মুনাজাতে হাত দিয়ে মুখ মাসাহ করা, গর্দান মাসাহ করা কি সআহাবি তাব্যেয়ী থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
গর্দান মাসাহ করার হাদিস যয়ীফ, মোনাজাতের পর মুখ মাসাহ করার হাদিসও যয়ীফ। এখন সাহাবী বা সালাফের আমলে সহিহ সনদ কি পাওয়া যায় তারা গর্দান বা মোনাজাতের পর মুখ মাসাহ করতেন? থাকলে অই বর্ণনার সনদের মান সহ দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
২। নামাজের পর দোয়া কবুল হয়। এখন সাহাবায়ে কেরাম রা কিভাবে নামাজের পর দোয়া করতেন? সব নফল, সুন্নত নামাজের পর নাকি কিভাবে? বর্ণনার সনদের মান সহ দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ. জাযাকাল্লাহু খাইরান
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথম অংশ: গর্দান মাসাহ ও মোনাজাতের পর মুখ মাসাহ
গর্দান মাসাহ
শরীয়তের বিধান হলো অযুর সময় ঘাড় তথা গরদান মাসাহ করা মুস্তাহাব। (নাজমুল ফাতওয়া ২/৩১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ ـ وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى ـ أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ نَعَمْ. فَدَعَا بِمَاءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَهُ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ، بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ، حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ، ثُمَّ رَدَّهُمَا إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.
ইয়াহ্ইয়া আল-মাযিনী (রহ.) হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.)-কে (তিনি ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়ার দাদা) জিজ্ঞেস করলঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কীভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করতেন? ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) বললেনঃ ‘হাঁ। অতঃপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু’বার তাঁর হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। তারপর দু’হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। অর্থাৎ হাতদু’টি সামনে এবং পেছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত পেছনের চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু’পা ধুলেন। (বুখারী শরীফ ১৮৬, ১৯১, ১৯২, ১৯৭, ১৯৯; মুসলিম ২/৭, হাঃ ২৩৫, আহমাদ ১৬৪৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৫) , অন্যত্রে এসেছেঃ عن وائل بن حجرؒ:قال شھدت النّبیّ واُتِیَ بانائٍ فاکفا علٰی یمینہ ثلاثاًثم غمس یمینہ فی المآئِ فغسل بِھا ذراغہ الیمنی حتٰی جا وزالمرفق ثلاثاً ثمّ غسل یسارہ ثلاثاً حتٰی جاوزالمرفق ثلاثاً ثمّ مسح علٰی راسہ ثلاثاً وظاھرااُذُنَیْہِ وظاھر رقبتہٗ۔(نصب الرایۃ:ج؍۱،ص؍۱۳) হযরত ওয়েল বিন হাজর রাঃ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,,,,, অতঃপর তিনবার মাথা মাসাহ করলেন,এবং কানের প্রকাশিত অংশ,এবং গরদানের প্রকাশিত অংশ মাসাহ করলেন।
وفی الھندیۃ (۸/۱): الفصل الثالث فی المستحبات۔۔۔والثانی مسح الرقبۃ ھو بظہر الیدین۔ সারমর্মঃ হাতের পিঠ দ্বারা গরদান মাসাহ করা মুস্তাহাব।
وفی الدرالمختار (۱۲۴/۱): (ومستحبہ) … (مسح الرقبۃ)… (لا الحلقوم)۔ গরদান মাসাহ করা মুস্তাহাব গলা নয়। وفی الشامیۃ (قولہ مسح الرقبۃ) ھو الصحیح وقیل انہ سنۃ کما فی البحر۔ কেহ কেহ গরদান মাসাহ করা সুন্নাতও বলেছেন। , وقال صاحب التنویرؒ:فی مستحبات الوضوء ومسح الرقبۃ۔وقال ابن عابدینؒ(تحت قولہٗ ومسح الرقبۃ)ھوالصحیح وقیل انہٗ سنۃ۔(ردّالمحتار علی الدّرالمختار،مستحبات الوضوء:ج؍۱،ص؍۱۲۴) অযুর মুস্তাহাব গুলোর মধ্যে একটি হলো গরদান মাসাহ করা।
মোনাজাতের পর মুখ মাসাহ
হানাফী ফিকাহতে মোনাজাতের পর মুখ মাসাহ করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) গণ্য। যদিও এর পক্ষে একক কোনো সহিহ হাদিস নেই, তবে একাধিক যয়ীফ সনদ পরস্পরকে শক্তিশালী করে ‘হাসান লিগাইরিহী’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কিতাবি দলিল:
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৩৪): আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন, “মুখ মাসাহ করার হাদিসগুলো যয়ীফ হলেও ইমামগণ তা আমলযোগ্য বলেছেন।”
- ফাতাওয়া উসমানী (১/১১২): মুফতি তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, “একাধিক যয়ীফ সনদ মিলিয়ে এটি হাসান লিগাইরিহী; তাই করা যেতে পারে।”
সাহাবা থেকে বর্ণনা (সনদসহ):
- হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি মোনাজাতের পর হাত দিয়ে মুখ মাসাহ করতেন।
- সূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা (২৯২০০)
- সনদ: ইবরাহীম নাখায়ী (তাবি‘ঈ) উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ‘মুরসাল’ হলেও অন্যান্য সনদ মিলিয়ে হাসান পর্যায়ের।
- হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
- সূত্র: তাফসীর ইবনে কাসীর (২/৪৪২)
- সনদ: মূল সনদে কিছু দুর্বলতা আছে, তবে মুত্তাবি‘আত (সমর্থনকারী সনদ) থাকায় গ্রহণযোগ্য।
সারসংক্ষেপ:
- গর্দান মাসাহ: **মুস্তাহাব **
- মোনাজাতে মুখ মাসাহ: মুস্তাহাব; সাহাবাদের আমল হাসান সনদে বর্ণিত আছে।
দ্বিতীয় অংশ: সাহাবায়ে কেরাম নামাজের পর কিভাবে দোয়া করতেন?
ফরয নামাজের পর দোয়া
সাহাবায়ে কেরাম ফরয নামাজের পর সরাসরি দোয়া করতেন—সালাম ফিরানোর পর কিছুক্ষণ বসে যিকর ও দোয়া। এটি সুন্নতের অংশ।
সহিহ হাদিস:
- সুনান তিরমিযী (৩৪৯৪): নবী (সা.) বলেছেন, “ফরয নামাজের পর দোয়া কবুল হয়।” (ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাসান)
- সহিহ বুখারী (আদাবুল মুফরাদ ৫৬৯): হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ফরয নামাজের পর হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন। (সনদ সহিহ)
- মুসনাদ আহমাদ (২৪০৭): হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “নবী (সা.) ফরয নামাজের পর হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন।” (সনদ হাসান)
হানাফী কিতাব থেকে দলিল:
- আল-হিদায়া (১/১২২): “ফরয নামাজের পর দোয়া করা মুস্তাহাব, এবং ইমামের পিছনে নয়, নিজে নিজে দোয়া করা ভাল।”
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/১৫৪): “ফরয নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা জায়েয; সাহাবা থেকে তা প্রমাণিত।”
- বাদায়ি‘উস সানায়ি‘ (১/২২১): “ফরয নামাজের পর যিকর শেষে দোয়া করা অধিক প্রিয়।”
সুন্নত ও নফল নামাজের পর দোয়া:
সাহাবায়ে কেরাম সুন্নত ও নফল নামাজের পরও দোয়া করতেন, তবে অধিক গুরুত্ব ফরযের পরে দেওয়া হত। নফল নামাজের পর দোয়া করাও জায়েয। তবে হানাফী ফিকাহতে ফরয নামাজের পর দোয়া অধিক ফজিলতপূর্ণ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহাবাদের পদ্ধতি:
তারা একাকী (ইমামের সাথে নয়) নিচু স্বরে দোয়া করতেন, হাত উঠিয়ে, এবং কখনো কখনো দোয়ার পর মুখ মাসাহ করতেন (উপরের বর্ণনা অনুযায়ী)।