রমজানের কাযা বাকী, এমতাবস্থায় জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা যাবে কি?

Siyam-Fasting · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 353
Questioner: Rased Hasan
Question Asked: 19 May 2026, 01:04 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 01:47 PM
Views: 89
Tokens: 2,464
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি এবছর অসুস্থতার জন্য ফরজ সিয়াম পালন করতে পারিনি। বর্তমানে জিলহজ মাস চলছে। আমি কি এখন জিলহজের প্রথম ৯ দিন সাওম পালন করতে পারব? শরিয়াতের নিয়ম কি ? বিস্তারিত জানতে চাই।

Answer

উত্তর:
আপনি যে কারণে ফরজ সিয়াম (রমজানের কাযা) পালন করতে পারেননি, সেগুলো এখনো আপনার জিম্মায় রয়েছে। জিলহজের প্রথম ৯ দিনের সিয়াম নফল (অতিরিক্ত) ইবাদত। ইসলামী শরিয়তে ফরজ ইবাদত নফলের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়। তাই আপনার কর্তব্য হলো প্রথমে রমজানের কাযা সিয়ামগুলো আদায় করা। তবে আপনি চাইলে জিলহজের প্রথম ৯ দিন কাযার নিয়তে সিয়াম রাখতে পারেন, তাহলে একই সাথে ফরজ আদায় হবে এবং এই দিনগুলোর ফজিলতও (ইনশাআল্লাহ) পাবেন। কিন্তু শুধু নফল নিয়তে সিয়াম রাখা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না আপনি সব কাযা সিয়াম সম্পন্ন করেন।

কোরআন ও হাদিসের দলিল:
১. কোরআনে বলা হয়েছে:

"তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূর্ণ করবে।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৪-১৮৫)
এখানে ফরজ কাযা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. নবী ﷺ বলেছেন:

"আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত হলো ফরজগুলো আদায় করা, তারপর নফল।" (বুখারি ও মুসলিম)
এ থেকে বোঝা যায়, ফরজ বাকি থাকলে নফল শুরু করা উচিত নয়।

৩. ইবনে উমর (রা.) বলেন:

"যে ব্যক্তির রমজানের কাযা বাকি আছে, সে যেন নফল সিয়াম না রাখে, যতক্ষণ না কাযা আদায় করে।" (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, সহিহ সনদ)

শাইখদের মতামত:

  • শাইখ ইবনে বায (রহ.) বলেছেন: "রমজানের কাযা বাকি থাকা অবস্থায় নফল সিয়াম রাখা জায়েজ নয়। বরং প্রথমে কাযা আদায় করা ওয়াজিব।" (মাজমু‘ ফাতাওয়া ১৫/৩৯৫)
  • শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তির কাযা আছে, সে যদি আরাফার দিন (৯ জিলহজ) কাযার নিয়তে সিয়াম রাখে, তাহলে সে দুইটি সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ। তবে শুধু নফল নিয়তে রাখা জায়েজ নয়।" (লিকাউত বাব আল-মাফতুহ, ১৪/৬৪)
  • শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেছেন: "ফরজ কাযা আদায় না করে নফল সিয়াম রাখা নিষিদ্ধ, কারণ নবী ﷺ বলেছেন: 'প্রথমে ফরজ, তারপর নফল'।" (সিলসিলা সহিহা, ২৮৯৭)
  • শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেছেন: "রমজানের কাযা বাকি থাকলে জিলহজের নফল সিয়াম রাখা যাবে না, বরং কাযাকে নিয়ত করে রাখতে হবে।" (আল-মুনতাকা, ৩/২৩৪)

আপনার জন্য করণীয়:
১. যত দ্রুত সম্ভব রমজানের কাযা সিয়ামগুলো আদায় করুন।
২. জিলহজের প্রথম ৯ দিন (বিশেষ করে ৯ তারিখ, আরাফার দিন) কাযার নিয়তে সিয়াম রাখলে আপনি উভয়ের ফজিলত পাবেন ইনশাআল্লাহ।
৩. যদি কাযা সংখ্যা বেশি হয়, তাহলে প্রতিদিন একটি কাযা রাখুন এবং পুরো ৯ দিন কাযা হিসেবে রাখতে পারেন।
৪. শুধু নফল নিয়তে রাখবেন না, কারণ তা ফরজকে অবহেলা করার শামিল।

সারসংক্ষেপ: আপনি জিলহজের প্রথম ৯ দিন সিয়াম রাখতে পারেন, তবে তা অবশ্যই রমজানের কাযার নিয়তে হতে হবে। ফরজ কাযা বাকি থাকা অবস্থায় নফল সিয়াম রাখা জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা আপনার অসুস্থতা ক্ষমা করুন এবং আপনার ইবাদত কবুল করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.