মায়ের সঙ্গে শাহওয়াতসহ স্পর্শের ইসলামি বিধান, গুনাহের প্রকার, তওবা ও ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1690
Questioner: Sakibul Hasan
Question Asked: 16 Jun 2026, 04:13 PM
Reviewed & Published: 16 Jun 2026, 04:31 PM
Views: 19
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস সালামু আলাইকুম,
আজ থেকে ৯ বছর আগে, মায়ের সাথে ঘুমাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সের এক ছেলে তার মাকে ইচ্ছে করেই স্পর্শ করে সরাসরি ত্বকে।বেশ কিছুক্ষন (৩-৪ সেকেন্ড) স্পর্শ করে। তখন মনে মনে সে আতংকিত ও ভীত ছিলো। তার লিঙ্গ দাঁড়ায় নি। আসলে সে তখন হুরামাত সম্পর্কে জানত না। এই দুই তিন দিন হলো জানতে পেরেছে। এতো বছর অতিবাহিত হবার পর এখন তার আর সঠিক মনে আসছে না যে সে যখন স্পর্শ করে তখন কামভাব ছিলো কী না? আবার মাঝে মধ্যে দ্বিধায় পরে যায় লিঙ্গ উত্থান এর ব্যাপারে। সে খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এই বিষয়টা নিয়ে।সারাদিন শুধু এই দুশ্চিন্তা নিয়েই পরে থাকে।সে অন্য কোন কাজে মনোযোগ দিতেও পারছে না। এখন এর বিধান কী হবে?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার বর্ণিত ঘটনা প্রসঙ্গে:

১. আপনি তখন ১৩ বছর বয়সী ছিলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, এবং আপনার লিঙ্গ দাঁড়ায়নি, বরং আপনি ভীত ও আতঙ্কিত ছিলেন। এই অবস্থায় ইচ্ছা থাকলেও প্রকৃত কামভাব (শাহওয়াত) ছিল বলে মনে হয় না। ফিকহের কিতাবে আছে, যদি স্পর্শের সময় শাহওয়াত না থাকে, তাহলে তা গুনাহ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯১)

২. এখন ৯ বছর পর আপনার সঠিক মনে নেই যে কামভাব ছিল কি না। ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী, সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কাজকে গুনাহ সাব্যস্ত করা যাবে না। বরং মূলনীতি হলো: “اليقين لا يزول بالشك” (নিশ্চিত জিনিস সন্দেহে দূর হয় না)। আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে কামভাব ছিল, তাহলে ধরে নেবেন না। (আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর, ১/৬০)

৩. আপনি এখন যে দুশ্চিন্তা ও ওয়াসওয়াসায় (শয়তানের প্ররোচনা) ভুগছেন, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। শয়তান মানুষকে অতীতের ছোট ছোট গুনাহ বা সন্দেহের মাধ্যমে অস্থির করে তোলে। আপনি অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না, এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই এড়িয়ে চলার জন্য কয়েকটি পরামর্শ:

  • তওবা করুন: যদিও আপনার গুনাহ হওয়া সন্দেহজনক, তবু সাধারণভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিশ্চিন্ত হোন। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। (সূরা আয-যুমার, ৫৩)
  • ওয়াসওয়াসা দূর করুন: যখনই এই চিন্তা আসে, তখন “أعوذ بالله من الشيطان الرجيم” পড়ুন এবং অন্য কাজে মন দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণাকে গুরুত্ব দেবেন না। (সূরা ফুসসিলাত, ৩৬)
  • আপনার বর্তমান বিবাহ বা ভবিষ্যৎ বিবাহের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। আপনি নিশ্চিন্তে বিবাহ করতে পারেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

সারকথা:

  • অতীতের কাজ নিয়ে আর চিন্তা করবেন না। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচুন।
  • তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। তিনি ক্ষমাশীল।
  • এখন থেকে সতর্ক থাকুন এবং নিজের ইবাদত ও দুনিয়ার কাজে মনোনিবেশ করুন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.