ব্যাংকের চাকরি সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

Business and Job · Hanafi

Question No: 295
Questioner: Afrina Ritu
Question Asked: 18 May 2026, 06:16 PM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 06:28 PM
Views: 42
Tokens: 2,918
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Bank er job er khetre ki masala ache Islam e

Answer

প্রশ্ন: ব্যাংকের চাকরি সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

উত্তর:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين

ব্যাংকের চাকরি সম্পর্কে ইসলামী বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। অধিকাংশ প্রচলিত ব্যাংকই সুদ (রিবা) ভিত্তিক লেনদেন পরিচালনা করে। যেহেতু সুদ গ্রহণ-প্রদান, লেখা ও সাক্ষ্য দেওয়া সবই কুরআন-হাদীসে স্পষ্টভাবে হারাম, তাই সুদভিত্তিক ব্যাংকের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করা অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়।

১. কুরআন ও হাদীসে সুদের হারাম হওয়া

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
(সূরা বাকারা ২:২৭৫)
“আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।”

তিনি আরও বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
(সূরা বাকারা ২:২৭৮)
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।”

হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ
(সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮)
“আল্লাহ তাআলা সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন।”

২. হানাফী ফিকহের রায়

হানাফী মাযহাবের বড় বড় কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যার মূল কাজ সুদের মাধ্যমে হয়, তা জায়েয নয়। ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’-এ (৪/১৮৪) বলেন:

إذا كان العمل في الربا معيناً عليه حرم
“যখন কাজটি সুদের কাজে সহায়ক হয়, তখন সেটি হারাম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমন প্রতিষ্ঠানে বেতন গ্রহণও হারাম, কারণ বেতন আসে হারাম মাল থেকে।

৩. ব্যাংকের বিভিন্ন পদ এবং তাদের হুকুম

ব্যাংকের চাকরিকে সাধারণত কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়:

  • সুদ সম্বলিত লেনদেনে সরাসরি জড়িত পদ: যেমন, ক্যাশিয়ার, লোন অফিসার, টেলার, ম্যানেজার (যিনি সুদভিত্তিক ঋণ অনুমোদন করেন) – সরাসরি হারাম। কেননা এটি কাতিব (লেখক) বা সাক্ষীর অন্তর্ভুক্ত।

  • সুদী লেনদেনের পরোক্ষ সহায়ক পদ: যেমন, হিসাব রক্ষক, আইটি কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী – এগুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। অনেক হানাফী ফকীহ বলেছেন, যদি ব্যাংকের পুরো কর্মক্ষেত্র সুদী হয়, তাহলে এ ধরনের কাজ করাও নাজায়েয, কারণ তারা সুদী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি কোনো বিকল্প না থাকে এবং চরম প্রয়োজনে হয়, তাহলে কিছু শর্তে রুখসাত (অনুমতি) দেওয়া হয়েছে।

  • ইসলামী ব্যাংক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক: যদি ব্যাংকটি সম্পূর্ণরূপে শরীয়াহ সম্মত হয় (যেমন মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারা ইত্যাদির মাধ্যমে কাজ করে) তাহলে তার সব পদেই চাকরি করা জায়েয ও হালাল।

৪. হানাফী মনীষীদের ফতোয়া

  • মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) ‘ইমদাদুল ফাতাওয়া’ (৩/৪৫৫) এ বলেন: “সুদী ব্যাংকের কোনো চাকরিই জায়েয নয়, যদি না সেই ব্যক্তি এমন দপ্তরে কাজ করে যা সুদের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন এবং সেই ব্যাংকের মূল কাজ সুদ না হয় (যেমন ইসলামী ব্যাংক)।”

  • মুফতী তাকী উসমানী (দা.বা.) ‘ফাতাওয়া উসমানী’ (২/২৯০) এ লেখেন: “সুদী ব্যাংকের চাকরি থেকে দূরে থাকা উচিত। তবে বাধ্য অবস্থায় এবং অন্য কোনো হালাল কাজ না থাকলে, অস্থায়ীভাবে এবং বিকল্প খোঁজা পর্যন্ত কিছু দুর্বল মতের ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটিকে সাধারণ সমাধান বানানো ঠিক নয়।”

৫. প্রয়োজন বা জরুরতের কথা

জীবিকার জন্য যদি কোনো হালাল উপায় না থাকে এবং ব্যক্তি সত্যিই অভুক্ত থাকে, তাহলে সাময়িকভাবে কিছু অপ্রধান পদে কাজ করার অনুমতি আছে, তবে তা অস্থায়ী এবং বিকল্প খুঁজে বের করা ফরজ। ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’-এ জরুরতের ক্ষেত্রে কিছু রুখসাত দিয়েছেন, কিন্তু সেটি নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদী পথ হতে পারে না।

৬. উপসংহার ও পরামর্শ

১. সুদী ব্যাংকের সরাসরি সুদ সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা ফরজ।
২. নিজেকে বেকার বা বিপদে ফেললেও হালাল পথে থাকাই উত্তম।
৩. ইসলামী ব্যাংক বা শরীয়াহ সম্মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সর্বোত্তম।
৪. যদি বর্তমানে সুদী ব্যাংকে চাকরি করেন, তাহলে ধীরে ধীরে বিকল্প হালাল কাজ খোঁজার চেষ্টা করতে থাকুন।
৫. যেসব ব্যাংকে সুদের পাশাপাশি জায়েয লেনদেনও হয় (মিশ্র ব্যাংক), সেখানে শুধু বৈধ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করা যায় কি না—এ বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন মত রয়েছে; অধিকাংশ হানাফী ফকীহ এটাকেও অপছন্দ করেছেন, কারণ টাকার উৎস মিশ্রিত।

রাসূল (সা.) বলেছেন:

دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ
(তিরমিযী, হাদীস ২৫১৮)
“যে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে সেই বিষয়ে কর যা সন্দেহমুক্ত।”

সর্বোপরি, আল্লাহ তাআলা হালাল রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সুদী চাকরি ছেড়ে হালাল পথ অবলম্বন করলে আল্লাহ অন্যপথ খুলে দেবেন।

والله أعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে: (আপনার নাম)
দারুল ইফতা, (স্থান)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.