ঔষধ খাওয়ার সময় আল্লাহ শাফি বলা কি বিদাত?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 1996
Questioner: Jakia Khanam
Question Asked: 24 Jun 2026, 11:38 PM
Reviewed & Published: 24 Jun 2026, 11:42 PM
Views: 136
Tokens: 3,571
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ঔষধ খাওয়ার সময় আল্লাহ,শাফি বলা কি বিদাত?

Answer

ঔষধ খাওয়ার সময় "আল্লাহ, শাফি" বলা কি বিদআত?

উত্তর: না, ঔষধ খাওয়ার সময় বা অন্য যেকোনো সময় “আল্লাহ, শাফি” (অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আরোগ্যকারী’) বলা বিদআত নয়। বরং এটি একটি বৈধ দু‘আ ও যিকির, যা করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো—এটিকে সুন্নত বা আবশ্যক মনে না করা।

বিদআতের সংজ্ঞা

বিদআত হলো—দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন আমল বা বিশ্বাস সৃষ্টি করা, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে ছিল না, অথচ সেটিকে দ্বীনের অংশ মনে করে ইবাদত হিসেবে পালন করা। সাধারণ দু‘আ ও যিকির বিদআতের আওতাভুক্ত নয়, কারণ মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে।

দলিল ও হানাফী ফিকহের মতামত

১. হাদীসের আলোকে: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে রোগীর জন্য নিম্নোক্ত দু‘আ পড়েছেন:

“আল্লাহুম্মা রব্বান্নাস, আদিহিবিল বা’স, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফী, লা শিফা আ ইল্লা শিফা উকা, শিফা আন লা ইউগাদিরু সাকামা।”
(হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করুন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যকারী, আপনার আরোগ্যই প্রকৃত আরোগ্য—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখবে না।)
[সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৭৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২১৯১]

এ হাদীসে “আনতাশ শাফী” (আপনিই আরোগ্যকারী) বলা হয়েছে। তাই “আল্লাহ, শাফি” বলা এরই সংক্ষিপ্ত রূপ এবং বৈধ।

২. হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহ:

  • ফাতাওয়া উসমানীইমদাদুল ফাতাওয়া-তে এসেছে—যিকির ও দু‘এর ক্ষেত্রে শরীয়তের মূলনীতি হলো, যা কিছু দ্বীনের বিপরীত নয়, তা অনুমোদিত। রোগীর জন্য দু‘আ করা এবং আল্লাহকে ‘শাফি’ বলে সম্বোধন করা জায়েয।
  • আল-হিদায়া, রদ্দুল মুহতারফাতাওয়া আলমগীরী-তেও দু‘আর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে এবং দুনিয়াবি কাজে আল্লাহর স্মরণকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
  • বাহিশ্তি জেওর-এ ঔষধ সেবনের সময় দু‘আ পড়ার কথা উল্লেখ আছে। যেমন— “বিসমিল্লাহি যাররিহি ওয়া যিকরিহি” বলা, যা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে ‘আল্লাহু শাফি’ বলাও এর সমর্থিত।

৩. হানাফী ফকীহগণের নীতি:
ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর মতে, যে কোনো বৈধ দু‘আ বা যিকির করা জায়েয, যদিও তা নির্দিষ্ট হাদীসে না থাকে। তবে সেটিকে ‘সুন্নত’ বা ‘ওয়াজিব’ বলে গণ্য করা যাবে না।
(দেখুন: উসুলুশ শাশী, শারহু মা‘আনিল আসার)

সতর্কতা

ঔষধ খাওয়ার সময় ‘আল্লাহ, শাফি’ বলার পাশাপাশি এই বিশ্বাস রাখা উচিত নয় যে, শুধু এ শব্দগুলো পড়লেই আরোগ্য হবে। বরং রোগমুক্তি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। দু‘আর পাশাপাশি চিকিৎসা ও ঔষধ গ্রহণ করাও সুন্নত এবং প্রয়োজন।

সুন্নত পদ্ধতি

যদি কেউ হাদীসে বর্ণিত সম্পূর্ণ দু‘আটি পড়তে চায়, তবে তা উত্তম। কিন্তু শুধু “আল্লাহ, শাফি” বলাও জায়েয এবং বিদআত নয়।

সারকথা

  • “আল্লাহ, শাফি” বলা বিদআত নয়, বরং একটি বৈধ দু‘আ ও যিকির।
  • এটিকে ইবাদত মনে করে সুন্নতের নিয়তে বলা ঠিক নয়, তবে সাধারণ দু‘আ হিসেবে বলতে কোনো বাধা নেই।
  • হানাফী ফিকহের কিতাবাদি এ ধরনের বৈধ দু‘আকে অনুমোদন করে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.