হুরমতে মুসহারাত সংক্রান্ত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর প্রদানে আল্লাহ তাআলার নামে শুরু করছি।
প্রশ্নটি হুরমত-মুশারাহাত (বৈবাহিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে হুরমত) সংক্রান্ত। আপনি একটি অমহরম মহিলার পেটে হাত দিয়েছেন অল্প সময়ের জন্য (১.৫ সেকেন্ড), এবং সেই সময় আপনার লিঙ্গে কিছু ক্ষণস্থায়ী ঝিনঝিন বা টান অনুভূত হয়েছে, কিন্তু ইরেকশন হয়নি। আপনি জানতে চান যে, এতে হুরমত-মুশারাহাত সাব্যস্ত হবে কি না, এবং সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন কি না।
হানাফী মাযহাবের মূলনীতি ও মতপার্থক্য
হুরমত-মুশারাহাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য অমহরম নারীর দেহ স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে শুধু শাহওয়াত (যৌন কামনা) থাকাই যথেষ্ট, লিঙ্গ উত্থানের শর্ত নেই। অন্যদিকে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে লিঙ্গ উত্থান (ইনতিশার) আবশ্যক। পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ফতোয়া এই দ্বিতীয় মতটিকে (দুই সাহেবের মত) প্রাধান্য দিয়েছে, বিশেষ করে যখন সংশয় থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১২৩; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮৯)
আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ
১. ইরেকশনের অনুপস্থিতি – আপনি স্পষ্ট বলেছেন যে, আপনার যোনাঙ্গে পূর্ব থেকেই ইরেকশন হয় না (ইরেকশন ডিসফাংশন)। স্পর্শের সময়ও কোনো লিঙ্গ উত্থান হয়নি। দুই সাহেবের মত অনুযায়ী লিঙ্গ উত্থান না থাকায় হুরমত সাব্যস্ত হবে না।
২. ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা – আপনি যে ‘ঝিনঝিন’ বা ‘টান’ অনুভব করছেন, সেটি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী (১ সেকেন্ডের কম) এবং স্পর্শের পরে আর কোনো অনুভূতি ছিল না। অধিকাংশ হানাফী ফুকাহার মতে এমন ক্ষণস্থায়ী ও দুর্বল উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না, বরং তীব্র উত্তেজনা (শাহওয়াত-এ গালিযা) লাগে। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৯০)
৩. স্পর্শের সংক্ষিপ্ততা ও স্বল্পতা – আপনি মাত্র দেড়-দুই সেকেন্ডের জন্য হাত দিয়েছেন, এবং তা কোনো যৌন উদ্দেশ্যে নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনায় কৌতূহলবশত। শরীআতে হুরমত সাব্যস্ত হতে হলে স্পর্শ যৌন লালসাপূর্ণ (শাহওয়াত-এ মুতাদাদ বাহা) হতে হবে, এবং তা নিশ্চিত হতে হবে। আপনার ক্ষেত্রে নিশ্চিততা নেই।
সিদ্ধান্ত
- যেহেতু আপনার লিঙ্গে ইরেকশন হয়নি, এবং যে অনুভূতি হয়েছিল তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী ও দুর্বল, তাই হানাফী মাযহাবের প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত অনুযায়ী হুরমত-মুশারাহাত সাব্যস্ত হবে না।
- সুতরাং আপনি সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন। তবে আপনার জন্য অমহরম নারীর দিকে কামভাবেপরে দেখা ও স্পর্শ করা হারাম ছিল। এজন্য তওবা-ইস্তিগফার করুন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।
গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ
হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে:
«وَإِنْ مَسَّ امْرَأَةً بِشَهْوَةٍ، فَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ تَحْرُمُ، وَعِنْدَهُمَا لَا تَحْرُمُ إِلَّا بِالِانْتِشَارِ، وَالْفَتْوَى عَلَى قَوْلِهِمَا فِي هَذَا الزَّمَانِ»
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে কামনার সাথে স্পর্শ করে, তাহলে ইমাম আবু হানীফার মতে তা হারাম করে দেয় (অর্থাৎ হুরমত সাব্যস্ত হয়), কিন্তু দুই সাহেবের মতে শুধু লিঙ্গ উত্থান হলেই তা হারাম করে। এবং বর্তমান যুগে ফতোয়া দুই সাহেবের মতের উপর।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/১২৩)
আপনার জন্য চূড়ান্ত ফতোয়া
এই অবস্থায় আপনি সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন। কোনো প্রকার বৈবাহিক বাধা (হুরমত) সাব্যস্ত হয়নি।
উত্তর লিখনে সহায়ক গ্রন্থসমূহ:
- রদ্দুল মুহতার (মিন কিতাবিন নিকাহ, বাব আল-মুশারাহ)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (১/২৭৫)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী, ২/২৮৯)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফী, ২/৪৫)
- বেহেশতী জেওর (পর্ব ২, বিবাহ অধ্যায়)