রোযাটা কি ভেঙে গেছে? (আর্জেন্ট প্লিজ)
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
১,একজন নফল রোযা রেখেছে। তার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে।তাই টয়লেট করার সময় ভুল করে ভিজা আঙুল পায়ুপথে ঢুকিয়ে ফেলেছে । পরেই তার মনে পরে গেছে সে রোযা এবং সাথে সাথে বের করে ফেলেছে। এতে কি তার রোযা ভেঙে গেছে?
২,কারো একজনের পিরিয়ডের রক্ত গেছে ৭ দিন তারপর হলদে স্রাব গেছে ১০ দিনের বেশি পর্যন্ত।তার আগের মাসের অভ্যাস ৭ দিন।এখন তো সে বাকি ৩ দিনের নামায কাযা করবে। এখন কি সে ৭ দিনের পর থেকে পবিত্রতা গননা করবে নাকি ১০ বা যেদিন থেকে হলুদ স্রাব বন্ধ হবে সেদিন থেকে গননা করবে? পরবর্তী পিরিয়ড ১৫ দিন পর হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য।
৩,কোর্টের মাধ্যমে মেয়েরা যে ডিভোর্স দেয়। তা নাকি ৩ মাস পর কোর্ট বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেয় যদি এর ভিতর মেয়ে তা তুলে না ফেলে।তাহলে মেয়ে ইদ্দত গননা করবে কখন থেকে। যেদিন ডিভোর্স দিয়ে আসে সেদিন নাকি যেদিন কোর্ট বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেয় সেদিন থেকে।মেয়ের ডিভোর্স দেয়ার বৈধ কারণ আছে।
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده
উত্তর
১. নফল রোযা রেখে ভুলে আঙুল পায়ুপথে প্রবেশ করানো
প্রশ্ন: এক ব্যক্তি নফল রোযা রেখেছেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে টয়লেট করার সময় ভুলে ভিজা আঙুল পায়ুপথে ঢুকিয়ে ফেললে এবং সাথে সাথে বের করে ফেললে রোযা ভঙ্গ হবে কি?
উত্তর: হানাফী মতে, পায়ুপথে কোনো বস্তু (আঙুল, ওষুধ ইত্যাদি) ইচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করালে রোযা ভেঙে যায়। কিন্তু যদি তা রোযার কথা ভুলে গিয়ে এমনটি করে (নিসিয়ান) তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না।
যেহেতু উপরোক্ত ঘটনায় ব্যক্তি রোযার কথা স্মরণ রেখেও ভুলে ভেজা আঙুল প্রবেশ করিয়েছে এবং সাথে সাথে বের করে ফেলেছে—এটি অনিচ্ছাকৃত হয়েছে রোযার কথা ভুলে নয়, তাই উক্ত রোযা ভঙ্গ হবে।
দলিল:
- الدر المختار مع رد المحتار (২/৩৮৪): "ولو أدخل إصبعه في دبره ناسياً لصومه لم يفطر" (অর্থ: যদি কেউ ভুলে তার পায়ুপথে আঙুল প্রবেশ করায় তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না)।
- فتاوى هندية (১/২০২): "وإن أدخل أصبعه في دبره ناسياً لم يفطر"।
- فتاوى عثمانی (২/৪৫২): "রোযা অবস্থায় ভুলে পায়ুপথে আঙুল প্রবেশ করালে রোযা ভঙ্গ হয় না"।
২. মাসিকের অভ্যাস ৭ দিন, অতঃপর হলদে স্রাব ১০ দিনের বেশি চলতে থাকলে পবিত্রতা গণনা
প্রশ্ন: এক নারীর মাসিক রক্ত ৭ দিন যায়, তারপর হলদে স্রাব ১০ দিনের বেশি পর্যন্ত চলে। তার আগের মাসের অভ্যাস ৭ দিন। এখন বাকি ৩ দিনের নামায কাযা করতে হবে। পবিত্রতা গণনা কখন থেকে করবে? ৭ দিন পর থেকে, নাকি হলদে স্রাব বন্ধ হওয়ার দিন থেকে? এবং পরবর্তী মাসিক ১৫ দিন পর হচ্ছে কিনা তা কীভাবে বুঝবে?
উত্তর:
হানাফী মতে, মাসিকের সর্বোচ্চ সীমা ১০ দিন। যদি রক্ত ও স্রাব মিলে ১০ দিনের বেশি হয়, তাহলে অভ্যাস (আদত) অনুযায়ী মাসিক গণ্য হবে। যেহেতু এই নারীর অভ্যাস ৭ দিন, তাই তার মাসিক হবে শুধু প্রথম ৭ দিন। এরপরের হলদে স্রাব (৮ দিন থেকে বাকি দিনসমূহ) ইস্তিহাযা (অবস্থাগত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে—এটি মাসিক নয়।
- পবিত্রতা গণনা: ৭ দিন শেষে গোসল করে নামায-রোযা শুরু করবে। হলদে স্রাবের কারণে নামায বন্ধ রাখবে না; প্রত্যেক নামাযের জন্য অজু করবে।
- কাযা নামায: ৭ দিনের পরের দিনগুলোতে (যতদিন সে ভেবে নামায পড়েনি) সে যে নামায ছেড়েছে তা কাযা করবে। প্রশ্নে উল্লেখিত "বাকি ৩ দিনের নামায" বলতে বুঝায়, যদি ৭ দিনের পর আরো ৩ দিন (মোট ১০ দিন পর্যন্ত) হলদে স্রাব থাকে এবং এ সময়ে সে নামায না পড়ে থাকে, তাহলে সেই ৩ দিনের নামায কাযা করতে হবে। আর যদি স্রাব ১০ দিনের বেশি হয়, তাহলে ৭ দিন পর থেকেই নামায পড়তে হবে এবং অতীতের বাদ পড়া নামায কাযা করতে হবে।
- পরবর্তী মাসিকের হিসাব: পবিত্রতা (তুহর) কমপক্ষে ১৫ দিন হতে হবে। ৭ দিন মাসিক শেষে (৮ম দিন) থেকে পবিত্রতা গণনা আরম্ভ করবে। যদি ১৫ দিনের আগে রক্ত আসে, তাহলে সেটি ইস্তিহাযা; আর ১৫ দিন পর আসলে তা নতুন মাসিক।
দলিল:
- الدر المختار مع رد المحتار (১/২৮৯): "أقل الحيض ثلاثة أيام وأكثره عشرة... فإذا زاد على العشرة فالمعتادة تعتبر عادتها" (অর্থ: মাসিকের সর্বনিম্ন ৩ দিন, সর্বোচ্চ ১০ দিন... যদি ১০-এর বেশি হয় তবে অভ্যাসগ্রস্তা তার অভ্যাস অনুযায়ী গণ্য করবে)।
- فتاوی هندية (১/৩৭): "إذا جاوز الدم العشرة والعادة سبعة فالحيض سبعة والباقي استحاضة" (অর্থ: যদি রক্ত ১০ দিন অতিক্রম করে এবং অভ্যাস ৭ দিন হয়, তাহলে মাসিক ৭ দিন, বাকি ইস্তিহাযা)।
- بہشتی زیور (طہارت کا بیان): "حائضہ کا خون دس دن سے زیادہ ہو جائے تو وہ اپنی عادت کے مطابق حیض شمار کرے گی"।
৩. কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দিলে ইদ্দত কখন থেকে গণনা করবে?
প্রশ্ন: কোনো মেয়ে কোর্টে ডিভোর্সের জন্য আবেদন করে। কোর্ট ৩ মাস পর বিবাহ বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করে (যদি এর মধ্যে মেয়ে আবেদন প্রত্যাহার না করে)। তাহলে ইদ্দত কখন থেকে গণনা করবে? যেদিন ডিভোর্স দিতে যায়, নাকি যেদিন কোর্ট রায় দেয়?
উত্তর:
হানাফী ফিকহ অনুসারে, ইদ্দত শুরু হয় বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার দিন থেকে।
প্রশ্নে উল্লেখিত মহিলা যদি স্বামী কর্তৃক তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে কোর্টের মাধ্যমে হোক বা নিজে নিজেই হোক,যখন সে নিজের নফসের উপর তালাক প্রদান করবে, তখন থেকে সে ইদ্দত গণনা করবে।
উল্লেখ্য সে যদি স্বামী কর্তৃক তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্তা না হয়ে থাকে অথবা নিজের উপর নিজে তালাক গ্রহণ না করে থাকে, সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হবে না, এমতাবস্থায় ইদ্দতের প্রশ্নই উঠে না।
والله تعالى أعلم بالصواب