মাজহাব নিয়ে বিতর্কর এক পর্যায়ে অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করলে করণীয় কি হতে পারে?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 445
Questioner: Saleha Khatun
Question Asked: 20 May 2026, 10:51 PM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 10:59 PM
Views: 30
Tokens: 2,589
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি হানাফি মাজহাব মেনে চলার চেষ্টা করি , আমার বান্ধবী নামাজ আমার সাথে না মিলায় তাকে বলছিলাম সে বলে সে কুরআন আর হাদিস থেকে দেখে মানে।‘১ আহলে হাদিস সে কোনো মাজহাব মানে না মাজহাব নাকি ভুল থাকে হানাফি তেও নাকি ভুল আছে, এখন আমার খুব খারাপ লাগে আমি তাকে বলে ফেলছি অল্প বিদ্যা ভয়ানক এখন রাগের মাথায় বলে ফেলছি পরে বলছি এইগুলো নিয়ে কথা বলে লাভ নেই আমাদের ইলম অল্প , এখন আমার এই ঝগড়া কি বড় কোন গুনাহ হয়েছে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার সাথে আপনার বান্ধবীর যে কথোপকথন ও ঝগড়া হয়েছে, তা ইসলামী আদবের পরিপন্থী হলেও এটি "বড় গুনাহ" হিসেবে গণ্য হবে না। ভবিষ্যতে কারো সাথে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। তবে এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:

১. রাগের মাথায় বলা “অল্প বিদ্যা ভয়ানক”

  • রাগের মাথায় অহংকারপূর্ণ বা অপমানজনক কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

    “তোমরা লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”
    (সূরা লুকমান: ১৮)

  • তবে আপনি যেহেতু নিজেই বুঝতে পেরেছেন যে এটি ঠিক হয়নি এবং অনুশোচনা করছেন, এটি আপনার ঈমানের আলামত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    “পশ্চাত্তাপ করাই তওবা।” (ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)

২. মাজহাব নিয়ে ঝগড়া

  • ইসলামে ইখতিলাফ (মতভেদ) থাকা স্বাভাবিক। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই ফিকহী মাসআলায় মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, একে অপরকে ভুল বলা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা জায়েজ।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-সহ সকল ইমামই বলেছেন: যদি কোনো হাদিস সহীহ হয়, তবে তা-ই আমার মাজহাব। তাই একজন আহলে হাদিস বা অন্য কোনো মাজহাবের অনুসারী যদি কুরআন-হাদিসের দলিল পেশ করেন, তাহলে তাকে “অল্পবিদ্যা” বলে অপমান করা উচিত নয়।
  • বরং এ বিষয়ে মুফতি তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:

    “ফিকহী মাসআলায় মতপার্থক্য নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক করা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ইসলামের আদবের পরিপন্থী। একে অপরের প্রতি সহিষ্ণুতা ও ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি।” (ফতোয়া উসমানী, ১/৪৫)

৩. সমাধান ও ক্ষমা প্রার্থনা

  • আপনার করণীয় হলো:
    (ক) আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
    (খ) আপনার বান্ধবীকে ফোনে বা সরাসরি বলুন: “আমি রাগের মাথায় যা বলেছি, তার জন্য আমাকে মাফ করে দিও। আমরা উভয়েই ইলম কম হওয়ায় ভুল করেছি।”
  • যদি তিনি না মানেন, তাহলে আপনার দায়িত্ব শেষ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

    “আর যদি তারা ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।”
    (সূরা বাকারা: ২৩৭)

৪. আইনী ও নৈতিক শিক্ষা

  • ভবিষ্যতে ধর্মীয় আলোচনার সময় শান্ত থাকুন, দলিল সহকারে কথা বলুন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
  • সহীহ বুখারীর হাদিস: “মুমিন সে ব্যক্তি নয় যে অভিশাপ দেয়, আর মুমিন সে ব্যক্তি নয় যে গালি দেয় এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।” (তিরমিজি: ১৯৭৭)

সারসংক্ষেপ:

আপনার ঝগড়াটি “বড় গুনাহ” নয়, কারণ আপনি নিজেই বুঝতে পেরেছেন এবং অনুশোচনা করছেন। তবে মার্জিত ভাষা ব্যবহার রাসূল সাঃ এ সুন্নত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.