মাজহাব নিয়ে বিতর্কর এক পর্যায়ে অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করলে করণীয় কি হতে পারে?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের উত্তর:
আপনার সাথে আপনার বান্ধবীর যে কথোপকথন ও ঝগড়া হয়েছে, তা ইসলামী আদবের পরিপন্থী হলেও এটি "বড় গুনাহ" হিসেবে গণ্য হবে না। ভবিষ্যতে কারো সাথে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। তবে এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
১. রাগের মাথায় বলা “অল্প বিদ্যা ভয়ানক”
- রাগের মাথায় অহংকারপূর্ণ বা অপমানজনক কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”
(সূরা লুকমান: ১৮) - তবে আপনি যেহেতু নিজেই বুঝতে পেরেছেন যে এটি ঠিক হয়নি এবং অনুশোচনা করছেন, এটি আপনার ঈমানের আলামত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“পশ্চাত্তাপ করাই তওবা।” (ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)
২. মাজহাব নিয়ে ঝগড়া
- ইসলামে ইখতিলাফ (মতভেদ) থাকা স্বাভাবিক। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই ফিকহী মাসআলায় মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, একে অপরকে ভুল বলা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা জায়েজ।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-সহ সকল ইমামই বলেছেন: যদি কোনো হাদিস সহীহ হয়, তবে তা-ই আমার মাজহাব। তাই একজন আহলে হাদিস বা অন্য কোনো মাজহাবের অনুসারী যদি কুরআন-হাদিসের দলিল পেশ করেন, তাহলে তাকে “অল্পবিদ্যা” বলে অপমান করা উচিত নয়।
- বরং এ বিষয়ে মুফতি তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:
“ফিকহী মাসআলায় মতপার্থক্য নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক করা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ইসলামের আদবের পরিপন্থী। একে অপরের প্রতি সহিষ্ণুতা ও ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি।” (ফতোয়া উসমানী, ১/৪৫)
৩. সমাধান ও ক্ষমা প্রার্থনা
- আপনার করণীয় হলো:
(ক) আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
(খ) আপনার বান্ধবীকে ফোনে বা সরাসরি বলুন: “আমি রাগের মাথায় যা বলেছি, তার জন্য আমাকে মাফ করে দিও। আমরা উভয়েই ইলম কম হওয়ায় ভুল করেছি।” - যদি তিনি না মানেন, তাহলে আপনার দায়িত্ব শেষ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর যদি তারা ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।”
(সূরা বাকারা: ২৩৭)
৪. আইনী ও নৈতিক শিক্ষা
- ভবিষ্যতে ধর্মীয় আলোচনার সময় শান্ত থাকুন, দলিল সহকারে কথা বলুন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
- সহীহ বুখারীর হাদিস: “মুমিন সে ব্যক্তি নয় যে অভিশাপ দেয়, আর মুমিন সে ব্যক্তি নয় যে গালি দেয় এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।” (তিরমিজি: ১৯৭৭)
সারসংক্ষেপ:
আপনার ঝগড়াটি “বড় গুনাহ” নয়, কারণ আপনি নিজেই বুঝতে পেরেছেন এবং অনুশোচনা করছেন। তবে মার্জিত ভাষা ব্যবহার রাসূল সাঃ এ সুন্নত।