রাতে রোযার নিয়ত করার পর সেহরি না খেলে কি রোযা রাখা যাবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
আমি রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ত ছিল আগামীকাল রোজা রাখব। সাহরি খেতে উঠব। কিন্তু সাহরি খেতে উঠতে পারিনি। ফজরের৷ নামাজও পড়তে পারিনি। এখন কি আমার রোজা হবে?
আমি ম্যাক্সিমাম টাইম এভাবেই রোজা রাখি। সাহরি আর ফজর ২টাই মিস যায়। এভাবে রোজা রাখলে রোজা কি আসলেই সহীহ হচ্ছে? অনেক চেষ্টা করেও আমি সাহরিতে উঠতে পারিনা,ফজরও মিস হয়। এলার্মেও কাজ হয়না। এমতাবস্থায় আমার কি করণীয়?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, রোজার শুদ্ধতার জন্য সাহরি খাওয়া ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং এটি মোস্তাহাব (সুন্নত) একটি আমল। সাহরি খেতে না পারলেও রোজা সহীহ হয়, যদি সুবহে সাদিকের আগে রোজার নিয়ত করা থাকে। আপনি রাতে ঘুমানোর আগেই নিয়ত করে রেখেছিলেন, তাই আপনার রোজা সহীহ হয়েছে ইনশাআল্লাহ। ফজরের নামাজ পড়তে না পারা রোজা ভঙ্গের কারণ নয়, বরং এটি ফরজ নামাজ ত্যাগ করার গুনাহের কাজ।
হানাফি ফিকহের দলিল:
১. রদ্দুল মুহতার (২/৩৭৭):
"রোজার জন্য সাহরি খাওয়া ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নত। কেউ সাহরি ছেড়ে দিলেও তার রোজা সহীহ হয়, যদি নিয়ত সুবহে সাদিকের আগে করে থাকে।"
২. ফাতাওয়া উসমানী (২/৪৩২):
"রাতে রোজার নিয়ত করার পর ঘুম থেকে না জাগা বা সাহরি না খাওয়ার কারণে রোজা নষ্ট হয় না।"
৩. ফাতাওয়া আলমগীরী (১/১৯৪):
"যদি কেউ সুবহে সাদিকের আগে অন্তরে রোজার নিয়ত করে, তারপর ঘুমিয়ে যায় এবং সারাদিন না জাগে, তবে তার রোজা সহীহ।"
তবে আপনার বর্তমান অভ্যাস সম্পর্কে সতর্কতা:
আপনি লিখেছেন, "ম্যাক্সিমাম টাইম এভাবেই রোজা রাখি, সাহরি আর ফজর ২টাই মিস যায়।" এটি অত্যন্ত দুঃখজনক অবস্থা।
- সাহরি ছেড়ে দেওয়া সুন্নতের বিপরীত এবং রোজার বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।" (বুখারী, মুসলিম) - ফজরের নামাজ না পড়া একটি কবীরা গুনাহ। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফজরের নামাজ ছেড়ে দেয়, তার ঈমান নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
"ফজর ও আসরের নামাজ ছেড়ে দেওয়া মুনাফিকের লক্ষণ।" (মুসলিম)
আপনার করণীয়:
১. রোজা রাখা চালিয়ে যান – যেহেতু নিয়ত ছিল, রোজা সহীহ হয়েছে। কিন্তু রোজাকে সাহরি ও ফজরবিহীন রাখাকে অভ্যাস করবেন না।
২. ফজরের নামাজের জন্য কঠোর চেষ্টা করুন:
– ডাক্তারি পরীক্ষা করে দেখুন যদি কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে।
– একাধিক অ্যালার্ম সেট করুন (মোবাইলে ৩-৪টি অ্যালার্ম ৫ মিনিট ব্যবধানে)।
– পরিবারের কাউকে বলুন যেন তারা আপনাকে ডাকে।
– তাজা অবস্থায় ঘুমান (ইশার নামাজের পর খুব তাড়াতাড়ি না ঘুমিয়ে কিছু সময় জেগে থাকা)।
– আন্তরিকভাবে দোয়া করুন: "يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ" (হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অটুট রাখুন)।
৩. রমজানের পরেও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করুন – যেমন কিছুদিন ফজরের সময় জেগে নামাজ পড়ে আবার ঘুমানো।
৪. যদি সত্যিই না উঠতে পারেন – তাহলে ফজরের কাযা পড়বেন এবং তওবা করবেন। রোজা তো সহীহ, কিন্তু ফজরের নামাজ ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ।
পরামর্শ:
আপনার এই অভ্যাস ধীরে ধীরে বদলান। একদিন না উঠলে হতাশ হবেন না, বরং চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ তাওফিক দিলেই সম্ভব। মনে রাখবেন, রোজা পালনের পাশাপাশি নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রোজা কবুল হওয়ার জন্যও নামাজের সাথে সম্পর্ক আছে।
আল্লাহ আপনাকে তওফিক দিন, আমিন।