সরকারি কাজ কোম্পানিকে পাইয়ে দেয়ার জন্য মিডিয়া মানি নেয়া কি জায়েয?

Business and Job · Hanafi

Question No: 3250
Questioner: barakah
Question Asked: 30 Jul 2026, 02:17 PM
Reviewed & Published: 30 Jul 2026, 03:10 PM
Views: 10
Tokens: 5,574
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সরকারি রাস্তাঘাট, বিল্ডিং, বালুভরাট কিংবা নানাবিধ অবকাঠামোগত কাজের জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে বরাদ্দকৃত বাজেট আসে। এমতাবস্থায় সংস্থাগুলো কাজগুলো পটেনশিয়াল কোম্পানিদের কাছে হস্তান্তর করে। এক্ষেত্রে একটি কাজ আসার পরে তারা যোগ্য কোম্পানি অনুসন্ধান করে। এক্ষেত্রে যদি কোন কোম্পানিকে সে কাজ বুঝে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ সাধন করে দেয়া হয় এবং যদি পরবর্তীতে যদি তারা কাজটি পায় তাহলে কাজের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট হতে কিছু টাকা মিডিয়া মানি বা মধ্যস্থতা খরচ হিসেবে দাবি করে, সেক্ষেত্রে এই টাকা গ্রহণ করা যায়েজ হবে কি?

Answer

সরকারি কাজের মধ্যস্থতা বাবদ টাকা নেওয়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বরাদ্দকৃত বাজেটের কাজ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো ব্যক্তি যদি একটি কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে সেই কোম্পানি কাজটি পাওয়ার পর বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে কিছু টাকা মিডিয়া মানি বা মধ্যস্থতা খরচ হিসেবে দাবি করে, তবে তা গ্রহণ করা জায়েজ কি না?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

স্মরণ রাখতে হবে: ইসলামী শরীয়তে কাজের মধ্যস্থতা (সুফারাদা) জায়েজ এবং এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও জায়েজ, তবে কিছু শর্ত ও সীমারেখার মধ্যে।

১. মধ্যস্থতার বৈধতা ও শর্তাবলী

ইসলামে মধ্যস্থতা দুই প্রকার:

ক) প্রশংসনীয় মধ্যস্থতা (শাফাআত হাসানা): যা কোনো বৈধ কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে। যেমন, কাউকে চাকরি বা ব্যবসায়িক সুযোগ এনে দেওয়া। এ ধরনের মধ্যস্থতার জন্য পূর্বনির্ধারিত পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ।

খ) নিন্দনীয় মধ্যস্থতা (শাফাআত সাইয়্যিআ): যা কোনো হারাম বা অন্যায় কাজে সহায়তা করে। যেমন, ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়া। এটা সম্পূর্ণ হারাম।

মিডিয়া মানি বা মধ্যস্থতা খরচ গ্রহণের বৈধতা নির্ভর করে নিম্নোক্ত শর্তগুলোর উপর:

শর্ত ১: মধ্যস্থতা যেন ঘুষ বা দুর্নীতির পথ না হয়

যদি মধ্যস্থতার মাধ্যমে অযোগ্য কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয় বা প্রতিযোগিতায় অগ্রাধিকার দিতে প্রভাবিত করা হয়, তাহলে তা ঘুষ (রিশওয়াত) হিসেবে গণ্য হবে যা স্পষ্ট হারাম।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ" "আল্লাহ অভিশপ্ত করেছেন ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৮০; সুনানে তিরমিযি, হাদিস: ১৩৩৭)

শর্ত ২: মধ্যস্থতার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পূর্বনির্ধারিত থাকতে হবে

ইসলামী ফিকহে "জু'আলাহ" বা পুরস্কার নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কাজ সম্পাদনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জায়েজ, তবে তা কাজ শুরুর আগে নির্ধারিত হতে হবে।

رَدُّ الْمُحْتَار (৫/২৭৬)-এ উল্লেখ আছে: "وَجَازَ جُعْلٌ عَلَى الْخُصُومَةِ وَالشَّفَاعَةِ وَإِصْلَاحِ ذَاتِ الْبَيْنِ" "মোকদ্দমা পরিচালনা, সুপারিশ ও সন্ধি স্থাপনের জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করা জায়েজ।"

তবে কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে দাবি করলে তা বৈধ হবে না। বরং পূর্বে চুক্তি থাকতে হবে।

শর্ত ৩: মধ্যস্থতার কাজটি বৈধ ও পূর্ণাঙ্গ হতে হবে

মধ্যস্থতাকারী প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগ স্থাপন ও কাজ বুঝে নেওয়ার সহায়তা করলে তার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ।

আল-হিদায়া (৩/২১৫)-এ উল্লেখ আছে: "وَلَوِ اسْتَأْجَرَ رَجُلًا لِيَشْفَعَ لَهُ إِلَى الْأَمِيرِ فَشَفَعَ فَلَهُ الْأَجْرُ" "যদি কেউ একজন ব্যক্তিকে আমীরের কাছে সুপারিশ করার জন্য নিয়োগ দেয় এবং সে সুপারিশ করে, তবে সে পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী হবে।"

২. বর্তমান প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে:

যেসব ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া জায়েজ হবে:

  • মধ্যস্থতা যদি পূর্ব নির্ধারিত শর্তে হয় (যে, কোম্পানির সাথে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাওয়া যাবে)
  • মধ্যস্থতাকারী যদি প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ করে
  • কাজটি পাওয়ার জন্য যদি কোনো অবৈধ প্রভাব বা ঘুষ ব্যবহার না করা হয়
  • প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় যদি অন্য প্রার্থীদের প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব না করা হয়

যেসব ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া জায়েজ হবে না:

  • মধ্যস্থতাকারী যদি কাজ পাওয়ার পর হঠাৎ করে টাকা দাবি করে (পূর্বে কোনো চুক্তি না থাকলে)
  • যদি এটি ঘুষের সমতুল্য হয় (অর্থাৎ, অযোগ্য কোম্পানিকে কাজ দিতে কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করা)
  • যদি মধ্যস্থতাকারী কোনো সরকারি কর্মকর্তা হন এবং তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে এই যোগাযোগ করান (এটি দুর্নীতি হিসেবে গণ্য হবে)

৩. বিশেষ সতর্কতা

ফাতাওয়া উসমানী (৩/৪২৯) তে উল্লেখ আছে: "পেশাগত মধ্যস্থতা (ব্রোকারেজ) জায়েজ, তবে শর্ত হলো মধ্যস্থতাকারীর কাজ সৎ ও স্বচ্ছ হতে হবে এবং কোনো প্রকার প্রতারণা, জালিয়াতি বা অন্যায় প্রভাব বিস্তার না থাকে।"

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৪/৪৪২)-এ বলা হয়েছে: "وَلَوْ قَالَ رَجُلٌ لِرَجُلٍ ادْخُلْ بَيْنِي وَبَيْنَ فُلَانٍ حَتَّى أَشْتَرِيَ مِنْهُ هَذِهِ السِّلْعَةَ فَلَكَ كَذَا جَازَ" "যদি কেউ কাউকে বলে- তুমি আমার ও অমুকের মধ্যে মধ্যস্থতা কর যাতে আমি তার থেকে এই পণ্যটি কিনতে পারি, এর বিনিময়ে তোমাকে এত টাকা দেব, তাহলে তা জায়েজ।"

৪. সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে সিদ্ধান্ত:

১. জায়েজ হবে: যদি মধ্যস্থতার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পূর্বেই নির্ধারিত থাকে, মধ্যস্থতা বৈধ পদ্ধতিতে হয় এবং কোনো প্রকার ঘুষ, প্রতারণা বা অন্যায় প্রভাব বিস্তার না থাকে।

২. জায়েজ হবে না: যদি-

  • মধ্যস্থতা ঘুষ বা দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে
  • মধ্যস্থতা কাজ হওয়ার পর হঠাৎ দাবি করা হয় (পূর্ব চুক্তি ছাড়া)
  • মধ্যস্থতাকারী সরকারি কর্মচারী হন এবং তার দায়িত্বের অংশ এই কাজ

৩. সতর্কতা: বর্তমান প্রেক্ষাপটে "মিডিয়া মানি" শব্দটি অনেক সময় ঘুষ বা অবৈধ কমিশনের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। প্রকৃত মধ্যস্থতা ও ঘুষের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.