ত্বেও বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে অযু-গোসল করা বা তা পান করা মাকরূহে তানযীহী (অপছন্দনীয়)।
  • বিকল্প পানি না থাকলে: যদি অন্য কোনো পরিষ্কার ও ভালো পানি পাওয়া না যায়, তবে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়েই অযু ও গোসল করা সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েয, তখন আর তা মাকরূহ থাকবে না।
  • মুখে নাপাকী থাকলে: বিড়াল যদি ইঁদুর বা কোনো নাপাক বস্তু খাওয়ার পরপরই (মুখ পরিষ্কার না করে) পানির পাত্রে মুখ দেয়, তবে সেই পানি নাপাক হয়ে যাবে।

সংযুক্ত কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:

  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১৪ (অধ্যায়: পবিত্রতা, 'পানির প্রকারভেদ'); এবং পৃষ্ঠা: ১৭–১৮ (পরিচ্ছেদ: 'উচ্ছিষ্টের বিধান')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮২ ও ৮৫ (অধ্যায়: তাহারাত, ৩য় পরিচ্ছেদ: 'পানির বিবরণ — গৃহপালিত প্রাণীর উচ্ছিষ্ট')।

২. কূপে বিড়াল পতিত হওয়ার ফিকহী বিধান:

  • বিড়াল কূপে পতিত হয়ে জীবিত অবস্থায় উঠে আসলে এবং তার শরীরে কোনো নাপাকী না থাকলে কুপের পানি নাপাক হয় না।
  • তবে পানিতে মুখ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য কূপ থেকে ২০ থেকে ৪০ বালতি পানি সেচে ফেলা মুস্তাহাব।
  • আর যদি বিড়াল কূপে পড়ে মারা যায় বা ফুলে-ফেটে যায়, তবে কুপের সমস্ত পানি সেচে ফেলে তা পবিত্র করতে হয়।

সংযুক্ত কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:

  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১৯ (পরিচ্ছেদ: 'কূপের মাসায়েল')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮০, ৮১ ও ১৪০ (অধ্যায়: তাহারাত, 'কূপের পানির বিবরণ')।

৩. বিড়ালের পেশাব, পায়খানা ও গৃহপালনের হুকুম:

  • পেশাব ও পায়খানা: বিড়ালের পেশাব, পায়খানা ও রক্ত শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজাসাতে গালেজা (ভারী নাপাকী)। কাপড়ে বা শরীরে এক দিরহামের (হাতের তালুর গভীরতার) চেয়ে বেশি পরিমাণ লাগলে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা ফরয।
  • বিড়াল পালন ও ক্রয়-বিক্রয়: ইঁদুর দমন বা ঘরে উপকারের উদ্দেশ্যে বিড়াল পালন করা এবং প্রয়োজনে বিড়াল ক্রয়-বিক্রয় করা ফিকহে হানাফী অনুযায়ী জায়েয।

সংযুক্ত কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩১–১৩২ (অধ্যায়: তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: 'নাপাক বস্তু ও পোশাক')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩২–৩৩ (অধ্যায়: কিতাবুল বিয়ূ — 'বিড়াল ও অন্যান্য চতুষ্পদ প্রাণী ক্রয়-বিক্রয়') ।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.