রুকইয়াহ অডিও শোনা কি বিদআত?
Sunnah and Bid'ah · Ahle Hadith / Salafi
Question
১)রুকইয়াহ অডিও শোনা কি বৈধ?
যদি এটাকে সুন্নাহ না মনে করি এবং রুকইয়াহর একটি উপকরণ হিসেবে দেখি তাহলে কি অডিও শোনা বিদআত হবে?
এখানে একটা লিখা দিচ্ছি যেখানে অডিও শোনাকে বিদআত বলা হচ্ছে। Mahfuj Ibn Delowar:
পেশাদার রাকীদের বাটপারির অন্যতম আরেকটি অংশ হচ্ছে অনলাইনে রুকইয়াহ করানো। দুরের রুগীদের কম খরচের কথা বলে বিকাশে, নগদে কিছু টাকা নিয়ে whats app গ্রুপ খুলে ৩০/৪০ জনকে অডিও/ভিডিও কলে এনে রুকইয়াহর নামে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করে শুনায়।
অথবা অনলাইনে রুকইয়াহর নামে প্রবাসী ভাই বোনদের থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দা।
আহলুস সুন্নাহর আলেমদের মতে ক্যাসেট, রেডিও বা ফোনের মাধ্যমে রুকইয়াহ করা শরীয়তসম্মত নয় এবং তা জায়েজ নেই।
কারন রুকইয়াহর অর্থ হচ্ছে একজন রাকী তিনি আল্লাহর কালাম থেকে বিভিন্ন অংশ রুগীর সামনে তিলাওয়াত করবে এবং কিছু দুআ করবে তারপর রুগীকে সাধারন ফু দিবে আবার থুথুমিশ্রিত ফু দেবেন। অনলাইনে মানে ফোনে রুকইয়াহ করালে রুগী পর্যন্ত ফু পোছায় না তাই আলেমরা অনলাইনে রুকইয়াহ করার বিপক্ষে এবং জায়েজ নেই বলেছেন।
শাইখ আল আল্লাহমা, আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ হাফিযাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো এই (অনলাইনে রুকইয়াহ) বিষয়। নিচে প্রশ্ন উত্তরটি উল্লেখ করছি
প্রশ্নকারী বলছেন:
ফোনের মাধ্যমে কি রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) করা শরীয়তসম্মত? যাতে ঝাড়ফুঁককারী এক স্থানে থাকবে এবং যাকে ঝাড়ফুঁক করা হচ্ছে সে অন্য স্থানে থাকবে, আর ফু (বায়ু) সেখানে গিয়ে পৌঁছাবে?
শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হাফিযাহুল্লাহ উত্তরে বলেন:
আমি বলি: ফু কি যাকে ঝাড়ফুঁক করা হচ্ছে তার কাছে পৌঁছাবে?! অর্থাৎ আমি বলছি, এটি... এটি জামানার (যুগের) এক আশ্চর্য ঘটনা! কারণ রুকইয়াহর মূল ভিত্তিই হলো ফু দেওয়া, এটি তো আর কেবল সাধারণ তেলাওয়াত করা নয় যে শুধু কণ্ঠস্বর এবং পাঠ শোনা যাবে। বরং (রুকইয়াহ হলো) ঝাড়ফুঁককারীর থেকে নির্গত ফু, যা রোগীর ওপর গিয়ে পড়ে। হ্যাঁ।
সূত্র: অনলাইনে প্রচার হওয়া একটি অডিও বক্তব্য থেকে।
রুকইয়াহ ব্যবসায় যেহতু বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায় সাধারন রুগীদের থেকে তাই দুষ্টি রাকীরা শাইখ হাফিযাহুল্লাহর এই কথাকে কানেই নিবে না এটাই সাভাবিক। টাকা এমন এক জিনিস যা অনেক বিচক্ষণ মানুষাকে অন্ধ বোবা করে তুলে যদিও ব্যাক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ।
তাই আমরা যতই সুন্নাহর আলেমদের ফতোয়া নসিহা পেশ করিনা কেনো রুকইয়াহ ব্যবসায়ীরা তা গ্রহণ করবে না।
মহান আল্লাহ বলেন, তুমি যাকে ভালোবাস তাকেই হেদায়েত করতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়েত দান করেন। আর তিনিই ভালো জানেন কারা হেদায়েতপ্রাপ্ত।
(সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬
আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনোই তার জন্য কোনো সাহায্যকারী বা পথপ্রদর্শক পাবে না।
(সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১৭)
তাই শেষ করার আগে অনলাইনে রুকইয়াহ করানো সম্পর্কে সুন্নাহর আলেমদের ফতোয়া উপস্থাপন করবো ইন শা আল্লাহ।
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন রহিমাহুল্লাহর কাছে রেকর্ড করা কুরআন বা ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন:
রেকর্ড করা সাউন্ড বা ফোনের মাধ্যমে যা শোনা যায় তাকে 'রুকইয়াহ' বলা যাবে না। কারণ রুকইয়াহর সাথে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি, সওয়াব ও চিকিৎসার নিয়ত এবং সরাসরি ফুঁ দেওয়ার আমল যুক্ত থাকে। তবে ক্যাসেট বা ফোনে কুরআন শুনলে কুরআনের সাধারণ বরকত পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা শরঈ রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য হবে না।"
সোর্স: ফাতাওয়া নূরুন আলা আদ-দারব (فتاوى نور على الدرب), শায়খ ইবনে উসাইমীন, রেকর্ডিং/ক্যাসেট নম্বর: ৩৭১।
শায়খ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ অনলাইনে, ইন্টারনেটে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে বা মোবাইল কলে রুকইয়াহ করাকে তিনি দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবন (বিদআত) ও বাণিজ্যিক অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো বলেন: রুকইয়াহ হলো একটি প্রত্যক্ষ ইবাদত ও শরঈ চিকিৎসা। একে অনলাইনে দূরবর্তী সেবায় রূপান্তর করা শরীয়তসম্মত নয়। রাকী ও রোগীর শারীরিক উপস্থিতি রুকইয়াহর অপরিহার্য শর্ত।
সোর্স: আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওজান (المنتقى من فتاوى الفوزان), খণ্ড: ২, ফতোয়া নম্বর: ১৭৩ (এছাড়াও তাঁর অফিসিয়াল অডিও ফতোয়া সিরিজ: আস-ইলাহ আল-আম্মাহ)।
শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ রহিমাহুল্লাহ ফোন বা রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে রুকইয়াহ করার বিষয়ে তিনি বলেন: টেলিফোন, অডিও ক্যাসেট বা দূরবর্তী মাধ্যমের সাহায্যে রুকইয়াহ করা রুকইয়াহর শরঈ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ রুকইয়াহর মূল ভিত্তি হলো ঝাড়ফুঁককারীর উপস্থিতি, সরাসরি নিয়ত এবং রোগীর ওপর সরাসরি ফুঁ দেওয়া। সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমদের) যুগে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।"
সোর্স: মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওউইআহ (مجموع فتاوى ومقالات متنوعة), শায়খ বিন বাজ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৪৭-৩৪৮ (অধ্যায়: العلاج بالرقية)।
সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء) এর ফতোয়া হচ্ছে,
ক্যাসেট, রেডিও বা ফোনের মাধ্যমে রুকইয়াহ করা শরীয়তসম্মত নয় এবং তা জায়েজ নেই। রুকইয়াহর জন্য শর্ত হলো রাকী (ঝাড়ফুঁককারী) সরাসরি রোগীর কাছে উপস্থিত থাকবেন, নিবেশিত নিয়তে তিলাওয়াত করবেন এবং রোগীর ওপর বা আক্রান্ত স্থানে সরাসরি 'নফছ' (النَفْث - হালকা থুথুমিশ্রিত ফুঁ) দেবেন। লাউডস্পিকার, ফোন বা রেকর্ডিংয়ে যে আওয়াজ আসে তা সরাসরি তিলাওয়াত ও দমের বিকল্প হতে পারে না।
সোর্স: ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ (فتاوى اللجنة الدائمة), ফতোয়া নম্বর: ১৬৬৬৯ (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৯০-৯২) এবং ফতোয়া নম্বর: ২০০৩৭।
আমাদের সাধারনদের জন্য উচিৎ হচ্ছে নিজে খেয়াল খুসি বা আকলের কথাকে প্রাধান্য না দিয়ে আলেমদের কথা শুনা এবং তা মেনে চলা যেমনটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
"একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর (আল্লাহ ও নেতার নির্দেশ) শোনা ও মেনে চলা (السمع والطاعة) আবশ্যক তার পছন্দনীয় বিষয়ে হোক বা অপছন্দনীয় বিষয়ে হোক; যতক্ষণ না তাকে কোনো গুনাহ বা পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে যখন কোনো গুনাহর আদেশ দেওয়া হয়, তখন আর কোনো শোনাও নেই, মানাও নেই।"
(সহীহ বুখারী: ৭১৪৪, সহীহ মুসলিম: ১৮৩৯)
আমরা বিশ্বাস করি, ইমানদারের জন্য রয়েছে জান্নাত সমূহ এবং রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছে সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫ ও সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯ তে। মহান আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।
✍🏻 মাহফুজ ইবনে দেলোয়ার
২) কুরআন ও হাদিসে সরাসরি পাওয়া যায়নাএমন কোন পরিক্ষীত রুকইয়াহ আমল যা রাক্কী আমাকে চিকিৎসা স্বরুপ করতে বলেছেন তা করা কি বিদআত হবে? যদিও আমি একে সুন্নাহ মনে করছি না। যেমন :আয়াতুল হারক জিনকে পুড়িয়ে ফেলার নিয়তে শোনা,যাদু নষ্টের জন্য বরই পাতার গোসল (এটা হাদীসে আছে কিনা জানা নাই),কুরআন ও দুয়া পড়া অলিভ অয়েল সারা শরীরে মাখা।এগুলো কি বিদআত?
বড় হওয়ার জন্য আফওয়ান।
Answer
রুকইয়াহ অডিও শোনা এবং অপরীক্ষিত রুকইয়াহ আমল সম্পর্কে বিধান
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথম প্রশ্ন: রুকইয়াহ অডিও শোনা কি বৈধ?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: রুকইয়াহ অডিও শোনা বা অনলাইনে/ফোনে রুকইয়াহ করানো শরীয়তসম্মত নয়। এটি প্রকৃত রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে কুরআন তিলাওয়াত শোনা সাধারণভাবে সওয়াবের কাজ, কিন্তু তা রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য নয়।
দলিল ও আলেমদের মত:
১. শায়খ ইবনে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"রেকর্ড করা সাউন্ড বা ফোনের মাধ্যমে যা শোনা যায় তাকে 'রুকইয়াহ' বলা যাবে না। কারণ রুকইয়াহর সাথে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি, সওয়াব ও চিকিৎসার নিয়ত এবং সরাসরি ফুঁ দেওয়ার আমল যুক্ত থাকে। তবে ক্যাসেট বা ফোনে কুরআন শুনলে কুরআনের সাধারণ বরকত পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা শরঈ রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য হবে না।"
সূত্র: ফাতাওয়া নূরুন আলা আদ-দারব, রেকর্ডিং নম্বর: ৩৭১
২. শায়খ সালিহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
"রুকইয়াহ হলো একটি প্রত্যক্ষ ইবাদত ও শরঈ চিকিৎসা। একে অনলাইনে দূরবর্তী সেবায় রূপান্তর করা শরীয়তসম্মত নয়। রাকী ও রোগীর শারীরিক উপস্থিতি রুকইয়াহর অপরিহার্য শর্ত।"
সূত্র: আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওজান, খণ্ড: ২, ফতোয়া নম্বর: ১৭৩
৩. শায়খ ইবনে বাজ রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"টেলিফোন, অডিও ক্যাসেট বা দূরবর্তী মাধ্যমের সাহায্যে রুকইয়াহ করা রুকইয়াহর শরঈ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ রুকইয়াহর মূল ভিত্তি হলো ঝাড়ফুঁককারীর উপস্থিতি, সরাসরি নিয়ত এবং রোগীর ওপর সরাসরি ফুঁ দেওয়া। সালাফদের যুগে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।"
সূত্র: মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওউইআহ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৪৭-৩৪৮
৪. সৌদি স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (اللجنة الدائمة) এর ফতোয়া:
"ক্যাসেট, রেডিও বা ফোনের মাধ্যমে রুকইয়াহ করা শরীয়তসম্মত নয় এবং তা জায়েজ নেই। রুকইয়াহর জন্য শর্ত হলো রাকী সরাসরি রোগীর কাছে উপস্থিত থাকবেন, নিবেশিত নিয়তে তিলাওয়াত করবেন এবং রোগীর ওপর বা আক্রান্ত স্থানে সরাসরি 'নফছ' (النَفْث - হালকা থুথুমিশ্রিত ফুঁ) দেবেন।"
সূত্র: ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ফতোয়া নম্বর: ১৬৬৬৯ এবং ২০০৩৭
মূল কারণ:
রুকইয়াহর মূল ভিত্তি হলো:
- রাকীর সরাসরি উপস্থিতি — রোগীর সামনে থাকা
- সরাসরি তিলাওয়াত — নিবেশিত নিয়তে
- সরাসরি নফছ (ফুঁ) — রোগীর ওপর বা আক্রান্ত স্থানে
অডিও/ফোনে এই শর্তগুলো পূরণ হয় না। তাই এটি প্রকৃত রুকইয়াহ নয়।
তবে: আপনি যদি অডিও শোনাকে রুকইয়াহ হিসেবে না দেখে শুধু কুরআন তিলাওয়াত শোনার নিয়তে শোনেন, তাহলে সেটি সাধারণ কুরআন শোনার সওয়াব পাবেন — কিন্তু রুকইয়াহ হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি আপনি এটাকে রুকইয়াহর উপকরণ/পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বাস করেন এবং সুন্নাহ মনে করেন, তাহলে তা বিদআত হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: অপরীক্ষিত রুকইয়াহ আমল করা কি বিদআত?
মূলনীতি: রুকইয়াহ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর প্রমাণিত দলিল। যা প্রমাণিত নয়, তা দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজন (বিদআত)।
আপনার উল্লেখিত আমলগুলোর বিধান:
১. আয়াতুল হারক জিনকে পুড়িয়ে ফেলার নিয়তে শোনা:
- কুরআন তিলাওয়াত নিজে জায়েজ, কিন্তু নির্দিষ্ট নিয়ত ও পদ্ধতি যদি হাদিসে প্রমাণিত না হয়, তাহলে তা বিদআত।
- জিন পোড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা/আয়াতের প্রমাণ সহীহ হাদিসে নেই।
২. বরই পাতার গোসল (যাদু নষ্টের জন্য):
- কিছু বর্ণনা আছে, তবে সেগুলোর সনদ দুর্বল। শায়খ আল-আলবানী রহিমাহুল্লাহ এগুলোকে ضعيف বলেছেন।
- সহীহ হাদিসে যাদু নষ্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে বরই পাতার গোসলের প্রমাণ নেই।
৩. কুরআন ও দুআ পড়ে অলিভ অয়েল সারা শরীরে মাখা:
- এটি জায়েজ। কারণ রাসূল ﷺ নিজে তেল ব্যবহার করতেন এবং কুরআন পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নাহ।
- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: রাসূল ﷺ নিজের ওপর মুআওবিযাত পড়ে ফুঁ দিতেন। (সহীহ বুখারী: ৫০১৭)
- তবে নির্দিষ্ট কোনো সূরা/দুআ নির্দিষ্ট রোগের জন্য — এটা যদি হাদিসে প্রমাণিত না হয়, তাহলে তা বানানো নিয়ম।
গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি:
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সংযোজন করবে যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"
(সহীহ বুখারী: ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম: ১৭১৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
"রাসূল ﷺ আমাদেরকে মধ্যমপন্থী পথ দেখিয়েছেন।" (সুনানে আবু দাউদ)
সিদ্ধান্ত:
| আমল | বিধান | |------|--------| | অডিও/ফোনে রুকইয়াহ | জায়েজ নয় (রুকইয়াহ হিসেবে) | | কুরআন শোনা (সাধারণ) | জায়েজ | | প্রমাণিত রুকইয়াহ (সরাসরি) | সুন্নাহ | | অপ্রমাণিত পদ্ধতি (বরই পাতা, নির্দিষ্ট আয়াত) | বিদআত | | কুরআন পড়ে তেল মাখা | জায়েজ (সাধারণভাবে) |
পরামর্শ:
- প্রমাণিত রুকইয়াহ করুন — সরাসরি, রাকীর উপস্থিতিতে
- অপ্রমাণিত পদ্ধতি পরিহার করুন — যা হাদিসে নেই
- আলেমদের পরামর্শ নিন — বিশেষ করে আহলুস সুন্নাহর
- টাকার লোভে প্রতারিত হবেন না — অনেক রাকী ব্যবসার জন্য ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করে
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"তুমি যাকে ভালোবাস তাকেই হেদায়েত করতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়েত দান করেন।"
(সূরা আল-কাসাস: ৫৬)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।