MFS (Mobile Financial Service) কোম্পানিতে চাকুরী করা কি জায়েজ?

Business and Job · Hanafi

Question No: 2117
Questioner: Oliour Koushik
Question Asked: 28 Jun 2026, 04:11 PM
Reviewed & Published: 28 Jun 2026, 04:14 PM
Views: 102
Tokens: 4,744
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম, জানতে চাচ্ছিলাম মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) কোম্পানিতে Customer Service পদে চাকরী করা কী জায়েজ কিনা এবং উপার্জন হালাল হবে কিনা... যেহেতু, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সুতরাং ইন্টারেস্ট/সুদ এর ব্যাপার এর জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা হচ্ছে ৷ এখনো ঠিক জানিনা কোন কোম্পানি যেহেতু থার্ড পার্টি দিয়ে হায়ারিং করছে...কিন্তু সেটা বিকাশ বা বিকাশের মতো কোনো কোম্পানি হয়ে থাকতে পারে ৷

চাকরীটির Key Responsibilities গুলো হচ্ছে :
> Collecting necessary information for setting up customer accounts.
> Resolving customer complaints and inquiries promptly.
> Maintaining accurate customer records.
> Collaborating with team members as required
> Providing feedback to improve customer service processes.

Answer

উত্তরঃ

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ (MFS) কোম্পানি যেমন—বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি। এদের মূল কার্যক্রম হল মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, মোবাইল রিচার্জ, বিল পরিশোধ, মার্চেন্ট পেমেন্ট ইত্যাদি। এ সব সেবা মূলত ফি-ভিত্তিক (হালাল) হয়ে থাকে। তবে কিছু MFS প্রতিষ্ঠান সুদভিত্তিক ঋণ (লোন) প্রদান করে যেমন—বিকাশ লোন, নগদ লোন ইত্যাদি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্লোট মানি (গ্রাহকের জমা রাখা টাকা) ব্যাংকে রাখার কারণে তাদের কিছু আয় সুদ থেকেও আসতে পারে।

আপনার চাকরিটি ‘কাস্টমার সার্ভিস’ বিভাগের, যার দায়িত্বগুলো হলো—গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগ সমাধান, রেকর্ড সংরক্ষণ, দলগত সহযোগিতা, প্রক্রিয়ার উন্নয়নে মতামত প্রদান ইত্যাদি। এই দায়িত্বগুলো সরাসরি সুদি লেনদেনের সাথে জড়িত নয় বলে মনে হচ্ছে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি

১. এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জায়েজ নয়, যার প্রধান ও মুখ্য কার্যক্রম সুদের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। যেমন—সুদি ব্যাংক বা সুদি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন—সুদি ব্যাংকের পাহারাদারির চাকরিও জায়েজ নয়, কারণ তা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। (রদ্দুল মুহতার, ৪/১৮৫)

২. যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ আয় হালাল হয় এবং সুদি লেনদেন তার গৌণ অংশ হয়, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানের সেই বিভাগে চাকরি করা জায়েজ, যেখানে সরাসরি সুদের লেনদেন সম্পাদিত হয় না। তবে কোনো অবস্থাতেই নিজে সুদি লেনদেনে জড়ানো যাবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৪৭; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৩৯)

৩. মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ও মুফতি তাকি উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর মত হলো—যে প্রতিষ্ঠানে সুদি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম যদি সুদমুক্ত না হয়, তাহলে সতর্কতা হিসেবে সে চাকরি থেকে বিরত থাকাই উত্তম। কিন্তু যদি চাকরিটি অত্যাবশ্যকীয় হয় এবং হালাল উপার্জনের অন্য কোনো পথ না থাকে, তাহলে শুধুমাত্র সেই শর্তে জায়েজ হবে যেখানে সুদের সাথে কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা নেই। (বাহিশতি জেওর, ২/৫৬; মাআরিফুল কুরআন, সূরা বাকারার ২৭৫-২৭৬ নং আয়াতের তাফসির)

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনার চাকরির বিধান

  • আপনি যে MFS প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন, তার প্রধান কার্যক্রম কি সুদি?—সাধারণত MFS প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যক্রম (মোবাইল ব্যাংকিং, টাকা স্থানান্তর) ফি-ভিত্তিক এবং হালাল। তবে তাদের কোনো কোনো পণ্য (যেমন—লোন) সুদি।
  • আপনার কাজের বিবরণ (Key Responsibilities) পড়ে মনে হচ্ছে, আপনি সরাসরি কোনো সুদি লোন প্রদানের কাজ করছেন না। বরং গ্রাহক সেবা ও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সাধারণ কাজ করছেন।
  • তবে যদি আপনার কাজের মধ্যে এমন কোনো দায়িত্ব আসে যা সুদি লোনের প্রচার, প্রক্রিয়াকরণ বা গ্রাহককে সুদি পণ্য গ্রহণে উৎসাহিত করে, তাহলে তা জায়েজ হবে না।
  • এছাড়া যদি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্লোট মানি ব্যাংকে রেখে সুদ আয় করে, তাহলে সেই আয়ের একটি অংশ আপনার বেতনেও মিশে আসতে পারে। ফিকহে এটাকে ‘মুখাল্লাত’ (মিশ্রিত সম্পদ) বলা হয়। অনেকেই এটাকে জায়েজ মনে করেন না বা মাকরুহ তাহরিমি বলেন। (ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/২৭৫)

সুপারিশ

  • যদি সম্ভব হয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা উত্তম যেখানে সম্পূর্ণ হালাল আয়ের ব্যবস্থা আছে।
  • বর্তমানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হায়ারিং হলেও আপনার কাজের ওপর মূল নিয়ন্ত্রণ যদি ওই MFS প্রতিষ্ঠানের হয়, তাহলে বিধান একই থাকবে।
  • আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজ সুদি লেনদেনের সাথে কোনো সম্পর্কে জড়িত নয় এবং প্রতিষ্ঠানের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি হালাল, তাহলে জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে পূর্ণ হালাল উপার্জনের জন্য সম্পূর্ণ সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

সিদ্ধান্ত: উল্লেখিত দায়িত্বসমূহ সরাসরি সুদি কাজ নয় বিধায় চাকরিটি জায়েজ হওয়ার অবকাশ আছে—যদি আপনি সুদি লোন বা সুদভিত্তিক কোনো সেবার প্রচার, প্রক্রিয়াকরণ বা সহায়তায় জড়িত না হন। তবে পূর্ণ হালাল উপার্জনের নিশ্চয়তার জন্য বিকল্প খোঁজা উত্তম। আল্লাহ তাআলা সহজ পথ দেখান।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.