স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা সম্পর্কিত
Family Life · Hanafi
Question
দুই বছরের অধিক বৈবাহিক জীবন। ইতোমধ্যেই কোনো মাস এমন যায় নী ঝামেলা ছাড়া থাকা গেছে। নানাবিধ জটিল সমস্যা, শুধু নিজেদের মধ্যে না এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি সমাধান না দিয়ে আরও সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
এত এত ঘটনা সব বলা সম্ভব না, তবে আমি খুবই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আছি এটুকু বলতে চাই। এর আগেও আমি কিছু প্রশ্ন করেছি এই সব ব্যাপারে?
আমি যতই আমার স্বামীকে হাদীস, সীরাত ও ইসলামিক বই সরবরাহ করো দিই, বুঝায় তাতে কাজ হয় না। আমার দোষ ধরে উল্টা আর সেগুলা না পড়ে স্ত্রীর কি কি করনীয় এক্সট্রিম পর্যায়ের সব নিয়ম কানুন হাজির করে। যদিও সীরাত ও বিভিন্ন বই পড়ে সাধারণত আদর্শ স্ত্রী যেমন হওয়া উচিত আমি মেনে চলি। আমার মধ্যে সেসব লক্ষণ আছে, কিছু ক্ষেত্রে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কথা শুনতে পারি না, কিন্তু সে ভালোবেসে সেটা আদায় না করে আমার উপর জবরদস্তি করে, অপমান করে বিভিন্ন কারণে অকারণে ছোট করতেই থাকে।
তাকে যখন বুঝায় আমি তো কষ্ট পেয়েছি এটা বলি, সে যাতে এরকম না করে
সে শুনে না, বুঝে না, পরিবার বলে মেনে নাও।
তার থেকে একটু ভালো ব্যবহার আর সময় চেয়েছি, এখনো সে কোনো ভরণ পোষণ দেয় না, আমি বাবার বাসায় থাকি, দুই জন আলাদা। সে অনেক ব্যস্ততা দেখায়। আর বলে, সে যেহেতু পুরুষ মানুষ, আল্লাহ্ তাকে অনেক দায়িত্ব দিয়েছে তার পিতা মাতার (তার আরো দুইটি প্রাপ্তবয়ষ্ক ভাই আছে, এবং এক ভাই মা কে নিয়ে গেছে এখন, কানাডা থাকে, সেখানেই সেটেল্ড) , তবুও আমার স্বামীর আমার থেকে সবসময় তাদের প্রতি চিন্তা, কাজ সব তাদের, আমার মন বুঝা, খারাপ লাগা বুঝা দূরে থাক, সে আমার জন্য কিছুই করে না, বিয়ে যে নতুন কোনো রোমান্টিকতা নেই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ব্যতীত। সে বলেছে, মসজিদে যেয়ে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়তে হয়, ঈদের নামাজে এক রাস্তা দিয়ে যেয়ে আরেক রাস্তা দিয়ে ফেরত আস্তে হয় কারণ সামাজিক দায়িত্ব, অনেক মানুষই খোঁজ খবর নিয়ে হয়। তার এসব caring husband হবার সময় নেই।
যদিও সে কোনো ইনকাম এর চেষ্টা করে না পড়াশোনার পাশাপাশি, কোনো সোশ্যাল ওয়ার্ক করে না, কোনো কিছুতেই সে নেই। কিন্তু কথা বলার বেলায় এগুলা এক্সকিউজ।
আমি বলেছি মুসলিম নারী হিসেবে তোমার পিতা মাতার প্রতি যতটা দায়িত্ব, আমারও সমান, তাছাড়া আমি তো আমার পিতা মাতার বড় সন্তান, তবুও আমি স্বামী কে গুরুত্ব বেশি দিয়ে থাকি। আর সমাজে প্রতি কি নারীদের একেবারে দায়িত্ব নেই? তবুও তো স্বামী সংসার কে প্রায়োরিটি দিচ্ছি আমি।
সে আমাকে জানালো স্ত্রীর জন্য স্বামী আগে, কিন্তু স্বামীর জন্য স্ত্রী আগে না।
তার কথার প্রমাণ আমার কাছে আছে, সে লিখিত টেক্সট মেসেজ দিয়েছে
এখন এটা কি আসলেই ইসলাম সম্মত সে যা বলছে?
তাকে আমি কিভাবে বুঝাতে পারি? এমনিতে ধার্মিক লেবাস ধারি, নামাজ কালাম এর ব্যাপারে সিরিয়াস, কিন্তু যদি এই বুঝ হয়, এত অল্প বয়সে আমি তো আমার আবেগ ত্যাগ করে নিজের জীবন স্যাক্রিফাইস করে দিতে পারি না তার জন্য।
Answer
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক মর্যাদা ও দায়িত্ব: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
উত্তর (সংক্ষেপে): ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক দায়িত্ব, ভালোবাসা ও সম্মানের উপর প্রতিষ্ঠিত। স্বামীর জন্য স্ত্রীর কিছু নির্দিষ্ট হক (হুকুক) রয়েছে এবং স্ত্রীর জন্য স্বামীরও কিছু নির্দিষ্ট হক রয়েছে। তবে আপনার স্বামী যে বলছে "স্ত্রীর জন্য স্বামী আগে, কিন্তু স্বামীর জন্য স্ত্রী আগে না" — এটি ইসলামের সঠিক শিক্ষা নয়। বরং কুরআন-হাদীসে উভয়ের পারস্পরিক দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা সমান গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে। আপনার স্বামীর ভরণপোষণ না দেওয়া, আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করা এবং অপমান করা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় ও গুনাহের কাজ।
১. কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি: পারস্পরিক দায়িত্ব
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"আর নারীদের রয়েছে পুরুষদের উপর অধিকার, যেমন পুরুষদের রয়েছে নারীদের উপর অধিকার, ন্যায়সংগতভাবে।"
— (সূরা আল-বাকারা: ২২৮)
এই আয়াতটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একপাক্ষিক (one-sided) নয়; বরং পারস্পরিক (reciprocal)। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন:
"অর্থাৎ তাদের (স্ত্রীদের) উপর পুরুষদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদের উপরও তাদের অনুরূপ অধিকার রয়েছে — সদাচরণ, সহানুভূতি ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে।"
— (তাফসীর ইবনে কাসীর, ১/৬০৯)
মা'আরিফুল কুরআনে মুফতি মুহাম্মদ শাফী (রহ.) লেখেন:
"এই আয়াতটি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। উভয়ের দায়িত্ব-কর্তব্য পরস্পর সংযুক্ত।"
— (মা'আরিফুল কুরআন, ১/৫৪৭)
২. হাদীসের দৃষ্টিভঙ্গি
(ক) স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) প্রতি সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের প্রতি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।"
— (সুনানে তিরমিযী: ৩৮৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭ — হাসান সহীহ)
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন:
اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا
"নারীদের ব্যাপারে তোমাদেরকে সদাচরণের কঠোর নির্দেশ দিচ্ছি।"
— (সহীহ বুখারী: ৫১৮৬, সহীহ মুসলিম: ১৪৬৮)
(খ) স্বামীর দায়িত্ব: ভরণপোষণ (নাফাকা)
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো ন্যায়সংগতভাবে তাদের (স্ত্রীদের) খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।"
— (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
আল্লাহ আরও বলেন:
لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ
"সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে।"
— (সূরা আত-তালাক: ৭)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"তোমাদের উপর তাদের (স্ত্রীদের) অধিকার হলো — ন্যায়সংগতভাবে তাদের খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।"
— (সহীহ মুসলিম: ১২১৮)
ফাতাওয়া আলমগীরীতে আছে:
"স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ (নাফাকা) ওয়াজিব, যদি সে সামর্থ্যবান হয়।"
— (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৫৬৩)
রাদ্দুল মুহতারে ইবনে আবিদীন (রহ.) লেখেন:
"নাফাকা (ভরণপোষণ) নারীর অন্যতম মৌলিক অধিকার। স্বামী সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না দিলে সে গুনাহগার হবে এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে সে জালিম।"
— (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৫৭২)
(গ) স্ত্রীর প্রতি দুর্ব্যবহার নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।"
— (সূরা আন-নিসা: ১৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ
"তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসীর মতো বেত্রাঘাত না করে, অতঃপর দিনের শেষে তার সাথে সহবাস করে।"
— (সহীহ বুখারী: ৪৯৪২, সহীহ মুসলিম: ২৮৫৯)
ইমাম আত-তাহাবী (রহ.) তার শরহু মা'আনিল আছার-এ উল্লেখ করেন:
"স্ত্রীর সাথে সদাচরণ করা, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাকে অপমান না করা — এগুলো স্বামীর ইসলামী দায়িত্ব।"
— (শরহু মা'আনিল আছার, ২/৩৪৭)
৩. আপনার স্বামীর দাবির বিশ্লেষণ
দাবি: "স্ত্রীর জন্য স্বামী আগে, কিন্তু স্বামীর জন্য স্ত্রী আগে না"
এই দাবিটি ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে ভিত্তিহীন ও ভুল। কারণ:
প্রথমত: কুরআনের আয়াত (২:২২৮) সুস্পষ্টভাবে পারস্পরিক অধিকারের কথা বলে। আল্লাহ বলেননি যে শুধু স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার আছে; বরং উভয়ের উপর উভয়ের অধিকার রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত সদাচরণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا، وَكَانَ أَلْيَنَ النَّاسِ
"রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং মানুষের মধ্যে সর্বাধিক কোমল হৃদয়ের ছিলেন।"
— (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮৫)
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا، وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ
"ঈমানের দিক থেকে সর্বাধিক পূর্ণ মুমিন সে, যার চরিত্র সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম।"
— (সুনানে তিরমিযী: ১১৬২ — সহীহ)
চতুর্থত: ফাতাওয়া উসমানীতে মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) লেখেন:
"স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দায়িত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো পক্ষই একপাক্ষিকভাবে অপরের উপর জুলুম করতে পারে না।"
— (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩২১)
পঞ্চমত: ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লেখেন:
"স্বামীর জন্য স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ করা যেমন জরুরি, তেমনি স্ত্রীর জন্যও স্বামীর প্রতি সদাচরণ করা জরুরি। উভয়ের দায়িত্ব পরস্পর সম্পর্কিত।"
— (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৭৮)
৪. আপনার স্বামীর উপর আপনার হক (অধিকার)
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী আপনার স্বামীর উপর নিম্নলিখিত অধিকার রয়েছে:
| হক | বিস্তারিত | দলিল | |---|---|---| | ভরণপোষণ (নাফাকা) | খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান — সামর্থ্য অনুযায়ী | সূরা বাকারা: ২৩৩, ফাতাওয়া আলমগীরী ১/৫৬৩ | | সদাচরণ | ভালো ব্যবহার, সম্মান, অপমান না করা | সূরা নিসা: ১৯, সহীহ মুসলিম: ১২১৮ | | সময় ও মনোযোগ | স্ত্রীর প্রতি সময় দেওয়া, তার মনোভাব বোঝা | সহীহ বুখারী: ৫১৮৬ | | অন্তরঙ্গ সম্পর্কে সন্তুষ্টি | উভয়ের সম্মতিতে | সূরা বাকারা: ১৮৭ | | গোপনীয়তা রক্ষা | স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখা | সহীহ মুসলিম: ১৪৩৭ | | ন্যায়বিচার | একাধিক স্ত্রী থাকলে সমান আচরণ | সূরা নিসা: ৩ |
বাহিশতী যেওরে আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লেখেন:
"স্বামীর উপর স্ত্রীর হক হলো — তাকে খাওয়ানো, পরিধান করানো, ভালোবাসা ও সদাচরণ করা। তাকে অপমান করা বা তার সাথে দুর্ব্যবহার করা ইসলামে নিষিদ্ধ।"
— (বাহিশতী যেওর, বিবাহ অধ্যায়)
৫. আপনার করণীয় (ব্যবহারিক পরামর্শ)
(ক) ধৈর্য ও দু'আ
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ
"হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
আপনি নিম্নলিখিত দু'আটি বেশি বেশি পড়ুন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো এই দু'আটি:
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي زَوْجِي وَأَصْلِحْنِي لَهُ
(খ) যোগাযোগের পদ্ধতি
- শান্ত সময়ে কথা বলুন: রাগের মুহূর্তে নয়; বরং শান্ত পরিবেশে বসে কথা বলুন।
- লিখিতভাবে জানান: আপনার অনুভূতি লিখে জানান — এতে তিনি সহজে বুঝতে পারবেন।
- তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা: কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা পরিবারের সম্মানিত ব্যক্তিকে মধ্যস্থতা করতে বলুন।
- আবেগের বদলে দলিল: আপনার অনুভূতির সাথে সাথে কুরআন-হাদীসের দলিল দিন।
(গ) আপনার অধিকার আদায়ে শরীয়তের নির্দেশনা
যদি স্বামী ভরণপোষণ না দেয় এবং দুর্ব্যবহার করে, তাহলে ইসলামী শরীয়ত আপনাকে নিম্নলিখিত অধিকার দিয়েছে:
-
নাফাকা আদায়ের দাবি: আপনি শরীয়তের দৃষ্টিতে নাফাকা (ভরণপোষণ) দাবি করতে পারেন। ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
"স্বামী নাফাকা না দিলে স্ত্রী কাজী (আদালত)-এর মাধ্যমে তা আদায় করতে পারবে।" — (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৫৭২)
-
খুলা' (বিচ্ছেদ): যদি সম্পর্ক এতটাই অসহনীয় হয়ে যায় যে, আপনি আর ধৈর্য ধারণ করতে পারছেন না, তাহলে ইসলাম আপনাকে খুলা' (স্বামীর সম্মতিতে বিচ্ছেদ) বা আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের অধিকার দিয়েছে।
-
সালিশ (মধ্যস্থতা): আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا
"আর যদি তোমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তাহলে উভয় পরিবার থেকে একজন করে মধ্যস্থতাকারী পাঠাও।" — (সূরা আন-নিসা: ৩৫)
(ঘ) নিজের আবেগ ও আত্মসম্মান
আপনি বলেছেন — "এত অল্প বয়সে আমি তো আমার আবেগ ত্যাগ করে নিজের জীবন স্যাক্রিফাইস করে দিতে পারি না।" — এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ইসলামসম্মত। ইসলাম আপনার আবেগকে অস্বীকার করেনি; বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও রোমান্টিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করেছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ স্ত্রীদের সাথে কৌতুক করতেন, দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন, তাদের সাথে খেলাধুলা করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন:
"রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন।"
— (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৭৮)
সুতরাং স্বামীর কাছে ভালোবাসা, সময় ও মনোযোগ প্রত্যাশা করা আপনার ইসলামী অধিকার। এটি "অতিরিক্ত দাবি" নয়।