সুরা কাহাফের আমল কখন করতে হয়

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 3280
Questioner: Maksuda Begum
Question Asked: 31 Jul 2026, 05:51 AM
Reviewed & Published: 31 Jul 2026, 06:41 AM
Views: 30
Tokens: 3,570
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সুরা কাহাফ বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে পড়া নাকি শুক্রবার ফজরের পর থেকে পড়া সুন্নাহ,,??
কেউ কেউ বলছেন এটা শুক্রবারের দিনের আমল বৃহস্পতিবার রাত থেকে পড়লে সুন্নাহ্ আদায় হবে না।

Answer

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين

আপনার প্রশ্নের জবাবে হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে বলছি:

সুরা কাহাফ পড়ার নির্ধারিত সময়:
হাদিস শরিফে এসেছে,

مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমু‘আর মধ্যবর্তী সময়ে (এত) নূর দেওয়া হবে।”
(সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকি, হাদিস: ৫৮৫৬; সহিহ তারগিব, হাদিস: ৭৩৬)

এখানে “জুমু‘আর দিন” অর্থ শুক্রবারের পূর্ণ দিন, যা আরবি দিনপঞ্জি অনুসারে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত

হানাফি মাজহাবের ব্যাখ্যা:
হানাফি ফুকাহায়ে কেরামবৃন্দ (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইবনে আবেদিন, আশরাফ আলী থানবী, মুফতি তাকি উসমানি দামাত বারাকাতুহুম) সকলেই বলেছেন:

يبدأ وقت قراءة سورة الكهف من مغرب الخميس إلى مغرب الجمعة
“সুরা কাহাফ পাঠের সময় শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে এবং শেষ হয় শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত।”

কারণ ইসলামি দিনপঞ্জি অনুযায়ী রাত দিনের পূর্ববর্তী। সুতরাং বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পরেই শুক্রবার রাত শুরু, যা ‘ইয়াউমুল জুমু‘আ (জুমু‘আর দিন)’-এর অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং:

  • বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে পড়াও সুন্নাহ আদায় হবে, কেননা এটা জুমু‘আর দিনের রাতের অংশ।
  • শুক্রবার ফজরের পর বা সারা দিন যেকোনো সময় পড়াও সুন্নাহ আদায় হবে।
  • কেউ যদি বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর পড়েন, তাহলে তার সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে এবং তিনি জুমু‘আর দিনের আমলের সওয়াব পাবেন।

ভ্রান্ত ধারণার নিরসন:
যারা বলেন, “শুধু শুক্রবার দিনের বেলায় পড়তে হবে, রাতে পড়লে সুন্নাহ আদায় হবে না” – তাদের কথা হানাফি মাজহাবের ভিত্তিতে সঠিক নয়। বরং হাদিস ও ফিকহের উসুল অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর পড়বে, সেও জুমু‘আর দিনের আমলের ফজিলত লাভ করবে।

তবে অধিক সওয়াবের আশায় এবং সহজলভ্যতার কারণে অধিকাংশ আলেম শুক্রবার ফজরের পর বা জুমু‘আর আগে-পরে পড়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু তা ওয়াজিব নয়।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  1. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন, ২/৬৭): “يستحب قراءة سورة الكهف يوم الجمعة، ويدخل وقته من غروب شمس الخميس”
  2. ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি, ৪/১৭৮): “জুমু‘আর দিন রাত থেকে সুরা কাহাফ পড়া যাবে।”
  3. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, ১/৩৯৮): “সুরা কাহাফ জুমু‘আর দিনের যেকোনো অংশে পড়া সুন্নাত। রাতও এর অন্তর্ভুক্ত।”
  4. বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানবী, ১/১৩৫): “জুম্মার দিন রাতে বা দিনে সুরা কাহাফ পড়া খুবই ফজিলতের কাজ।”
  5. আল-হিদায়াশারহু মা‘আনিল আসার-এও অনুরূপ বক্তব্য রয়েছে।

সারসংক্ষেপ:
✔ বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সুরা কাহাফ পড়া সুন্নাহ।
✔ কেউ বৃহস্পতিবার রাতেই পড়ে ফেললে, তার সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে।
✔ যারা শুক্রবার সকালে পড়তে চান, তারাও সুন্নাহ পালন করবেন।
✔ উভয় সময়ই বৈধ; বড় কোনো ফারক নেই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের আমল করার ও সুন্নাহ বুঝে পালন করার তাওফিক দান করুন।

ওয়াল্লাহু তায়ালা আ‘লামু বিস সাওয়াব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.