ইসলামি ঝাড় ফুক রুকাইয়া
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
بسم اللہ الرحمن الرحیم
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই,
আপনি ইসলামি ঝাড়-ফুঁক (রুকইয়া) সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছেন যা দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের সমস্যার জন্য কুরআন ও হাদিসের আলোকে শরীয়তসম্মত উপায়ে করা যায়। নিচে আমি বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি। কুরআনের আয়াতগুলোর জন্য শুধু সূরা ও আয়াত নম্বর দেওয়া হয়েছে, আর দোয়া-দুরুদের বাংলা উচ্চারণ ও হাদিসের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। পুনরাবৃত্তি এড়াতে একবার উল্লেখিত দোয়ার পরবর্তীতে শুধু রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
সতর্কতা: রুকইয়া করার সময় নিয়ত শুদ্ধ রাখতে হবে, কোনো শিরকি বা বিদ‘আতি পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না। পানির উপর পড়ে ফুঁ দিয়ে (দম করে) পান করানো বা শরীরের ব্যথাস্থানে হাত রেখে পড়া জায়েজ। নিচের সবগুলো পদ্ধতি উলামায়ে কেরাম ও ফুকাহায়ে হানাফিয়ার গ্রন্থ (ফাতাওয়া উসমানি, ফাতাওয়া শামী, বেহেশতী জেওর, রদ্দুল মুহতার, ইমদাদুল ফাতাওয়া) থেকে সংগৃহীত।
১. দৈনন্দিন সকাল-সন্ধ্যার সাধারণ রুকইয়া (সব রোগ ও বিপদ থেকে সুরক্ষা)
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা নিচের আয়াতগুলো ৩ বার করে পড়ে নিজের শরীরে ও ঘরে ফুঁ দিন (দম করুন)।
| ক্রম | বর্ণনা | বাংলা উচ্চারণ ও রেফারেন্স | |------|--------|---------------------------| | ১ | আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) | আয়াত নং: ২:২৫৫ | | ২ | সূরা ইখলাস (১১২:১-৪) | আয়াত নং: ১১২:১-৪ | | ৩ | সূরা ফালাক (১১৩:১-৫) | আয়াত নং: ১১৩:১-৫ | | ৪ | সূরা নাস (১১৪:১-৬) | আয়াত নং: ১১৪:১-৬ | | ৫ | দোয়া | “বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুর্রু মা‘আসমিহী শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম।” (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ) – প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার |
হাদিসের রেফারেন্স:
- আয়াতুল কুরসি: বুখারি (৩২৭৭), মুসলিম (৮১০)
- সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস: বুখারি (৫০১৭), মুসলিম (১৩৪২)
- উপরোক্ত দোয়া: আবু দাউদ (৫০৮৮), তিরমিযি (৩৩৮৮)
২. বদনজর (আইন বা নযর) এর জন্য রুকইয়া
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা ফালাক ও নাস (১১৩-১১৪) ৭ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পান করান বা গায়ে ছিটিয়ে দিন। | আয়াত নং: ১১৩ ও ১১৪ | | ২ | দোয়া | “আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খলাক্ব।” অর্থ: “আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাতসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।” (মুসলিম ২৭০৯, আবু দাউদ ৩৮৯৩) – ৩ বার পড়ে ফুঁ দিবেন। | | ৩ | সাহাবির আমল | সাহাবি হযরত আসমা বিনতে উমায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বদনজরের জন্য আয়াতুল কুরসি ও মু‘আও্উইযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। (বুখারি, ‘ফাযাইলুল কুরআন’) |
৩. জ্বিন-শয়তান ও জাদু (সিহর) এর জন্য রুকইয়া
প্রাথমিক পদক্ষেপ: আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও সকাল-সন্ধ্যার আজকার আদায় করতে বলুন। নিচের আয়াত ও দোয়া ব্যবহার করুন।
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা বাকারা (২:১০২-১০৩) (হারুত-মারুতের আয়াত) – সিহরের প্রতিকার | আয়াত নং: ২:১০২-১০৩ (৩ বার পড়ে ফুঁ দিন) | | ২ | সূরা জিন (৭২:১-২৮) – জ্বিন থেকে সুরক্ষা | পুরো সূরা (তবে সংক্ষেপে প্রথম ১০ আয়াতও যথেষ্ট) – আয়াত নং: ৭২:১-১০ | | ৩ | সূরা হাশর (৫৯:২১-২৪) শেষ তিন আয়াত (আল্লাহর নামসমূহ) | আয়াত নং: ৫৯:২২-২৪ (সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার) – হাদিস: তিরমিযি (২৯২২) | | ৪ | দোয়া | “বিসমিল্লা-হি আরক্বীক্বা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীক্বা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনিন হা-সিদ। আল্লাহু ইয়াশ্ফীক্বা, বিসমিল্লা-হি আরক্বীক্বা।” অর্থ: “আল্লাহর নামে আমি তোমার ঝাড়-ফুঁক করছি, প্রত্যেক কষ্টদায়ক বস্তু থেকে, প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট ও বদনজর থেকে। আল্লাহ তোমাকে শিফা দিন, আল্লাহর নামে আমি তোমার ঝাড়-ফুঁক করছি।” (মুসলিম ২১৮৬) – ৩ বার। | | ৫ | জাদুমুক্ত পানির রুকইয়া | ১ বালতি পানি নিয়ে তাতে সূরা ফাতিহা (১:১-৭), আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস – প্রতিটি ৭ বার পড়ে ফুঁ দিন। সেই পানি দিয়ে গোসল করান এবং ৩ দিন পর্যন্ত পান করান। (ফাতাওয়া শামী, ১/৪২১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৭৫) |
হাদিসের রেফারেন্স: জাদুর আয়াত: বুখারি (৪৮০৯), মুসলিম (২২২৬)
৪. বিভিন্ন রোগ ও শারীরিক সমস্যার জন্য রুকইয়া
ক. সাধারণ ব্যথা ও জ্বর
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা ফাতিহা (১:১-৭) – ব্যথাস্থানে ৭ বার পড়ে ফুঁ দিন | আয়াত নং: ১:১-৭ (হাদিস: বুখারি ৫০০৪, মুসলিম ২২০১) | | ২ | দোয়া | “বিসমিল্লা-হিল ‘আযীমি নাঊযু বিল্লা-হিল ‘আযীমি মিন শাররি ‘ইরকিন নাআ-রিন ওয়া মিন হাররি জাহান্নাম।” অর্থ: “মহান আল্লাহর নামে, আমরা মহান আল্লাহর আশ্রয় চাই জ্বরের তীব্রতা ও জাহান্নামের উত্তাপ থেকে।” – জ্বরের সময় ৭ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করান। (বাইহাকি শু‘আবুল ঈমান) |
খ. পেটের সমস্যা (ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য)
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা ইনশিরাহ (৯৪:১-৮) – পেটের ব্যথায় ৭ বার পড়ে পানি দিয়ে পান করান | আয়াত নং: ৯৪:১-৮ | | ২ | মধু ও কালোজিরা | রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কালোজিরা (নিগেলা সাটিভা) প্রত্যেক রোগের নিরাময়, মৃত্যু ছাড়া।” (বুখারি ৫৬৮৮, মুসলিম ২২১৫) – মধু মিশিয়ে খাওয়ান। সাথে নিচের দোয়া পড়ুন: “আল্লাহুম্মা রব্বান্না-সি, মু’হিব্বাল দা-ই, ইশফি আনতা শাফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উকা, শিফা-আন লা ইউগা-দিরু সাক্বামা।” (বুখারি ৫৭৪২) – বাংলা উচ্চারণ: “আল্লা-হুম্মা রব্বান্না-সি, মুয্হিবাল বা’সি, ইশফি আনতাশ শা-ফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উকা, শিফা-আন লা ইউগা-দিরু সাক্বামা।” |
গ. চোখের সমস্যা
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা নূর (২৪:৩৫) (আয়াতুন নূর) – চোখের জ্যোতি বাড়ায় | আয়াত নং: ২৪:৩৫ (৩ বার পড়ে চোখে ফুঁ দিন) | | ২ | দোয়া | “আ‘ঊযু বি’ঈজ্জতিল্লা-হি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু।” অর্থ: “আমি আল্লাহর ইজ্জত ও কুদরতের আশ্রয় চাই যা আমি অনুভব করছি ও ভয় করছি তার অনিষ্ট থেকে।” (মুসলিম ২২০২) – ব্যথার স্থানে হাত রেখে পড়ুন। |
ঘ. দাঁতের ব্যথা ও মুখের সমস্যা
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা ফিল (১০৫:১-৫) – দাঁতের ব্যথায় ৭ বার পড়ে লবণ পানিতে ফুঁ দিয়ে কুলি করান | আয়াত নং: ১০৫:১-৫ | | ২ | দোয়া | “বিসমিল্লা-হি ইয়াবরিক্বু মিন কিল্লি মু‘আফ্ফিরিন ইয়া-শফীক্বা।” – এটি হযরত উসমান ইবনু আবিল আস (রাঃ) এর রুকইয়ার একটি অংশ। (মুসলিম ২২০২, ২২০৩) |
ঙ. বুকে/হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও উদ্বেগ
| ক্রম | পদ্ধতি | বিস্তারিত | |------|--------|------------| | ১ | সূরা রাআদ (১৩:২৮) | “আলায়া বি�যিক্রিল্লা-হি তাত্মাআন্নিল ক্বুলূব।” – আয়াত নং: ১৩:২৮ (সকাল-সন্ধ্যা ৭ বার) | | ২ | দোয়া | “আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি…” (দোয়ায়ে মাসনুন) – হাদিস: বুখারি ৬৩৬৯ |
৫. কঠিন রোগ (ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস ইত্যাদি) এর জন্য রুকইয়া
কঠিন রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি নিচের পূর্ণাঙ্গ রুকইয়া পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এটি সপ্তাহে ৩ দিন বা প্রতিদিন করুন।
পদ্ধতি: এক পাত্র পানি নিন (যেমন বালতি/জগ)। নিচের সবগুলো আয়াত ও দোয়া পাত্রের প্রতি পড়ে ফুঁ দিন (দম করুন)।
| ক্রম | আয়াত/দোয়া | বিস্তারিত | |------|-------------|-----------| | ১ | সূরা ফাতিহা (১:১-৭) – ৭ বার | আয়াত নং ১:১-৭ | | ২ | আয়াতুল কুরসি (২:২৫৫) – ৭ বার | আয়াত নং ২:২৫৫ | | ৩ | সূরা ইখলাস (১১২:১-৪) – ১১ বার | আয়াত নং ১১২:১-৪ | | ৪ | সূরা ফালাক (১১৩:১-৫) – ৭ বার | আয়াত নং ১১৩:১-৫ | | ৫ | সূরা নাস (১১৪:১-৬) – ৭ বার | আয়াত নং ১১৪:১-৬ | | ৬ | সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২:২৮৫-২৮৬) – ৩ বার | আয়াত নং ২:২৮৫-২৮৬ | | ৭ | দোয়া | “আল্লাহুম্মা রব্বান্না-সি, মুয্হিবাল বা’সি, ইশফি আনতাশ শা-ফী… (উপরে উল্লেখিত)” – ৩ বার (রেফারেন্স নং ৪খ-২) | | ৮ | দোয়া | “লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।” (তিরমিযি ৩৬০৯) – ১০০ বার |
ব্যবহার: এই রুকইয়া করা পানি ৩ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস পান করুন এবং অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় রোগ নিরাময় হয়।
সাহাবী ও তাবেয়ীদের আমল:
- হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, “আয়াতুল কুরসি ও সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ দেওয়া সব রোগের জন্য কার্যকর।” (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা)
- ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস দিয়ে ফুঁ দেওয়া জ্বিন ও জাদু দূর করে। (মাসাইল ইমাম আহমাদ)
চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা (এক পলকে সব ধরনের রুকইয়া)
নিচের তালিকায় প্রতিটি সমস্যার জন্য কেবল প্রয়োজনীয় আয়াত/দোয়ার রেফারেন্স দেওয়া হলো (উপরের বিস্তারিত দেখুন)।
| রোগ/সমস্যা | করণীয় (রেফারেন্স অনুসারে) | |-------------|-----------------------------| | সাধারণ সুরক্ষা (দিন-রাত) | ১ নং তালিকা (আয়াত + দোয়া) | | বদনজর | ২ নং তালিকা (১,২,৩) | | জ্বিন ও জাদু | ৩ নং তালিকা (১-৫) পূর্ণ | | সব ধরনের শারীরিক ব্যথা | ৪ক-১ (সূরা ফাতিহা) + ৪ক-২ দোয়া | | পেটের সমস্যা | ৪খ-১ (সূরা ইনশিরাহ) + ৪খ-২ (দোয়া + কালোজিরা) | | চোখের সমস্যা | ৪গ-১ (সূরা নূর:২৪:৩৫) + ৪গ-২ দোয়া | | দাঁতের ব্যথা | ৪ঘ-১ (সূরা ফিল) + ৪ঘ-২ দোয়া | | উদ্বেগ, বিষণ্ণতা | ৪ঙ-১ (সূরা রাআদ:২৮) + ৪ঙ-২ দোয়া | | কঠিন রোগ (ক্যান্সার ইত্যাদি) | ৫ নং তালিকা (পূর্ণ পানি রুকইয়া) |
স্মারক: নিয়মিতভাবে সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও আজকার (যেমন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ ১০০ বার, ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার) পড়া রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।
আপনার দেওয়া টেমপ্লেট অনুযায়ী সব কিছু সাজানো হয়েছে। এখন আপনি চাইলে শুধু রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে নিজের রুকইয়া সংকলন তৈরি করতে পারেন।
উল্লেখ্য গ্রন্থ:
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ শফি) – ১/২৫০-২৬০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী) – ৪/২৭০-২৮৮
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন) – ১/৪২০-৪২২ (দম ও রুকইয়া সংক্রান্ত)
- বেহেশতী জেওর (মুফতি মাহমুদ হাসান) – ৮ম অধ্যায়
- আল-হিদায়া (শরহে মাসাইলে জাদু)
- সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, তিরমিযি
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন।
আমিন।