ইনশাআল্লাহ বলার কারণে কি ঈমানে সমস্যা হবে?

Business and Job · Hanafi

Question No: 215
Questioner: Habiba Khanam
Question Asked: 17 May 2026, 05:46 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 05:53 PM
Views: 20
Tokens: 4,242
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী বলতেছিল আমার কখন একটা বাড়ি হবে। আমি বলি ইনশাআল্লাহ বল ইনশাআল্লাহ হবে বল। সেও বলে।এখন কথা হচ্ছে সে বিদেশে যেতে চায়। কিন্তু ওর কাজ হচ্ছে রান্না করা মানে শেফের কাজ। ইউরোপের ওখানে ওদের মাংশ রান্না হালাল না বেশির ভাগ। আমার মাথায় ঘুরতেছিল এখানে মানে বাংলাদেশেও তহ থাকতে পারে আবার পরে আসতেছিল বাইরে গেলে তখন ইনকাম হারাম হলে তাহলে কি ইনশাআল্লাহ তো বলা যাবে না? তাই ইনশাল্লাহ বলা হয়েছে মানে এখনো তো শিওর না কোথায় থাকবে। কিন্তু বাইরের দেশে যাওয়ার কথা সবসময় বলে কিন্তু আমার শুধু একটা ব্যাপারে মন শায় দেয় না গেলেও কয়েকবছর ইনকাম হারাম হবে শিওর। তবু মাঝে মাঝে মনে আসে চলে যাব। আমার ও মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চলে যাওয়ার। স্বামীকেও বলেছিলাম। কিন্তু ইনশাআল্লাহটা বলার সময় অনিশ্চিয়তা মাথায় ছিল তাই বলে ফেলতে বলেছিলাম মানে দেশে থাকতেও পারি নাও পারি। এতে কি ঈমানে সমস্যা হবে?
আর বাইরের দেশে যদি যায় ইউরোপে এতে আগে ইনশাআল্লাহ বলায় কি কোন সমস্যা হবে?

Answer

উত্তর দেওয়ার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ:
ইসলামী ফিকহ ও আকীদার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা কুরআন, হাদীস ও নির্ভরযোগ্য হানাফী কিতাবাদি (যেমন ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বাহিশতী জেওর, মাআরিফুল কুরআন, ফাতাওয়া আলমগীরী, আল-হিদায়া, শারহু মাআনিল আছার, উসুলুশ শাশী) অনুসরণ করি। নিচের উত্তরটি উক্ত কিতাব ও হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ উলামায়ে কেরামের (ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম তাহাবী, ইবনে আবেদীন, আশরাফ আলী থানবী, আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী, মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী, মুফতী তাকী উসমানী) রায়ের আলোকে প্রস্তুত।


প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:

প্রশ্নকারী বলছেন:

  • তার স্বামী বলেছিলেন, “কোনো দিন একটি বাড়ি হবে।” তখন তিনি স্বামীকে বলেছিলেন “ইনশাআল্লাহ বলুন” এবং স্বামীও বলেছেন।
  • কিন্তু স্বামী বিদেশে (ইউরোপ) যেতে চান, যেখানে তার পেশা (শেফ) বেশিরভাগ সময় হারাম মাংস রান্নার সাথে জড়িত। তাই স্ত্রীর মনে সন্দেহ আছে যে বিদেশে গেলে ইনকাম হারাম হবে।
  • তিনি মনে করছেন, “ইনশাআল্লাহ” বলার সময় তার মনে অনিশ্চয়তা ছিল – “হয়তো দেশেই থাকবে, না হয় বিদেশে যাবে।” এ কারণে তিনি ভয় পান যে “ইনশাআল্লাহ” বলা কি ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হবে?
  • আরো জানতে চান, যদি স্বামী ইউরোপ যায় (যেখানে হারাম আয়ের আশঙ্কা), তাহলে আগে “ইনশাআল্লাহ” বলায় কোনো সমস্যা আছে কি?

উত্তর:

১. “ইনশাআল্লাহ” বলার হুকুম ও এর সাথে ঈমানের সম্পর্ক:

  • কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: “আর তুমি কোনো কাজের ব্যাপারে কখনো বলো না, ‘আমি এটি আগামীকাল করব।’ কিন্তু (বলো) ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান)।” (সূরা কাহফ, ২৩-২৪)
  • হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে, আল্লাহ তাআলা তার ইচ্ছা পূর্ণ করে দেন।” (তিরমিযী, ৩৫১৫)

সিদ্ধান্ত:

  • “ইনশাআল্লাহ” বলা সুন্নত এবং ভবিষ্যতের কাজ আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়ার নাম। এটি অনিশ্চয়তাকেই স্বীকার করে – কারণ ভবিষ্যত কেবল আল্লাহ জানেন। তাই “ইনশাআল্লাহ” বলার সময় অনিশ্চয়তা থাকা স্বাভাবিক এবং এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি নেই। বরং এটি তাওহীদের অংশ।
  • আপনার স্বামীকে “ইনশাআল্লাহ বলুন” বলাটা সম্পূর্ণ সঠিক। কারণ তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি নির্মাণের কথা বলেছেন, যা বাস্তবায়িত হবেই বা নাই, তা শুধু আল্লাহ জানেন। তাই “ইনশাআল্লাহ” বলাই উচিত।
  • আপনার মনে যে অনিশ্চয়তা ছিল (দেশে থাকা না বিদেশে যাওয়া), “ইনশাআল্লাহ” বলার সময় সেটি থাকা স্বাভাবিক। এটি ঈমানের দুর্বলতা নয়, বরং বাস্তবতা মেনে নেওয়া।

ফতোয়া:
“ইনশাআল্লাহ” বলার কারণে ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না। বরং এটি আল্লাহর উপর ভরসার সুন্দর অভিব্যক্তি।


২. বিদেশে গিয়ে হারাম ইনকামের আশঙ্কা থাকলে “ইনশাআল্লাহ” বলা কি জায়েয?

  • হ্যাঁ, জায়েয। “ইনশাআল্লাহ” বলা মানে এই নয় যে আপনি ভবিষ্যতের গুনাহ বা হারাম কাজকে সমর্থন করছেন। বরং আপনি কেবল আল্লাহর ইচ্ছার কথা স্বীকার করছেন।
  • তবে হারাম ইনকামের বিষয়ে সর্তকতা জরুরি:
    • আপনার স্বামী যদি ইউরোপে শেফ হিসেবে কাজ করতে যান এবং সেখানে হারাম মাংস রান্না করতে হয়, তাহলে তা হারাম হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে শরীরে হারাম খাবার প্রবেশ করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।” (মুসনাদে আহমদ, ২/২৪২)
    • স্বামীকে উচিত হবে, যতদূর সম্ভব হালাল মাংসের ব্যবস্থা থাকে এমন রেস্টুরেন্টে কাজ করা বা হালাল উপায়ে আয়ের পথ খোঁজা। যদি সত্যিই হারাম আয়ের নিশ্চয়তা থাকে, তাহলে সেখানে যাওয়া জায়েয হবে না।
  • কিন্তু “ইনশাআল্লাহ” বলা এবং পরবর্তী হারাম ইনকাম – এ দুটির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। “ইনশাআল্লাহ” বলার সময় আপনি শুধু আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সোপর্দ করছেন; গুনাহের পরিকল্পনা করছেন না।

ফতোয়া:
বিদেশে হারাম ইনকামের আশঙ্কা থাকলেও “ইনশাআল্লাহ” বলায় কোনো সমস্যা নেই। তবে স্বামীকে বোঝানো উচিত যে হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা ফরজ।


মোটকথা:

  1. “ইনশাআল্লাহ” বলা একটি সুন্নত এবং তা অনিশ্চয়তার সাথে জড়িত – এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না।
  2. আপনার অনিশ্চয়তা (দেশে থাকা না বিদেশে যাওয়া) “ইনশাআল্লাহ” বলার সময় থাকাটা স্বাভাবিক এবং তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
  3. যদি স্বামী ইউরোপে গিয়ে হারাম আয় করেন, তাহলে সেটি পৃথক গুনাহ হবে; কিন্তু “ইনশাআল্লাহ” বলার কারণে তা হালাক হবে না।
  4. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনারা উভয়েই আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং হারাম কাজ থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন। স্বামীকে বলা উচিত, বিদেশে গেলে হালাল পেশা বা হালাল উপায় খুঁজে দেখতে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।

রেফারেন্স:

  • সূরা কাহফ (২৩-২৪)
  • তিরমিযী, হাদীস ৩৫১৫
  • ইমাম আবু হানীফা ও ইবনে আবেদীন (রদ্দুল মুহতার)-এর মতানুযায়ী ভবিষ্যতের হারাম কাজের সাথে “ইনশাআল্লাহ” বলার সম্পর্ক নেই।
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/২৮৫)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.