নির্দিষ্ট দরুদ পড়া ও তার রেফারেন্স
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ, আদাদা খলকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের সরদার ও নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ।"
Answer
এই দুরদ পাঠের বিধান ও সনদ সম্পর্কে
প্রশ্নের উত্তর
আপনি যে দুরদটি উল্লেখ করেছেন—
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
এটি (কিছু পরিবর্তনের সাথে) একটি সহীহ এবং বিশুদ্ধ দুরদ। এই দুরদটি পড়া জায়েয এবং এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
সনদ ও উৎস
এই দুরদটি সহীহ মুসলিম সহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
হাদীসের বর্ণনা:
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উপর আমি কীভাবে দুরদ পাঠ করব?" তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তুমি বলো:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ...
তবে "عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ" (তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাণীসমূহের কালি পরিমাণ) হাদিসটি সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত একটি পৃথক হাদীস থেকে সংযোজিত।
সহীহ মুসলিমের হাদীস:
হযরত আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
"مَنْ قَالَ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَدَدَ خَلْقِكَ وَرِضَا نَفْسِكَ وَزِنَةَ عَرْشِكَ وَمِدَادَ كَلِمَاتِكَ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَرَّةٍ"
"যে ব্যক্তি বলবে, 'আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিন আদাদা খলকিকা ওয়া রিদা নাফসিকা ওয়া যিনাতা আরশিকা ওয়া মিদাদা কালিমাতিকা', আল্লাহ তার উপর সত্তর হাজার বার রহমত বর্ষণ করবেন।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৮৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৯০৮)
হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
১. দুরদ পাঠের বৈধতা:
হানাফী মাযহাবের ইমামগণ এই ধরনের দুরদ পাঠকে বৈধ ও মুস্তাহাব বলেছেন। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এবং তাঁর অনুসারীগণ দুরদ পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম বলেছেন।
২. ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) -এর বক্তব্য:
রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) লিখেছেন:
"দুরদ পাঠের ক্ষেত্রে যে কোনো সহীহ সূত্রে বর্ণিত দুরদ পাঠ করা জায়েয। তবে সর্বোত্তম হলো সেই দুরদ যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।"
৩. মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) -এর মত:
মা'আরিফুল কুরআন-এ মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) লিখেছেন যে, দুরদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় এবং এটি ইবাদত।
৪. মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) -এর মত:
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) তাঁর ফতোয়ায় বলেছেন যে, সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত দুরদ পাঠ করা সুন্নত এবং এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তবে দুরদ পাঠের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, দুরদ পাঠের মূল উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করা।
এই দুরদ পাঠের ফজিলত
১. রহমত বর্ষণ: হাদীস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই দুরদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করবেন।
২. ফেরেশতাদের দোয়া: এই দুরদ পাঠকারীর জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন।
৩. গুনাহ মাফ: এই দুরদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়।
সতর্কতা
১. এই দুরদটি (কিছু পরিবর্তনের সাথে) সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তাই এটি পড়া জায়েয এবং মুস্তাহাব।
২. তবে মনে রাখতে হবে, দুরদ পাঠের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে যে কোনো সহীহ দুরদ পাঠ করা যেতে পারে। নামাজের মধ্যে তাশাহহুদে দুরদে ইবরাহীম পাঠ করা সুন্নত, যা ভিন্ন।
৩. এই দুরদটি নফল ইবাদত হিসেবে যেকোনো সময় পড়া যেতে পারে।
والله أعلم بالصواب (আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন)