এশার পর বিতর তাহাজ্জুদ পর্যন্ত রেখে দিলে হায়েজ শুরু হলে কি বিতরের কাযা পড়তে হবে?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 3233
Questioner: Sadia Afrin
Question Asked: 29 Jul 2026, 11:39 PM
Reviewed & Published: 29 Jul 2026, 11:46 PM
Views: 23
Tokens: 4,207
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এশার নামাজ পড়ার পর বিতরের নামাজ তাহাজ্জুদ শেষে পড়ার জন্য বাকি রাখার পর যদি তাহাজ্জুদ পড়ার আগে হায়েজ হয় তাহলে এই বিতরের নামাজ কি কাযা পড়া লাগবে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, একজন মহিলা এশার নামাজ আদায় করার পর বিতরের নামাজ তাহাজ্জুদ শেষে পড়ার জন্য বাকি রাখেন। কিন্তু তাহাজ্জুদ পড়ার আগেই তাঁর হায়েজ শুরু হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সেই বিতরের নামাজ কাযা করতে হবে না। বরং এটি মাফ হয়ে যাবে। শুধু বিতর নয়, হায়েজ অবস্থায় কোনো নামাজ (ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল) পড়া জায়েজ নয় এবং তা পরবর্তীতে কাযা করতেও হয় না। কারণ হায়েজকালে নামাজের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রহিত হয়ে যায়।

দলিল:
হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ؟»
“সে কি যখন হায়েজগ্রস্ত হয় তখন নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না?” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৪)
অন্য হাদিসে এসেছে:
«فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ»
“যখন হায়েজ শুরু হয়, তখন নামাজ ছেড়ে দাও।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৩)

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, হায়েজ অবস্থায় নামাজ ফরজ নয় এবং পূর্বের কোনো নামাজ কাযা করতে হয় না, যদিও তা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করার কারণে ছুটে যায়। যেমন ফাতাওয়া হিন্দিয়া-তে বলা হয়েছে:

“إذا حاضت المرأة في آخر وقت الصلاة ولم تصلها، فلا قضاء عليها”
“যদি কোনো নারীর নামাজের শেষ সময়ে হায়েজ শুরু হয় এবং তিনি নামাজ না পড়েন, তবে তার ওপর কাযা ওয়াজিব নয়।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে (২/৩৮১) এবং রদ্দুল মুহতার-এ (১/২৮৫) একই নীতি উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং যে নামাজের পুরো সময় বা আংশিক সময় হায়েজের মধ্যে চলে যায়, তা কাযা করতে হয় না।

সতর্কতা:
বিতরের নামাজকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাহাজ্জুদ পর্যন্ত দেরি করা মাকরুহ বা গুনাহের কাজ নয়, বরং সাহাবাগণও তা করতেন। তবে যদি ভয় থাকে যে তাহাজ্জুদের আগেই হায়েজ শুরু হতে পারে বা ঘুম ভেঙে না-ও যেতে পারে, তাহলে এশার পরপরই বিতর পড়ে নেওয়া উচিত। কেননা হায়েজ শুরু হয়ে গেলে বিতর পড়ার সুযোগ থাকবে না এবং তা কাজা না হওয়ায় সে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।

উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বিতরের নামাজ কাযা করতে হবে না। তবে দেরি করার কারণে গুনাহ হবে না, বরং উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজেও বিতর তাহাজ্জুদের সঙ্গে পড়তেন। (সহিহ মুসলিম)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.