স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ট্রেনিং এমন কোনো মহিলা নিলে যার স্বামী রয়েছে, সংসারে কি কোনো সমস্যা হবে?

Business and Job · Hanafi

Question No: 1890
Questioner: Sumaiya Jahan
Question Asked: 21 Jun 2026, 09:16 PM
Reviewed & Published: 21 Jun 2026, 09:21 PM
Views: 114
Tokens: 3,573
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোনো প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের ব্যবসার জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে অনুদান দেওয়া হয় স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদেরকে বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়ার জন্য। বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে এমন কোনো মহিলা ঐ ট্রেনিং নিলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কি কোনো সমস্যা হতে পারে?

Answer

প্রশ্ন: কোনো প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের ব্যবসার জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে অনুদান দেওয়া হয় স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদেরকে বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়ার জন্য। বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে এমন কোনো মহিলা ঐ ট্রেনিং নিলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কি কোনো সমস্যা হতে পারে?

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

প্রথমত, ইসলামী শরিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে মহিলাদের জন্য ট্রেনিং নেওয়া জায়েয হতে পারে। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

১. ট্রেনিং-এর উদ্দেশ্য ও শর্তাবলী:

ক. প্রশ্নে উল্লেখিত ট্রেনিং মূলত স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের জন্য নির্ধারিত। বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে এমন মহিলা যদি সেই ট্রেনিং নেন, তবে সেটি মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

খ. রদ্দুল মুহতার (৬/৩৭৪) ও ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় উল্লেখ আছে, স্বামী থাকা অবস্থায় স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাড়ি থেকে বের হওয়া বা কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়া জায়েয নয় (সূরা আন-নিসা: ৩৪)।

২. বৈবাহিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব:

ক. স্বামীর অনুমতি ছাড়া ট্রেনিং নিলে তা স্বামীর অধিকার লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্কে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

খ. ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩২) ও ফাতাওয়া উসমানিতে উল্লেখ আছে, যদি কোনো কাজ স্বামীর অসন্তুষ্টির কারণ হয় এবং তা বৈধ কোনো কারণে না হয়, তাহলে তা স্ত্রীর জন্য অনুচিত।

৩. ফিকহি বিধান:

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:

  • স্বামী পরিত্যক্ত ও বিধবা মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা জায়েয, যদি তা পর্দা ও শারঈ বিধান মেনে হয়।
  • কিন্তু বিবাহিত মহিলার জন্য স্বামীর অনুমতি ও সন্তুষ্টি অপরিহার্য (সূরা আন-নিসা: ৩৪; আল-হিদায়া, ২/৩৩২)।

পরামর্শ:

১. বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে এমন মহিলা যদি ট্রেনিং নিতে চান, তবে প্রথমে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।

২. প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য যদি নির্দিষ্টভাবে স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের জন্য হয়, তাহলে অন্যান্য মহিলাদের সেখানে অংশগ্রহণ করা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে।

৩. ট্রেনিং চলাকালীন ও পরবর্তীতে পর্দা, গায়রে মাহরামের সাথে মেলামেশা ও অন্যান্য শারঈ বিধান মানা বাধ্যতামূলক।

সারসংক্ষেপ: বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে এমন মহিলা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বা এমন ট্রেনিংয়ে অংশ নিলে যা স্বামীর অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তাহলে তা বৈবাহিক সম্পর্কে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এজন্য তালাক হবে না।

والله أعلم بالصواب

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৪
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২৭
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৩২
  • ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫
  • আল-হিদায়া, ২/৩৩২
  • সূরা আন-নিসা: ৩৪
  • মা'আরিফুল কুরআন, ২/৪৫৪


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.