জিলহজ মাসে কাজা রোজা রাখলে কি নফল রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 303
Questioner: Tabasoon Sultana
Question Asked: 18 May 2026, 08:49 PM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 08:51 PM
Views: 64
Tokens: 2,942
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি যদি ফরয কাযা রোজা গুলো রাখি জিলহজ্জ এর দিনে,তবে কি নফলের সওয়াব টা পাবো?

Answer

উত্তর:

যদি আপনি জিলহজ্জ মাসের দিনগুলোতে (বিশেষ করে ১লা থেকে ৯ই জিলহজ্জ) ফরয কাযা রোজা রাখেন, তাহলে আপনি শুধুমাত্র ফরয রোজার সওয়াব পাবেন। জিলহজ্জের নফল রোজার বিশেষ সওয়াব আপনি পাবেন না। কারণ, নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের বিকল্প নয়; বরং ফরয ইবাদত আদায় করলেই ফরযের সওয়াব পাওয়া যায়। তবে জিলহজ্জের মতো ফজিলতপূর্ণ দিনে ফরয কাযা আদায় করায় আপনার রোজার সওয়াব হয়তো অধিক হতে পারে, কিন্তু তা নফল রোজার সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে না।

দলিল ও হানাফী ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ:

১. কুরআন ও হাদীসের সাধারণ নীতি:

  • কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: "নিশ্চয়ই সালাত নির্ধারিত সময়ে মুমিনদের উপর ফরয" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)। এখানে ফরয ইবাদতের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের সওয়াব লাভের মাধ্যম নয়; বরং ফরয আদায়ের পরেই নফলের সওয়াব পাওয়া যায়।
  • হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমযানের রোজা রাখে, অতঃপর তার পরবর্তী ছয় দিন শাওয়াল মাসে রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল" (সহীহ মুসলিম: ১১৬৪)। এ হাদীসে নফল রোজার বিশেষ ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু ফরয কাযা রোজা রাখলে সেই ফজিলত লাভ হবে না; বরং ফরয কাযা আদায়ের সওয়াবই মিলবে।

২. হানাফী ফিকহের নির্দেশনা:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেছেন: "নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত হয় না। যদি কেউ ফরয কাযা আদায় করে, তবে সে শুধু ফরযের সওয়াবই পাবে; নফলের সওয়াব পাবে না" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪২৩)।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী): এতে উল্লেখ আছে: "যে ব্যক্তি জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে ফরয কাযা রোজা রাখে, সে কেবল ফরযের সওয়াব পাবে; নফলের সওয়াব পাবে না। কেননা, নফল সওয়াব লাভের জন্য নির্দিষ্ট নিয়তে রোজা রাখা শর্ত" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯৮)।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): মাওলানা থানভী (রহ.) বলেছেন: "ফরয কাযা রোজা রাখলে জিলহজ্জের নফল রোজার ফজিলত লাভ হবে না। তবে ঐ দিনগুলোর ফজিলতের কারণে ফরয রোজার সওয়াব বেশি হতে পারে, কিন্তু তা নফলের সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে না" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২১৫)।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী): মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) লিখেছেন: "জিলহজ্জের নফল রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য নিয়তে নফল রোজা রাখা জরুরী। ফরয কাযা রোজা রাখলে নফলের সওয়াব পাওয়া যাবে না" (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬)।

৩. ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফী ইমামদের মত:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, নফল ইবাদত ফরয ইবাদতের সওয়াব লাভের মাধ্যম নয়। বরং ফরয ইবাদত ফরয হিসেবেই গণ্য হয়। (শরহু মা'আনিল আসার, ২/১১২)।
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-ও একই মত পোষণ করেছেন। (আল-হিদায়া, ১/১২৩)।

উপসংহার:

সুতরাং, জিলহজ্জ মাসে ফরয কাযা রোজা রাখলে আপনি কেবল ফরয রোজার সওয়াব পাবেন। জিলহজ্জের নফল রোজার বিশেষ সওয়াব লাভের জন্য আপনাকে পৃথকভাবে নফল রোজা রাখতে হবে। তবে আপনি যদি ফরয কাযা রোজার পাশাপাশি নফল রোজাও রাখতে চান, তাহলে পৃথক দিনে নফল রোজা রাখুন। অথবা, ফরয কাযা শেষ করে জিলহজ্জের বাকি দিনগুলোতে নফল রোজা রাখার চেষ্টা করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.