নিফাস শেষ হওয়ার পরও ব্লিডিং হলে হায়েজ কিভাবে হিসাব করবো?
Taharah Purity · Hanafi
Question
সিজারের পর অস্থায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইমপ্লান্ট নেয়া হয়েছে, এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নিফাসের ৪০দিন পার হওয়ার পরও আজ ৫৫তম দিনেও ব্লিডিং চলমান আছে ।
৪০দিন পার হওয়ার পরপরই নামাজ শুরু করেছিলাম, এখন নিফাস শেষ হওয়ার পর ১৫দিন কাটলো, তাও ব্লিডিং চলমান, এক্ষেত্রে হায়েজ কোন হিসেবে ধরবো?
Answer
উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট: শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আপনার পূর্ববর্তী হায়েজের (মাসিক ঋতুস্রাব) অভ্যাসের ওপর। কারণ, নিফাসের ৪০ দিন পর থেকে শুরু হওয়া রক্তকে হায়েজ বা ইস্তিহাযা (অসুখজনিত রক্ত) কোনটি হিসেবে ধরা হবে, তা আপনার পূর্বের আদত (অভ্যাস) দ্বারা নির্ধারিত হবে। নিচে হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনার ব্লিডিং যেহেতু ৪০ দিন অতিক্রম করেছে,সুতরাং এটি যদি আপনার ১ম সন্তান পরবর্তী নিফাস হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে ৪০ দিন নিফাস ধরা সহীহ ছিলো,এমতাবস্থায় ৫৬ তম দিনেও ব্লিডিং অব্যাহত থাকলে ৫৬ তম দিন হতে হায়েজ ধরবে।
৪০-৫৫ দিন ইস্তেহাজা বলে গন্য হবে।
★আর যদি এটি আপনার ২য়/৩য় সন্তান পরবর্তী নিফাস হয়,সেক্ষেত্রে পূর্বের সন্তান পরবর্তী নিফাসের অভ্যাস অনুপাতে এই বারও সে কয়দিন নেফাস ধরে বাকি দিন গুলি ইস্তেহাজা ধরবে।
ইস্তেহাজার ১৫ দিন অতিক্রম হওয়ার পর ১৬ তম দিনেও ব্লিডিং অব্যাহত থাকলে সেক্ষেত্রে ইস্তেহাজার ১৬ তম দিন হতে হায়েজ ধরবে।
বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা
১. নিফাসের মেয়াদ ও তার পরের রক্ত
- হানাফি মাযহাব: নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগীরী)
- হাদিস: উম্মে সালামা (রা.) বলেন, "নবী (সা.)-এর যুগে নিফাসগ্রস্ত নারীরা ৪০ দিন বসে থাকতেন (নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকতেন)।" (আবু দাউদ, তিরমিজি)
- ফিকহি নিয়ম: নিফাসের ৪০ দিন শেষ হওয়ার পর যদি রক্ত চলতে থাকে, তবে তা নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাযা বলে গণ্য হবে। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী)
২. ইস্তিহাযা ও হায়েজ নির্ধারণের মূলনীতি
ক. ইমপ্লান্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এটি একটি চিকিৎসাগত কারণ, যা সাধারণত অনিয়মিত রক্তপাত ঘটায়। শরিয়তে এই রক্তপাতকে ইস্তিহাযা (অসুখ) হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না আপনার পূর্বের হায়েজের অভ্যাসের সঙ্গে মিলে যায়।
খ. হায়েজের সংজ্ঞা ও শর্ত: হায়েজ হলো টানা কমপক্ষে ৩ দিন ও সর্বোচ্চ ১০/১৫ দিন (মতভেদে) স্থায়ী রক্ত। নিফাসের পর হায়েজ নির্ধারণে নিম্নোক্ত মূলনীতি প্রযোজ্য:
"নিফাসের পর রক্ত আসলে, তা পূর্বের হায়েজের অভ্যাস (আদত) অনুযায়ী হায়েজ হবে। যদি অভ্যাসের চেয়ে বেশী হয়, তবে বেশী অংশ ইস্তিহাযা। আর যদি কোনো অভ্যাস না থাকে, তবে প্রথমবারের জন্য ১০ দিন হায়েজ গণ্য হবে।"
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, বেহেশতি জেওর)
আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও সুস্থতা দান করুন।