হারাম রিলেশন পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে।
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি একজন হেদায়েত পাওয়া মেয়ে।আমার বয়স ১৮। দ্বীনে ফেরার আগে এক ছেলের সাথে
রিলেশনে ছিলাম, দ্বীনে ফেরার পরেও আছি।আমি হাজার বার চেষ্টা করেছি হারাম রিলেশন থেকে বের হতে কিন্তু কোনোভাবেই পারি নি,যোগাযোগ এর সকল মাধ্যমও বন্ধ করেছি তারপরও আমি পারি নাহ যোগাযোগ না করে থাকতে।এক কথায় আমি তাকে কোনোভাবেই ভুলতে পারি নাহ,আর যোগাযোগও আমি করি।সে আমায় খুব ভালোবাসে তার মায়ায় আটকে পড়েছি আমি।
তার সাথে আগে আমার তেমন দেখা হত নাহ, শুধু যোগাযোগ হত।শয়তান আমাকে এমন বানিয়েছে যে তার সাথে দেখাও করেছি বেশ কয়েকদিন।কিন্তু কিছুদিন আগে আমি খুবই খারাপ কাজ করে ফেলেছি তার সাথে তার বাসায় গিয়েছি আর তার রুমে থেকেছি।খারাপ কিছু করি নি,কিন্তু অনেককিছুই করে ফেলেছি আমরা।আমায় হাগ করেছে, সে যা যা করেছে বোরকার উপরেই করেছে আমার সাথে।
এই কাজ করার পরে আমার নিজের প্রতি অনেক ঘিন্না হচ্ছে।যে আমি একজন হেদায়েত পাওয়া মেয়ে তাও এত খারাপ কাজ করলাম,একটা ছেলের বাসায় চলে গিয়েছি।আল্লাহুম্মাগফিরলি।
সে ছেলে আমায় পাগলের মত ভালোবাসে।তার মা আর মামির সামনে আমায় নিয়ে গিয়েছে।সে আমায় বিয়ে করতে চায়। কিন্তু সে দ্বীনদার নাহ।
আবার সে বিদেশ চলে যাবে, সে এবং তার ফেমিলি বলেছে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে কারণ সে ৩ বছর পর আসবে,এসে আমায় বিয়ে করবে।এদিকে সে আমায় পাগলের মত ভালোবাসে,মজার ছলেই বলে যে আমায় না পেলে সে মরে যাবে,পরে দোষ আমার দিবে।
আমি মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি,কীভাবে এই হারাম রিলেশন থেকে বের হতে পারি।
আমার ফেমিলি আবার আমায় ওই ছেলের সাথে বিয়ে দিবে নাহ।
আচ্ছা মানলাম বিয়ে দিবে নাহ,কিন্তু আমাকে এখন কারও সাথেই বিয়ে দিবে নাহ।কিন্তু আমার যে বিয়ে করা উচিত। বিয়ে ফরজ আমার জন্য। অনেক একাকিত্ব এ ভুগি আমি।
আমি কি করব।
আমি আমার হেদায়েত হারিয়ে ফেলেছি।
একদমই নেই আর হেদায়েত আমার
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
একজন ১৮ বছর বয়সী মুসলিম বোন জানতে চেয়েছেন—তিনি দ্বীনে ফেরার আগে এক ছেলের সাথে হারাম প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, দ্বীনে ফেরার পরও সেই সম্পর্ক চলছে। তিনি বারবার বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি। একপর্যায়ে তিনি সেই ছেলের বাসায় গিয়েছেন এবং তার রুমে সময় কাটিয়েছেন (যদিও সরাসরি যিনা হয়নি, তবে হারাম স্পর্শ ও নৈকট্য হয়েছে)। এখন তিনি নিজের প্রতি ঘৃণা অনুভব করছেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। ছেলেটি তাকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু সে দ্বীনদার নয়, এবং ৩ বছর বিদেশে থাকবে। পরিবারও তাকে ওই ছেলের সাথে বিয়ে দেবে না, আবার অন্য কোথাওও এখন বিয়ে দিচ্ছে না। তিনি জানতে চান—কীভাবে এই হারাম সম্পর্ক থেকে বের হবেন এবং কী করবেন?
ভূমিকা: আপনার অবস্থা সম্পর্কে সমবেদনা ও সতর্কতা
প্রিয় বোন, প্রথমে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—আপনি হেদায়েত হারাননি। হেদায়েত হারানোর লক্ষণ হলো—গুনাহকে গুনাহ না মনে করা, তাওবা করার ইচ্ছা না থাকা, এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা না থাকা। কিন্তু আপনি নিজের গুনাহকে গুনাহ মনে করছেন, নিজের প্রতি ঘৃণা অনুভব করছেন, আল্লাহুম্মাগফিরলি বলছেন, এবং বের হওয়ার পথ খুঁজছেন—এটাই প্রমাণ যে আল্লাহ তা'আলা আপনার অন্তরে ঈমান ও হেদায়েতের নূর রেখেছেন। শয়তান আপনাকে নিরাশ করার চেষ্টা করছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
"বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনিই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" — (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
প্রথম বিষয়: হারাম সম্পর্কের বিধান
ক. প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক ইসলামে নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
"আর তোমরা যিনার নিকটেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩২)
এখানে "তোমরা যিনার নিকটেও যেয়ো না" —অর্থাৎ যিনার দিকে নিয়ে যায় এমন সব কিছু থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক, নির্জনে সাক্ষাৎ, অবৈধ কথাবার্তা, স্পর্শ—সবই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ
"কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না, তবে তাদের তৃতীয়জন হবে শয়তান।" — (সুনানে তিরমিজি: ১১৬৫, হাসান সহিহ)
আপনি যে ছেলের বাসায় গিয়েছেন এবং তার রুমে সময় কাটিয়েছেন—এটি খালওয়া (নির্জন মিলন) যা সুস্পষ্ট হারাম। এমনকি যদি যিনা না-ও হয়ে থাকে, তবুও এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। ফকিহগণ বলেন, খালওয়ায় শয়তান উপস্থিত থাকে এবং সে ধীরে ধীরে মানুষকে যিনার দিকে নিয়ে যায়।
খ. আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যা ঘটেছে তার বিধান
আপনি লিখেছেন—"খারাপ কিছু করি নি, কিন্তু অনেককিছুই করে ফেলেছি আমরা। আমায় হাগ করেছে, সে যা যা করেছে বোরকার উপরেই করেছে আমার সাথে।"
এখানে স্পষ্টতই স্পর্শ, চুম্বন, আলিঙ্গন ইত্যাদি হারাম কাজ সংঘটিত হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এগুলোকে বলা হয় "যিনার অঙ্গসমূহ"। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكٌ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ
"আদম সন্তানের উপর যিনার অংশ লেখা হয়ে গেছে, যা সে অবশ্যই পাবে। চোখের যিনা হলো দেখা, কানের যিনা হলো শোনা, জিহ্বার যিনা হলো কথা বলা, হাতের যিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হলো চলা, এবং অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা করে—আর লজ্জাস্থান তা সত্য করে অথবা মিথ্যা করে।" — (সহিহ বুখারি: ৬২৪৩, সহিহ মুসলিম: ২৬৫৭)
অতএব, আপনার কর্তব্য হলো—আন্তরিক তাওবা করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা।
দ্বিতীয় বিষয়: এই সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার উপায়
আপনি বলেছেন—"হাজার বার চেষ্টা করেছি, পারি নি।" এটি শয়তানের একটি বড় ফাঁদ। শয়তান মানুষকে এই বিশ্বাস করায় যে—"তুমি পারবে না, তুমি দুর্বল, তোমার দ্বারা হবে না।" কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেন।" — (সূরা আত-তালাক: ২)
বের হওয়ার ব্যবহারিক পদক্ষেপ:
১. সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করুন (No Contact Rule):
- তার নম্বর ব্লক করুন, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম—সব সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাকে ব্লক ও ডিলিট করুন।
- তার ছবি, চ্যাট, উপহার—সবকিছু ডিলিট করুন।
- তাকে বলুন—"আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি, আমাদের এই সম্পর্ক হারাম। আর কখনো যোগাযোগ করব না।"
- একবার বলেই সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করুন। বারবার "শেষ কথা" বলার জন্য যোগাযোগ করবেন না—এটি শয়তানের ধোঁকা।
২. দুআ করুন—বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়:
- আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। আল্লাহ তা'আলা বলেন: "আমি কি তোমাদের ডাকে সাড়া দিই না?" (সূরা গাফির: ৬০)
- এই দুআটি বেশি পড়ুন: اللَّهُمَّ اصْرِفْ عَنِّي شَرَّ نَفْسِي (হে আল্লাহ! আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন)
- এবং: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي (আবু দাউদ: ১৫৫১)
৩. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন:
- কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দ্বীনি ইলম অর্জন—এগুলোতে নিজেকে নিয়োজিত করুন।
- দ্বীনি পরিবেশে সময় কাটান—মহিলাদের দ্বীনি মজলিস, হিফজ ক্লাস ইত্যাদি।
- শারীরিক ব্যায়াম, পড়াশোনা, পরিবারের কাজ—নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
৪. তার হুমকি বা আবেগপ্রবণ কথায় বিভ্রান্ত হবেন না:
- "তুমি না পেলে আমি মরে যাব"—এটি শয়তানের একটি ফাঁদ। আপনি কারো মৃত্যুর জন্য দায়ী নন। প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু আল্লাহর হাতে।
- সে যদি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসে, তবে সে আপনার দ্বীন ও আখিরাতের কল্যাণ চাইবে—আপনাকে হারামে ডুবিয়ে রাখবে না।
- মনে রাখবেন: হারাম সম্পর্কে থাকা মানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা।
৫. তাওবা করুন—আন্তরিক ও দৃঢ় সংকল্পসহ:
- তাওবার শর্ত: (ক) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (খ) গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, (গ) আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা, (ঘ) কারো হক নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া।
- আপনার ক্ষেত্রে—এই সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করা এবং ভবিষ্যতে এমন সম্পর্কে না জড়ানোর দৃঢ় সংকল্প করা।
তৃতীয় বিষয়: বিয়ের বিষয়টি
আপনি বলেছেন—"বিয়ে ফরজ আমার জন্য। অনেক একাকিত্বে ভুগি আমি।"
ক. বিয়ে কি ফরজ?
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিয়ে সাধারণত সুন্নত মুয়াক্কাদা। তবে যদি কোনো ব্যক্তির যিনার আশঙ্কা হয় এবং বিয়ে না করলে হারামে পতিত হওয়ার ভয় থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত হলো—যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে এবং যিনার ভয় আছে, তার জন্য বিয়ে করা কর্তব্য।
ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তির যিনার আশঙ্কা হয়, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব।" — (রাদ্দুল মুহতার: ৩/৫)
আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এবং আপনার নফস আপনাকে বারবার সেই দিকে টানছে—আপনার জন্য বিয়ে করা অত্যন্ত জরুরি।
খ. ওই ছেলের সাথে বিয়ে করা কি জায়েজ?
প্রথমত: সে দ্বীনদার নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ
"যখন তোমাদের কাছে এমন কেউ আসে যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তাকে বিয়ে দাও।" — (সুনানে তিরমিজি: ১০৮৪)
দ্বীনদার না হলে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তবে যদি সে সত্যিই তাওবা করে, দ্বীনদার হয়ে যায়, নামাজ-রোজা পালন শুরু করে—তাহলে বিয়ে করা যেতে পারে। কিন্তু শুধু "ভালোবাসে" এই কারণে দ্বীনদার না হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে করা ঠিক নয়।
দ্বিতীয়ত: ৩ বছর অপেক্ষা করা—এই সময়ে আপনি হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে থাকবেন—এটি সম্পূর্ণ হারাম। এই ৩ বছরে আপনি তাকে বিয়ে না করেই তার সাথে সম্পর্ক রাখলে তা যিনার দিকে নিয়ে যাবে। এটি কখনো জায়েজ নয়।
তৃতীয়ত: তার পরিবার আপনাকে মেনে নিয়েছে—এটি ভালো, কিন্তু দ্বীনদারিতা ছাড়া বিয়ে করলে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতির আশঙ্কা।
গ. আপনার করণীয়:
১. তাকে স্পষ্ট বলুন: "আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি। আমাদের এই সম্পর্ক হারাম। তুমি যদি সত্যিই আমাকে বিয়ে করতে চাও, তবে এখনই পরিবারের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দাও। ৩ বছর অপেক্ষা করে হারাম সম্পর্কে থাকা আমার জন্য জায়েজ নয়। আর যদি তুমি দ্বীনদার না হও, তবে আমি তোমার সাথে বিয়ে করতে পারব না।"
২. যদি সে এখনই বিয়ে করতে না পারে: তবে তাকে বলুন—"তুমি চলে যাও, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব না। যদি আল্লাহ আমাদের একসাথে করার ইচ্ছা করেন, তবে তিনি পথ করে দেবেন। কিন্তু আমি হারাম সম্পর্কে থাকব না।"
৩. পরিবারকে জানান: আপনার পরিবারকে বলুন—"আমি বিয়ে করতে চাই। আমার জন্য দ্বীনদার পাত্র খুঁজে দিন।" যদি পরিবার না শোনে, তবে বিশ্বস্ত কোনো দ্বীনি ব্যক্তি বা ইমামের মাধ্যমে পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
৪. দ্বীনদার পাত্রের জন্য দুআ করুন: আল্লাহর কাছে দুআ করুন—رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ (হে আমার রব! আমি আপনার নিকট থেকে যা কল্যাণ আসে তার মুখাপেক্ষী) — (সূরা আল-কাসাস: ২৪)
চতুর্থ বিষয়: মানসিক চাপ ও একাকিত্ব
আপনি বলেছেন—"আমি মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি।" এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। হারাম সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার সময় মানসিক চাপ হয়—এটি শয়তানের একটি অস্ত্র। কিন্তু মনে রাখবেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
"জেনে রাখো, আল্লাহর যিকিরেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।" — (সূরা আর-রাদ: ২৮)
ব্যবহারিক পরামর্শ:
- প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে বা সময়মতো পড়ুন।
- প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট কুরআন তিলাওয়াত করুন—অর্থ বুঝে।
- সকাল-সন্ধ্যার যিকির ও দুআ পড়ুন।
- প্রয়োজনে একজন দ্বীনদার, বিশ্বস্ত মহিলার সাথে কথা বলুন—যিনি আপনাকে দ্বীনি পরামর্শ দিতে পারবেন।
- যদি মানসিক চাপ অতিরিক্ত হয়, তবে একজন দ্বীনদার মুসলিম কাউন্সেলর বা ডাক্তারের সাহায্য নিন—এতে শরিয়তের কোনো বাধা নেই।