কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদি লাভ ও কোম্পানির কন্ট্রিবিউশনের হুকুম ও যাকাতের নিয়ম

Business and Job · Hanafi

Question No: 534
Questioner: Iftekhar Ahmed Talukder
Question Asked: 22 May 2026, 03:25 PM
Reviewed & Published: 22 May 2026, 04:00 PM
Views: 35
Tokens: 4,930
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু'আলাইকুম।

আমি যে কোম্পানিতে চাকুরী করি সেখানে ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু আছে।

ঐ কোম্পানির নিয়ম হল যারা চাকুরী করে তারা চাইলে প্রতিমাসে বেতনের সর্বোচ্ছ ১০% প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারে। এরপর নির্দিষ্ট মেয়াদে চাকুরী করার পর কোম্পানি আরো ১০% ধরে সাথে কিছু সুদের টাকাসহ ফেরত দেয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির নিজের আয়ে ধরা যাক প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমে ৫০০০০ টাকা এবং ফান্ডে থেকে টাকা তোলার সময় কোম্পানি তাকে দিবে আরো ৫০০০০ টাকা এবং দুইজনের অংশের উপর ১২০০ টাকা (হিসাবের সুবিধার্থে ধরা) করে ২৪০০ টাকা মিলিয়ে মোট ১০২৪০০ টাকা পাবে।

তাহলে ২৪০০ টাকা হারাম (সুদ) এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কোম্পানি যে ৫০০০০ দিচ্ছে তা কি হালাল হবে নাকি হারাম হবে?


এবং প্রতিবছর প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজের ১০% টাকার উপর যাকাত আসবে নাকি কোম্পানির ১০% সহ যাকাত দিতে হবে ?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
কোম্পানির ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মচারী নিজের বেতনের সর্বোচ্চ ১০% জমা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট মেয়াদ পূরণের পর কোম্পানি আরও ১০% (ম্যাচিং কন্ট্রিবিউশন) এবং উভয় অংশের উপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ (রিবা) প্রদান করে। উদাহরণ: নিজের জমা ৫০,০০০ টাকা, কোম্পানির দেওয়া ৫০,০০০ টাকা এবং সুদ বাবদ ২,৪০০ টাকা = মোট ১,০২,৪০০ টাকা। প্রশ্ন: (১) কোম্পানির দেওয়া ৫০,০০০ টাকা কি হালাল নাকি হারাম? (২) যাকাত গণনায় নিজের অংশের উপরই যাকাত দিতে হবে নাকি কোম্পানির অংশ সহ মোটের উপর?


১. কোম্পানির কন্ট্রিবিউশন (৫০,০০০ টাকা) – হালাল না হারাম?

ফাতাওয়া: কোম্পানির দেওয়া ম্যাচিং কন্ট্রিবিউশন (৫০,০০০ টাকা) হালাল। এটি কর্মচারীর বেতনের অংশ বা চাকরির শর্তাধীন একটি বোনাস/উপহার (hiba) হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু এটি মূলধনের অতিরিক্ত কোনো সুদ নয়, বরং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি অনুদান।

কিন্তু শর্ত: শুধুমাত্র অতিরিক্ত সুদ (রিবা)-এর পরিমাণ (২,৪০০ টাকা) হারাম। তাই মোট প্রাপ্ত অর্থ থেকে সুদের অংশ পৃথক করে নিম্নোক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে:

  • নিজের আয়ের অংশ (৫০,০০০ টাকা) এবং কোম্পানির কন্ট্রিবিউশন (৫০,০০০ টাকা) হালাল।
  • সুদের টাকা (২,৪০০ টাকা) গ্রহণ করা যাবে না; যদি জোর করে দিয়ে দেয়, তবে তা নিয়ে নেকির নিয়ম ছাড়া সদকা করে দিতে হবে (তাসাদ্দুক)।

হানাফি কিতাবের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/১৭৬): রিবা হলো মূলধনের অতিরিক্ত কোনো শর্তযুক্ত লাভ। মূলধন নিজে হালাল।
  • আল-হিদায়া (৩/১০২): নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বোনাস বা ম্যাচিং কন্ট্রিবিউশন জায়েয, যতক্ষণ তা সুদের আওতায় না পড়ে।
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৪০৩): ‘প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোম্পানির অংশ হালাল, কিন্তু সুদের অংশ আলাদা করে সদকা করতে হবে।’

সতর্কতা: সুদি ফান্ডে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। তবে ইতিমধ্যে জমা হয়ে থাকলে উপরোক্ত নিয়ম পালন করবেন।


২. যাকাতের বিধান – নিজের অংশ নাকি মোট টাকার উপর?

ফাতাওয়া: যাকাত দিতে হবে হালাল অংশের মোট টাকার উপর (নিজের কন্ট্রিবিউশন + কোম্পানির কন্ট্রিবিউশন) যদি তা নিসাব পরিমাণ (স্বর্ণের মূল্যে ৮৭.৪৮ গ্রাম বা রুপার মূল্যে ৬১২.৩৬ গ্রাম) হয় এবং এক চান্দ্রবর্ষ ধরে আপনার মালিকানায় থাকে।

কেন মোটের উপর?

  • কোম্পানির কন্ট্রিবিউশন আপনার মালিকানায় চলে আসে (যদিও তোলার উপর বিধিনিষেধ থাকতে পারে)। এটি একটি প্রাপ্তিযোগ্য ঋণ (debt receivable) হিসেবে গণ্য হয় এবং হানাফি মতে, এমন ঋণের উপর যাকাত ওয়াজিব।
  • বাদশাহী যাকাত: সুদের টাকা যাকাতের হিসাবে গণ্য হবে না; বরং তা সদকা করে দিতে হবে। তাই যাকাত গণনার সময় শুধু ১,০০,০০০ টাকা (নিজের + কোম্পানির) অন্তর্ভুক্ত করবেন।

হানাফি কিতাবের দলিল:

  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/১৮৭): যে টাকা নির্দিষ্ট সময় পর পাওয়া যাবে, তা মালিকানাধীন থাকায় যাকাত ওয়াজিব।
  • বেহেশতী জেওর (যাকাত অধ্যায়): প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা প্রাপ্তিযোগ্য ঋণের মতো; প্রতি বছর নিসাব ও এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত দিতে হবে।
  • রদ্দুল মুহতার (২/২৫২): সুদের টাকা যাকাতের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা থেকে মুক্তি পেতে সদকা করতে হবে।

ব্যবহারিক নিয়ম:

  • প্রতি বছর আপনার মোট হালাল সম্পদের (প্রভিডেন্ট ফান্ডের সব হালাল অংশ + অন্যান্য সম্পদ) হিসাব করুন।
  • যদি নিসাব পূর্ণ হয় এবং এক বছর অতিবাহিত হয়, তাহলে ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করুন।
  • সুদের টাকা (যেমন ২,৪০০) যাকাতের হিসাবে যোগ করবেন না। বরং তা সদকা করে দিন।

সারসংক্ষেপ ফাতাওয়া

| বিষয় | বিধান | |------|--------| | কোম্পানির ম্যাচিং কন্ট্রিবিউশন (৫০,০০০ টাকা) | হালাল (সুদ নয়, বেতনের অংশ বা বোনাস) | | সুদ বাবদ প্রাপ্ত অতিরিক্ত টাকা (২,৪০০ টাকা) | হারাম; নেকির নিয়ম ছাড়া সদকা করতে হবে | | যাকাতের ভিত্তি | হালাল অংশের মোট টাকা (নিজের + কোম্পানির) – নিসাব ও এক বছর শর্ত | | সুদের টাকায় যাকাত? | না; তা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ দিয়ে সদকা করতে হবে |

উপদেশ: ভবিষ্যতে সুদি প্রভিডেন্ট ফান্ডে অংশ না নেওয়াই উত্তম। যদি কোম্পানির বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে সুদের অংশ পৃথক করে ফেলে অন্যান্য হালাল অংশ গ্রহণ করুন। কোনো জটিলতা থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতির পরামর্শ নিন।

وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ
(আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.