হারাম সম্পর্ক থেকে কিভাবে বেড়িয়ে আসতে পারি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার একটা দ্বীননদার ছেলের সাথে পরিচয় হয় বেশ কিছুদিন আগে। ছেলেটা তার সকল কাজে সুন্নাহ মানার চেষ্টা করে, আলেমের সহবত আছে, উম্মাহর প্রতি অনেক দরদ। আমি তাকে বিয়ের জন্য পছন্দ করি বাসায় জানাই। আমার বাসা থেকে তার পরিবারকে প্রস্তাব পাঠাতে বলে এছাড়া আমার বাবা মা রাজি না। কিন্তু ছেলেটার বাবা মা ততটা দ্বীনদার না। তারা আরও ৩-৪ বছর পর বিয়ে দিতে চায়। তার সাথে আমার বেশ কিছু ঝামেলা হয়েছে । এখন সে আমাকে বলছে আমি তার হক নষ্ট করেছি, আমাকে অভিশাপ দিয়েছে সে, আমার বাবা মা কেও। আমি অন্যায় করেছিলাম তার সাথে । আমি ক্ষমা চেয়েছি তার কাছে। সে বলেছে সে ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু সাথে এটাও বলেছে সে আমার জন্য নিয়ামত ছিল,কিন্তু আমার দোষে আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি। এমন ছেলে আর পাব না আমি। আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন। এখন আমার করণীয় কি? আমার বাবা মাও তেমন দ্বীনদার না, তারা মডারেট মুসলিম টাইপ কাউকে আমার জন্য পছন্দ করবে। আমি আসলে বুঝতে পারছিনা কি করব। এমন উম্মাহর উপর মহব্বত ওয়ালা কাউকে কি পাব? তার কাছে কি ফিরে যাব নাকি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিব।
যদি তার থেকে আমার সরে আসা উত্তম হয় তবে কীভাবে তাকে ভুলে থাকতে পারি। উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য কীভাবে আমল করতে পারি? আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রথমেই জেনে রাখুন, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবাহ পূর্ব কোনো নারী-পুরুষের সম্পর্ক ইসলামসম্মত নয়। আপনার উক্ত ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আপনারা দুজনেই দ্বীনের পথে চলতে চান, কিন্তু শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে বর্তমানে মানসিক ও আধ্যাত্মিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
১. আপনার করণীয়:
ক. তওবা ও ইস্তিগফার করুন:
যেহেতু আপনি স্বীকার করছেন যে, আপনার পক্ষ থেকে অন্যায় হয়েছে, তাই আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে তওবা করুন। সূরা আয-যুমার (৫৩) এ আল্লাহ বলেন:
"হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
খ. বিগত সম্পর্কের জন্য অনুশোচনা ও সংশোধন:
এখন থেকে পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক (ফোন, মেসেজ, দেখা-সাক্ষাৎ) পুরোপুরি বর্জন করুন। ছেলেটি আপনাকে অভিশাপ দিলেও তার কথায় কান দেবেন না, কারণ অভিশাপ দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"মুসলিমকে অভিশাপ দেওয়া পাপ, আর তাকে হত্যা করার সমতুল্য।" (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৬০৪৭)
গ. পরিণতির দায়িত্ব নিন:
ছেলেটির সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার ভুল থাকলে তা স্বীকার করে তাকে ক্ষমা চেয়ে নিন এবং নিজের দায়িত্ব শেষ করুন। তবে তার পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হলে এবং আপনার পরিবারও রাজি না হলে, এই সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
২. তার কাছে ফিরে যাওয়া উচিত হবে কি?
না, ফিরে যাওয়া উচিত নয়। কারণ:
১. তার অভিশাপ দেওয়া ও দোষারোপ করা প্রমাণ করে যে, তিনি এখনো আবেগ ও রাগের বশবর্তী – যা একজন দ্বীনদার পুরুষের বৈশিষ্ট্য নয়। দ্বীনদার ব্যক্তি ধৈর্য ও ক্ষমার শিক্ষা দেন।
২. পরিবারের অসম্মতি – আপনার পিতা-মাতা রাজি না থাকলে ইসলামী শরীয়তে তাদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।
৩. তিনি নিজেই বলছেন, "আমি তোমার জন্য নেয়ামত ছিলাম" – এটি অহংকার ও আত্মশ্লাঘার লক্ষণ। প্রকৃত মুমিন তাকে নেয়ামত মনে করে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়।
সুতরাং, আপনার জন্য উত্তম হলো সম্পূর্ণরূপে তার কাছ থেকে সরে আসা।
৩. তাকে ভুলে থাকার জন্য আমল:
- নিয়মিত নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত করুন – আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা রাদ, ২৮)
- দোয়া করুন:
"রাব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়াতিনা কুররাতা আ'ইনিন ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকীনা ইমামা।" (সূরা ফুরকান, ৭৪)
"হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে আমাদের চোখ শীতল করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ করুন।" - বিবাহের আমল করুন:
- তাহাজ্জুদ নামাজে কান্নাকাটি করে উত্তম জীবনসঙ্গী চান।
- সূরা মুজাম্মিল, সূরা নূহ, সূরা ইউসুফের আয়াত বেশি পড়ুন।
- দুই রাকাত নামাজ পড়ে এই দোয়া করুন:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা তায়্যিবাল হালালি মিন আয-যাওয়াজ।"
৪. আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন?
হ্যাঁ, আল্লাহ ক্ষমাশীল। তবে শর্ত হলো:
১. গুনাহ ছেড়ে দেওয়া (সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করা)।
২. অনুশোচনা করা (আপনি ইতিমধ্যে করছেন)।
৩. পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি গুনাহ করে তওবা করে, সে যেন কখনো গুনাহ করেনি।" (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৪০)
৫. ভবিষ্যতের জন্য পরামর্শ:
- বিবাহের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নিন – কোনো পুরুষের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না রেখে বাবা-মায়ের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠান।
- দ্বীনদার জীবনসঙ্গীর জন্য শুধু আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন – যেমন হাদিসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দেন।" (মুসনাদ আহমাদ)
আপনার বাবা-মা মডারেট মুসলিম হলেও তাদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলে দ্বীনদার পাত্রের গুরুত্ব বোঝান। আপনার নিজের দ্বীনদারি ও আমলের মাধ্যমে তারা প্রভাবিত হবেন ইনশাআল্লাহ।
সর্বোপরি, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। একমাত্র তিনিই উত্তম জীবনসঙ্গী দান করতে পারেন।
আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করুন এবং উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন। আমিন।
উম্মাহর প্রতি ভালোবাসা ও দ্বীনদারি থাকা ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে মিলে, কিন্তু সেটা হবে বৈধ পথে, অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে নয়।
---
মেটা বর্ণনা: দ্বীনদার ছেলের সাথে সম্পর্ক, অভিশাপ ও ক্ষমা চাওয়া – ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে করণীয় কী? ফিরে যাওয়া বা সরে আসা, তওবা ও উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য আমল।
SEO কীওয়ার্ডস: দ্বীনদার ছেলের সাথে সম্পর্ক, ইসলামিক সম্পর্ক গাইড, তওবা কবুল, বিবাহ পূর্ব সম্পর্ক, উত্তম জীবনসঙ্গীর দোয়া।
SEO সার্চ ফ্রেজেস: "বিয়ের আগে সম্পর্ক ভাঙলে ইসলাম কী বলে", "মুসলিম মেয়ের জন্য দ্বীনদার পাত্র খোঁজার উপায়", "অভিশাপ দেওয়ার শাস্তি ইসলামে", "তওবা কবুলের শর্ত"।