নবি ( সা:) কে ২ বার স্বপ্নে দেখেছি,ওনাকে দেখলে কি দোয়া কবুল হয়?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7383
Questioner: Jannatul Sumaiya
Question Asked: 25 Oct 2026, 07:03 PM
Reviewed & Published: 25 Oct 2026, 07:10 PM
Views: 33
Tokens: 14,753
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম, আমি একজন মেয়ে, একটা ব্যাখা জানতে চাই, প্লিজ যে ব্যাখা দিবেন,সে বলবেন প্লিজ অন্য কেউ বলবেন না,
আমি দুপুরে নামাজ পড়ে দুরুদ পড়ে, খেয়ে ঘুমিয়েছি,যদিও ওযু ছিলো না, স্বপ্নে দেখি মহানবী (সা:) এর সোনালী তরবারি, স্বপ্নে এটা বলছে কেউ, দেখছি, আর একই সাথে মূসা নবির সেই লম্বা লাঠি, আর কিছু মনে নাই,এর ব্যাখা কি?

আমি এইচএসসি ২৬, রেজাল্ট ভালোর লক্ষ্যে দোয়া করতেছি,এটা কি এর সাথে জড়িত?

আমি নবি ( সা:) কে ২ বার স্বপ্নে দেখেছি,ওনাকে দেখলে কি দোয়া কবুল হয়?
১ম বার আমি স্বপ্নে দেখি তুর্কির তোপকাপি প্রাসাদে কোন সন্ত্রাসীরা আসছে, সেখানে আব্বুকে গুলি করতে আসছে, তো পরে ওরা চলে যায় আমি তখন নামাজে দাড়াই, আর সবাই আশেপাশের বলতেছে এই নবী (সা:)আসছে এমন, উনি বলছেন আমাকে যে দুরুদ পড়ো, সাদা জুব্বা পড়া এমন, লম্বা চওড়া এমন, এর বেশি মনে নেই,চেহারা দেখি নি,
পরে কিছুদিন পর‌ একদিন দেখি নবি (সা:) আসছেন রাত ২ টার দিকে আমাদের ঘরে, বোন আর আমি পড়তেছি তখন, পরে উনি এসে আমাদের ঘরে শুয়েছেন, অন্ধকারে আমি এমন শুধু দেখতে পাচ্ছি, সাদা জুব্বা পড়া উনি, চুল দাড়ি কালো বেশির ভাগ, আর আমি ওনাকে (সা:) কে বলেছি আমার আপনারা চেহারা দেখার অনেক ইচ্ছা আমি একটু রুমের লাইট জ্বালাই, উনি কিছু বলে নি,পরে জ্বালাই তার চেহারা দেখি, আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু বাস্তবে মনে নাই, শ্যাম বর্ণের দেখেছি,
আবার অনেক দিন পর ২, ৩ বার বিয়ের স্বপ্ন দেখেছি যদিও অবিবাহিত আমি,

আবার একদিন স্বপ্নে দেখি আলি (রা:) সাদা জুব্বা পড়ে দাড়িয়ে আছেন মা ফাতিমার কবরের পাশে, মা ফাতিমার কবর খোদাই করা ওখানে লিখা মা ফাতেমার নাম, এতটুকু দেখেছি,আর মনে নাই,

এরপর একদিন দেখলাম আমি যেই কোচিংএ ভার্সিটি কোচিং করছি সেখানে ক্লাস করে বের হচ্ছি, সেইখান আমি সহ আর কিছু মেয়েকে ফুল দিচ্ছে, সব ক্লাসমেট রা আমাকে ঠেলতেছে আর বলতেছে যে তুমি আগে যাও আমি গিছি, সাদা ফুলের তোড়া দিচ্ছে স্যার রা, ১ম এ ১ বার দিছে, পরে আরেক স্যার ও দিছে , পরে একদম ফাস্ট চেয়ারে বসলাম, ওখানের স্যাররা আমাকে অনেক বই দিলো, আমাকে বললো নিবে, আমি খুলে দেখলাম নেওয়ার ইচ্ছা,

এ ছাড়া ও পরীক্ষার মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ,বৃষ্টির স্বপ্ন দেখেছি অনেক বার,

আরো একদিন স্বপ্ন দেখি যে আমি অনেক কাপড় নিচ্ছি ধুবো তাই, পরে দেখি বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে আমি ভিজছি,তারপর এসে কাপড় ধুয়ে গোসল করছি, পরে দেখি বের হইছি এর কিছু সময় পর দেখি অনেক ছোট ছেলছ মেয়ে আসছে আনুমানিক বয়স ৪/৫ এমন,‌তো একটা বাচ্চা ছেলে আমার কোলে প্রসাব করে দিছে,

আবার একদিন শুনি যে একজন সাদা জুব্বা টাইপ কিছু পড়া, হুটকরে স্বপ্নে আসছে, কোন কথা বলে না, অনেক লম্বা, হাত পা দেখি নাই, এমন হুটকরে স্বপ্ন ভেঙে গেছে,

পরে আরো একদিন স্বপ্নে দেখি, একজন জুব্বা টাইপ পড়া, আমাকে বলতেছে, তোমার উপর কোন জাদু নেই, কেউ করে রাখতে পারবে না, তবে তোমার চাচি করছে জাদু যেন পড়তে না পারো, বললাম কেন, বলে বোঝো না, তোমার চাচাতো ভাই যেন তোমার থেকে ভালো পারে তাই তোমাকে তাবিজ করছে, এইসব বলল,


একদিন দেখি সমুদ্রে আমি যাচ্ছি,লাল গাউন পড়ে,


এইসব স্বপ্ন গুলো আমি বিগত কয়েক মাসে দেখেছি একটু ব্যাখা বলবেন প্লিজ!





আমি দীর্ঘদিন জ্বীন জাদুতে আক্রান্ত ছিলাম, যেন পড়তে না পারি,পরে রুকাইয়াহ করি, এখনো নিজে সেল্ফ আমল করি, আর দোয়া দুরুদ যতটুকু পারি পড়ি, এই, আর আগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম না, এখন আলহামদুলিল্লাহ রেগুলার পড়ি,
২৯ তারিখ আমার রেজাল্ট সবাই দোয়া করবেন,প্লিজ, আমি জাদুতে আক্রান্ত ছিলাম বেশি পড়তে পারি নাই, সবাই একটু দোয়া করবেন,প্লিজ যে পোস্টটা পড়বেন, আর এই ব্যাখা গুলো যে দেন সে বলবেন প্লিজ,

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নিতে চাই: স্বপ্নের ব্যাখ্যা (তা'বীর) কোনো কাটাছেঁড়া বা নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। শরীয়তে স্বপ্নের ব্যাখ্যা হলো একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত (যা'ন), নিশ্চিত প্রমাণ নয়। ইমাম ইবন সিরিন (রহ.)-এর মতো মুফাসসিরগণ স্বপ্নের ব্যাখ্যায় বহু সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন এবং বারবার বলেছেন—স্বপ্নের ব্যাখ্যা ব্যক্তির অবস্থা, দ্বীনদারি, সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন হয়। তাই নিচের ব্যাখ্যাগুলোকে "সম্ভাব্য ইঙ্গিত" হিসেবে নিন, চূড়ান্ত ফয়সালা হিসেবে নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা—ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করুন ও খুশি হোন; খারাপ বা বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান, বাম দিকে থুতু ফেলুন (শুকনো) এবং কারও কাছে বর্ণনা করবেন না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬১-২২৬৩; সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৯৮৪-৬৯৮৬)


১. নবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা এবং দোয়া কবুল হওয়া

প্রশ্ন: নবী (সা.)-কে দেখলে কি দোয়া কবুল হয়?

উত্তর: হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

«مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ بِي» "যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখল, সে সত্যিই আমাকে দেখল; কারণ শয়তান আমার আকৃতিতে রূপ ধারণ করতে পারে না।" (সহিহ বুখারি, হাদিস ১১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৬)

তবে এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

(ক) স্বপ্নে নবী (সা.)-কে দেখা একটি মহা সৌভাগ্যের বিষয় এবং এটি দ্বীনদারির আলামত হতে পারে। কিন্তু এটি দোয়া কবুলের কোনো "গ্যারান্টি" নয়। দোয়া কবুলের শর্ত হলো: হালাল উপার্জন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, দোয়ায় আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ দিয়ে শুরু-শেষ করা, ইয়াকিনের সাথে দোয়া করা এবং আল্লাহর হুকুমে সন্তুষ্ট থাকা। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ৩৪৭৯; মুস্তাদরাকে হাকিম)

(খ) স্বপ্নে দেখা নবী (সা.)-এর প্রকৃত চেহারা সম্পর্কে ইমাম ইবন হাজার (রহ.) ও অন্যান্য মুহাক্কিকীন বলেছেন—স্বপ্নে দেখা ব্যক্তির বর্ণনা হুবহু দুনিয়ার চেহারার সাথে মিলতে হবে এমন নয়; কারণ স্বপ্ন দর্শনকারীর অবস্থা অনুযায়ী রূপ পরিবর্তিত হতে পারে। আপনি "শ্যাম বর্ণ" দেখেছেন—এটি আপনার স্বপ্নের প্রেক্ষাপট; এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। (ফাতহুল বারী, ইবন হাজার, হাদিস ১১০-এর ব্যাখ্যা)

উপসংহার: নবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা সৌভাগ্যের আলামত, তবে দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা নয়। আপনি দোয়া-দরুদ চালিয়ে যান, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।


২. সোনালী তরবারি ও মূসা (আ.)-এর লাঠি

প্রশ্ন: স্বপ্নে নবী (সা.)-এর সোনালী তরবারি ও মূসা (আ.)-এর লাঠি দেখা—এর ব্যাখ্যা কী? এইচএসসি ২০২৬-এর রেজাল্টের সাথে কি জড়িত?

উত্তর: স্বপ্নে তরবারি সাধারণত শক্তি, সাহস, বিজয় ও সত্যের পক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে। ইবন সিরিন (রহ.)-এর তা'বীর গ্রন্থে তরবারি সম্পর্কে বলা হয়েছে—তরবারি দ্বীন ও জ্ঞানের শক্তি, শত্রুর উপর বিজয় এবং মর্যাদার প্রতীক হতে পারে। আর লাঠি (আসা) নবীদের মু'জিযার প্রতীক; মূসা (আ.)-এর লাঠি বিশেষভাবে সত্যের বিজয়, জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর সাহায্যের ইঙ্গিত। (তাফসিরে ইবন সিরিন; মা'আরিফুল কুরআন, সূরা ত্বহা ১৭-২১-এর ব্যাখ্যা)

তবে এইচএসসি রেজাল্টের সাথে সরাসরি জড়িত—এমন নিশ্চিত দাবি করা যায় না। স্বপ্নের ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে বেঁধে ফেলা শরীয়তসম্মত নয়। বরং এটিকে এভাবে নিন: এটি আপনার জন্য একটি উৎসাহ ও শুভ ইঙ্গিত হতে পারে যে, আপনি জ্বীন-জাদুর কষ্ট থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, দ্বীনে অবিচল হচ্ছেন এবং আল্লাহর সাহায্য আপনার সাথে আছে। রেজাল্টের জন্য দোয়া চালিয়ে যান, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখুন, এবং পড়াশোনায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন—কারণ তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়। (তিরমিজি, হাদিস ২৩৪৪)


৩. স্বপ্নে বিয়ের দেখা (অবিবাহিত অবস্থায়)

উত্তর: অবিবাহিত মেয়ের স্বপ্নে বিয়ে দেখা—ইবন সিরিন (রহ.)-এর মতে এটি সাধারণত কল্যাণ, মর্যাদা, দায়িত্ব গ্রহণ বা জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এটি ভবিষ্যতে ঠিক কখন বিয়ে হবে তার নিশ্চিত সংকেত নয়। আপনার বয়স ও অবস্থা বিবেচনায় এটি স্বাভাবিক মানসিক চিন্তার প্রতিফলনও হতে পারে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না; পর্দা ও শরীয়তের সীমা রক্ষা করে চলুন, এবং ভালো জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া করুন। (তাফসিরে ইবন সিরিন)


৪. আলী (রা.) ও মা ফাতিমা (রা.)-এর কবর দেখা

উত্তর: সাহাবি ও আহলে বাইতকে স্বপ্নে দেখা সাধারণত বরকত ও দ্বীনি সম্পর্কের ইঙ্গিত। তবে কবর খোদাই করা, নাম লেখা ইত্যাদি নিয়ে বিশেষ কোনো তা'বীর নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ইসলামে কবরে নাম-পরিচয় লেখা নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ আছে; তবে স্বপ্নের বিষয়টি এখানে তা'বীরের বিষয়, ফিকহি হুকুমের বিষয় নয়। এটিকে বরকতের ইঙ্গিত হিসেবে নিন, বেশি ব্যাখ্যা খুঁজতে যাবেন না। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, কবর সংক্রান্ত মাসায়েল)


৫. কোচিং, ফুল, বই ও ফাস্ট চেয়ার

উত্তর: স্বপ্নে ফুল পাওয়া সাধারণত সুসংবাদ, সম্মান ও প্রশংসার ইঙ্গিত। বই পাওয়া জ্ঞান, শিক্ষা ও দ্বীনি-দুনিয়াবি উন্নতির ইঙ্গিত। ফাস্ট চেয়ারে বসা ও স্যারদের বই দেওয়া—এগুলো পড়াশোনায় সাফল্য ও মর্যাদার সম্ভাব্য ইঙ্গিত। ইবন সিরিন (রহ.) বলেছেন, স্বপ্নে জ্ঞান বা কিতাব পাওয়া দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের আলামত। (তাফসিরে ইবন সিরিন)

তবে আবারও বলি—এটি রেজাল্টের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এটি আপনার মনোবল বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে নিন এবং দোয়া ও পরিশ্রম চালিয়ে যান।


৬. বৃষ্টির স্বপ্ন (বারবার)

উত্তর: বৃষ্টি স্বপ্নে সাধারণত রহমত, বরকত, রিজিক ও কষ্ট দূর হওয়ার ইঙ্গিত। কুরআনে বৃষ্টিকে রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা আল-আনআম ৯৯; সূরা নাহল ১০-১১)। ইবন সিরিন (রহ.)-এর মতে বৃষ্টি দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণ, বিপদ থেকে মুক্তি ও দোয়া কবুলের সম্ভাব্য ইঙ্গিত। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু জাদু-জ্বীনের কষ্ট ছিল, এটি মুক্তি ও শিফার সুসংবাদের ইঙ্গিত হতে পারে। (তাফসিরে ইবন সিরিন; মা'আরিফুল কুরআন)


৭. কাপড় ধোয়া, বৃষ্টিতে ভেজা, গোসল ও শিশুর প্রস্রাব

উত্তর: স্বপ্নে কাপড় ধোয়া সাধারণত পাপ-মলিনতা থেকে পবিত্রতা, দুশ্চিন্তা দূর হওয়া ও জীবনের পরিষ্কার নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। বৃষ্টিতে ভেজা ও গোসল করা—রহমত ও পবিত্রতার আলামত। শিশু কোলে প্রস্রাব করা—ইবন সিরিন (রহ.)-এর মতে শিশু সাধারণত নতুন দায়িত্ব, আনন্দ বা ভবিষ্যতের কল্যাণের ইঙ্গিত; প্রস্রাব সাধারণত রিজিক বা সন্তান সংক্রান্ত ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এগুলো সবই সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, নিশ্চিত নয়। (তাফসিরে ইবন সিরিন)


৮. সাদা জুব্বা পরা লম্বা ব্যক্তি—কথা না বলে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া

উত্তর: সাদা জুব্বা পরা নূরানী ব্যক্তিত্ব সাধারণত দ্বীনদার, আল্লাহর ওলি বা ফেরেশতার ইঙ্গিত হতে পারে। কথা না বলা ও হঠাৎ স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া—এটি স্বপ্নের স্বাভাবিক প্রকৃতি; এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভালো স্বপ্ন হলে আল্লাহর শোকর করুন, খারাপ হলে বাম দিকে থুতু ফেলে আল্লাহর আশ্রয় চান এবং কারও কাছে বর্ণনা করবেন না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬২)


৯. "তোমার উপর জাদু নেই, তবে তোমার চাচি করছে"—এই স্বপ্ন

উত্তর: এখানে অত্যন্ত সতর্কতা প্রয়োজন। স্বপ্নে কারও নাম নিয়ে জাদু বা তাবিজের অভিযোগ করা—এর ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা বা বদনাম করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। ইসলামে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা যাবে না; এটি গীবত ও বুহতানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। (সূরা হুজুরাত ১২; সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৬২)

স্বপ্নে শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য প্ররোচনা দিতে পারে। তাই এই স্বপ্নকে কোনোভাবেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করবেন না, চাচি বা চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। বরং নিজের রুকাইয়াহ, দোয়া ও আমল চালিয়ে যান। জাদু থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হলো—নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক-নাস, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া এবং আল্লাহর উপর ভরসা। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১)


১০. সমুদ্রে লাল গাউন পরে যাওয়া

উত্তর: সমুদ্র স্বপ্নে সাধারণত বিশালতা, জ্ঞান, রিজিক বা জীবনের বিস্তারের ইঙ্গিত। লাল রং কখনো শক্তি, কখনো আবেগ বা সতর্কতার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এটি এককভাবে বিশেষ কোনো নিশ্চিত তা'বীর নয়। এটিকে সাধারণ ইঙ্গিত হিসেবে নিন। (তাফসিরে ইবন সিরিন)


১১. জ্বীন-জাদু থেকে মুক্তি ও নামাজে অবিচল হওয়া

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ! আপনি জাদু থেকে রুকাইয়াহ করেছেন, এখন নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, দোয়া-দরুদ করছেন—এটি অত্যন্ত বড় নিয়ামত। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

«وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ» "আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি তো নিকটেই; আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে।" (সূরা বাকারা ১৮৬)

আপনি আগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন না, এখন আলহামদুলিল্লাহ নিয়মিত পড়ছেন—এটি আল্লাহর বিশেষ তাওফিক। এটি ধরে রাখুন, কখনো ছাড়বেন না। জাদুর কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য রুকাইয়াহ ও আমল চালিয়ে যান, পাশাপাশি হালাল রিজিক, পর্দা ও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখুন। (মা'আরিফুল কুরআন; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, রুকাইয়াহ ও তাবিজ সংক্রান্ত)


১২. রেজাল্টের জন্য দোয়া

উত্তর: অবশ্যই আপনার জন্য দোয়া করছি—আল্লাহ তা'আলা আপনার এইচএসসি ২০২৬-এর রেজাল্ট কল্যাণকর করুন, আপনার পরিশ্রম কবুল করুন এবং উত্তম ফল দান করুন। আপনি নিজেও এই দোয়া পড়ুন:

«اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا» "হে আল্লাহ! সহজ তো তা-ই যা আপনি সহজ করেন; আর আপনি চাইলে দুঃখ-কষ্টকেও সহজ করে দেন।" (ইবন হিব্বান, হাদিস ৯৭৪)

এবং রাসূল (সা.) মুশকিলের সময় এই দোয়া পড়তেন:

«اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» (আবু দাউদ, হাদিস ৫০৯০; তিরমিজি, হাদিস ৩৫২৪)


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.