বিকাশ থেকে ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে
Business and Job · Hanafi
Question
Answer
বিকাশ থেকে ঋণ নিয়ে ফেলছি না জেনে এখন করণীয়
প্রশ্নের উত্তর
আপনি যদি বিকাশ থেকে অজান্তে ঋণ (যা সাধারণত সুদের ভিত্তিতে হয়) নিয়ে ফেলে থাকেন, তবে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আপনার করণীয় নিম্নরূপ:
করণীয় সমূহ:
১. তাওবা ও ইস্তিগফার
প্রথমত, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা করুন। কারণ সুদভিত্তিক লেনদেন কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষিত হয়েছে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: "আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং দানকে বৃদ্ধি করেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৬)
২. মূল ঋণের টাকা শোধ করুন
আপনি যে পরিমাণ মূল টাকা (প্রিন্সিপাল) নিয়েছেন, শুধু সেই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করুন। সুদ হিসেবে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা অবলম্বন
ভবিষ্যতে বিকাশ বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম থেকে সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কোনো লেনদেন করার পূর্বে ভালোভাবে জেনে নিন।
হানাফী ফিকহের নির্দেশনা
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, সুদভিত্তিক লেনদেন হারাম এবং তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা ওয়াজিব।
ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, "সুদের মাল নিজের জন্য ব্যবহার করা জায়েয নেই; বরং তা গরিবদের দান করে দিতে হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ৫/২১৩)
উল্লেখ্য যে, আপনি কত টাকা ঋণ নিয়েছেন? কী কী শর্তে? কত টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে? ইত্যাদি বিষয়ে অস্পষ্ট থাকায় বিস্তারিত উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
১. আপনি যদি ঋণ গ্রহণের সময় সুদ সম্বন্ধে না জেনে থাকেন, তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনার অজ্ঞতাকে ক্ষমা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ। ২. এখন থেকে যেকোনো আর্থিক লেনদেন ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী করার চেষ্টা করুন। ৩. প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংকিং বা সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ৪. অজ্ঞতার কারণে হলেও ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেন থেকে দূরে থাকুন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দিন। আমীন।