পছন্দ করে বিয়ে করলে ঈমান কি ঠিক থাকে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা মূল বিষয়টি পরিষ্কার করে নিই: প্রশ্নে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি বলেছেন যে "অমুক মেয়েটিকে পছন্দ করে বিয়ে করেছে" এবং আরও কিছু বলেছেন। প্রশ্নকর্তা জানতে চান, এ ধরনের কথার দ্বারা কি তার ঈমান ঠিক থাকবে?
উত্তরঃ
উল্লেখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ঈমান নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, যদি না সেই বক্তব্যে ইসলামের মৌলিক কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা উপহাস করার মতো কিছু থাকে। কাউকে পছন্দ করে বিয়ে করার প্রশংসা করা বা সাধারণভাবে কারো পছন্দের কথা বলা কোনো কুফরি কাজ নয়। তবে যদি কেউ এমন কিছু বলে যা শরিয়তের পরিপন্থী (যেমন জিনা, ব্যভিচার বা হারাম সম্পর্কের প্রশংসা করা), তাহলে তা গুনাহ হবে, কিন্তু তাতেও ঈমান নষ্ট হবে না, যতক্ষণ না সে তা হালাল মনে করে বা আল্লাহ ও রাসূলের বিধানকে অস্বীকার করে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿وَمَن يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ﴾ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৫) অর্থ: "যে কেউ ঈমানের সাথে কুফরি করে, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।"
আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য কুফরি অর্থাৎ স্পষ্টভাবে ইসলামের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা জরুরি। প্রশংসা বা সাধারণ কথা বলার মাধ্যমে তা হয় না।
হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে:
১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) এ বলা হয়েছে:
"لا يكفر المسلم بقول أو فعل ما لم يستحل الحرام أو ينكر معلوما من الدين بالضرورة" অর্থ: "মুসলিম ব্যক্তি কোনো কথা বা কাজের কারণে কাফির হয় না, যতক্ষণ না সে হারামকে হালাল মনে করে বা দ্বীনের জরুরি বিষয়কে অস্বীকার করে।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬)
২. ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (ফতোয়ায়ে আলমগিরি) তে বলা হয়েছে:
"إذا تكلم بكلمة لا يريد بها الكفر لا يكفر ما لم يرد الكفر" অর্থ: "যদি কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলে যার দ্বারা কুফরি উদ্দেশ্য না থাকে, তবে সে কাফির হবে না।" (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ২/২৬২)
৩. ইমদাদুল ফতোয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী) তে এসেছে:
"কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণ প্রশংসা বা ভালোলাগার কথা বলে, তাতে তার ঈমান নষ্ট হয় না। তবে যদি কোনো হারাম কাজের প্রশংসা করে এবং তা হালাল মনে করে, তাহলে তা কুফরি হতে পারে।" (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/৩১৫)
সারসংক্ষেপ:
- প্রশ্নে উল্লেখিত ‘পছন্দ করে বিয়ে করা’ বা এরূপ প্রশংসা করার কারণে ঈমান নষ্ট হয় না।
- তবে গুনাহ হবে যদি কথা বা কাজ শরিয়তের পরিপন্থী হয় এবং তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়।
- ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য আল্লাহ বা রাসূলকে অস্বীকার করা, দ্বীনের কোনো জরুরি বিধানকে মিথ্যা বলা বা হারামকে হালাল মনে করা প্রয়োজন।
শেষ কথা: আমাদের উচিত কথা বলার সময় সতর্ক থাকা, যাতে কোনো অশ্লীল বা ইসলামবিরোধী কথা না বলে ফেলি। তবে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঈমান ঠিক থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
والله تعالى أعلم بالصواب