”মোঃ” নাম এবং আল্লাহ পাক এর নামের অসম্মান করলে কি ইমান বাকী থাকবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1816
Questioner: Shawon
Question Asked: 19 Jun 2026, 09:53 PM
Reviewed & Published: 19 Jun 2026, 09:59 PM
Views: 96
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।একটা বিরিয়ানির পেকেটের উপরে মোঃ মিন্টু লেখা ছিলো খেয়াল করেনি সেটা আমার বউ এমন এক পুকুরে ফেলছে যেখানে মানুষ ময়লা,নাপকি ফেলে এখন সেই পেকেট টা দেখা যায়না সেখান থেকে না খুজলে বা বাহির করার চেষ্টা না করলে ইমানে সমস্যা হবে কি?

২।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম যদি এমন কোনো যায়গায় থাকে যেখানে অসম্মান হবে বা নাপাকি থাকে, মানুষ চলাচল করে না তুললে বা সম্মানিত যায়গায় না রাখলে ইমান চলে যাবে কি?

Answer

প্রশ্ন:
১. একটি বিরিয়ানির প্যাকেটের উপরে 'মোঃ মিন্টু' লেখা ছিল খেয়াল না করে আমার স্ত্রী সেটি এমন এক পুকুরে ফেলে দিয়েছে যেখানে মানুষ ময়লা-আবর্জনা ও নাপাকি ফেলে। এখন সেই প্যাকেটটি পুকুর থেকে দেখা যায় না, খুঁজে বের করার চেষ্টা না করলে কি ইমানে সমস্যা হবে?

২. আল্লাহ পাক ও রাসূল সা.-এর নাম যদি এমন কোনো স্থানে থাকে যেখানে অসম্মান হবে বা নাপাকি থাকে, মানুষ চলাচল করে, সেটি না তুললে বা সম্মানিত স্থানে না রাখলে কি ইমান চলে যাবে?


উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

১ম প্রশ্নের উত্তর:

প্যাকেটের ওপর 'মোঃ' বা 'মিন্টু' লিখিত থাকলে, এটি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নাম বা তার প্রতি ইঙ্গিত করে, এটিকে অসম্মানের স্থানে ফেলা গুনাহের কাজ যদি মুহাম্মদ সাঃ এর নাম মনে করে ফেলা হয়। তবে আপনার স্ত্রী খেয়াল না করে (অনিচ্ছাকৃতভাবে) ফেলেছেন। এখন পুকুর থেকে প্যাকেট বের করা যদি অসম্ভব বা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়, তাহলে তার উপর তা বের করার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই ইমানের কোনো ক্ষতি হবে না

তবে যদি সহজে বের করা সম্ভব হয়, তাহলে বের করে কোনো পবিত্র ও সম্মানজনক স্থানে (যেমন: কাগজ পুড়িয়ে দেওয়া অথবা কোনো পরিষ্কার মাটিতে পুঁতে দেওয়া) রাখা উচিত। এখন প্যাকেটটি পুকুরে অদৃশ্য হয়ে গেছে, তাই আর তালাশ না করলেও গুনাহ হবে না।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • কোনো নামাজি বা কুরআনের আয়াত অনিচ্ছাকৃতভাবে নাপাক জায়গায় পড়ে গেলে এবং তা বের করা কষ্টকর হলে, বের করতে বাধ্য নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২২)
  • ইচ্ছাকৃত অসম্মান ও অবজ্ঞা ছাড়া ইমান চলে যায় না। (ফাতাওয়া উসমানি, ১/২২৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৮)

২য় প্রশ্নের উত্তর:

আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর নাম যদি অসম্মানের স্থানে (যেমন: আবর্জনার স্তূপ, পায়খানা, নাপাক জায়গা) পড়ে থাকে এবং সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে না ফেলে, বরং ভুলে বা অজান্তে পড়ে গেছে, তাহলে তার ওপর থেকে দ্রুত সরিয়ে সম্মানজনক স্থানে রাখা উচিত। যদি সরানো সম্ভব হয় কিন্তু না সরায়, তাহলে গুনাহ হবে, কিন্তু ইমান চলে যাবে না—যতক্ষণ না সে ইচ্ছাকৃত অসম্মান ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে।

তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ বা রাসূল (ﷺ)-এর নামকে অসম্মানের স্থানে ফেলে বা অসম্মান করে, তাহলে তা কুফরি। অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের নিয়ত থাকলে ইমান চলে যায়

হাদিস ও ফিকহের আলোকে:

  • রাসূল (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন বা আল্লাহর নামকে অপমান করে, সে কাফির হয়ে যায়।" (বুখারি, কিতাবুল ইমান; ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/২৫১)
  • ইচ্ছা না থাকলে ইমান নষ্ট হয় না। (আল-হিদায়া, ফাসাদুল ইমান; রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৭২)

মোটকথা:

আপনার স্ত্রী অজান্তে প্যাকেটটি ফেলে দিয়েছেন, তাই তার ইমানে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভবিষ্যতে নামযুক্ত কাগজ-প্যাকেট যেন সম্মানজনক স্থানে ফেলা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আর কোনো নাম অসম্মানের স্থানে পড়লে তা যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা উচিত।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.