কোনো বান্ধবীকে "আল্লাহর কাছে দুআ করতে বলা" এবং "আল্লাহ অমুককে বেশি ভালোবাসেন বলে তার দুআ কবুল হয়" —এই বিশ্বাস ও দুআর পদ্ধতি শরিয়তসম্মত কিনা?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 8118
Questioner: Afrin-0724
Question Asked: 07 Nov 2026, 05:58 PM
Reviewed & Published: 07 Nov 2026, 09:41 PM
Views: 91
Tokens: 4,231
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amar friend vabe Allah amake onek valobase. Ami kichu chaile Allah amake dei. Sedin onekkhon current chilo na. Se rannao korte parchilo na. Tokhn o namaz roome bose sura kahf porchilo.. Ami oju kore namaz roome gelam. Oi amke dake boltese- tumar kothai vabsilam. Allahr kase ektu current diye dite bolo to. Allah to tumak onek valobase.. Pore ami johir er namaz shuru korar age 2rakat nofol nama zpore dua korsi jeno current chole ase. Je smy e current asle amar frnd sobcheye beahi se smy e jno ase. Allah jno kollaner sathe current diye dei.. Pore amar bandhobi just namaz ses korse ar sotti sotti current chole asche.. Evbe kaoke dua korte bola ki thik

Answer

ফতোয়া: বন্ধুর অনুরোধে দুআ করা এবং দুআর সঠিক পদ্ধতি

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী বলছেন—তাঁর বান্ধবী মনে করে আল্লাহ তাঁকে বেশি ভালোবাসেন, তিনি যা চান আল্লাহ তা দেন। একদিন বিদ্যুৎ ছিল না, বান্ধবী রান্নাও করতে পারছিল না, তখন সে নামাজের রুমে বসে সূরা কাহফ পড়ছিল। প্রশ্নকারী অজু করে নামাজের রুমে গেলে বান্ধবী তাঁকে বলে—"তোমার কথা ভাবছিলাম, আল্লাহর কাছে বলো একটু কারেন্ট দিতে। আল্লাহ তো তোমাকে অনেক ভালোবাসে।" এরপর প্রশ্নকারী জোহরের নামাজের আগে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে দুআ করেন যেন কারেন্ট আসে এবং ঠিক সেই সময় আসে যখন তাঁর বান্ধবী সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। বান্ধবী নামাজ শেষ করতেই সত্যিই কারেন্ট চলে আসে। প্রশ্ন: এভাবে কাউকে দুআ করতে বলা কি ঠিক?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

মূল বিষয়টি দুই ভাগে বিভক্ত:

১. কোনো ব্যক্তিকে "আল্লাহর কাছে দুআ করতে বলা" — এটি নিজে কোনো শরঈ সমস্যা নয়; মুসলিম ভাই-বোনকে দুআর অনুরোধ করা জায়েয, বরং এটি পারস্পরিক দুআর একটি মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে সাহাবিদের কাছে দুআ চেয়েছেন এবং সাহাবিরাও একে অপরকে দুআর অনুরোধ করেছেন।

২. তবে যে বিশ্বাস ও পদ্ধতিতে এটি করা হয়েছে, তাতে কয়েকটি গুরুতর শরঈ আপত্তি রয়েছে — যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


বিস্তারিত আলোচনা

১. "আল্লাহ অমুককে বেশি ভালোবাসেন, তাই তার দুআ কবুল হয়" — এই বিশ্বাস ভিত্তিহীন

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আল্লাহ বেশি ভালোবাসেন বা তার দুআ বিশেষভাবে কবুল হয়—এটি জানার কোনো উপায় মানুষের নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ "আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।" (সূরা বাকারা: ২১৬)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِیْنَ "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন।" (সূরা আলে ইমরান: ৭৬)

ভালোবাসার মানদণ্ড হলো তাকওয়া ও আমল—কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ বিশ্বাস নয়। কারো সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা যে "আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে ভালোবাসেন বলে তার দুআ বিশেষভাবে কবুল হয়"—এটি সু-ধারণার সীমা অতিক্রম এবং অজ্ঞতাপ্রসূত। এটি ধীরে ধীরে শিরকি বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে (আল্লাহ হেফাজত করুন)।

২. দুআয় "কারেন্ট আসার সময় যেন বান্ধবী সবচেয়ে বেশি খুশি হয়" — এ ধরনের নির্দিষ্ট শর্তারোপ

দুআয় এমন নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া যে "কারেন্ট ঠিক তখনই আসুক যখন অমুক সবচেয়ে বেশি খুশি হয়"—এটি দুআর আদবের পরিপন্থী। দুআ হলো আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে প্রার্থনা; এতে সৃষ্টির সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে শর্তারোপ করা অনুচিত। হাদিসে দুআর আদব হিসেবে এসেছে—আল্লাহর প্রশংসা, দরুদ, তারপর প্রার্থনা (তিরমিজি: ৩৪৭৭)। দুআয় দুনিয়ার তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ শর্ত দেওয়া দুআর মর্যাদার পরিপন্থী।

৩. "নফল নামাজ পড়ে দুআ করা" — মূলত জায়েয, তবে...

সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ) শরিয়তে প্রমাণিত। হাদিসে এসেছে:

مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ حَاجَةٌ أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلْيَتَوَضَّأْ فَلْيُحْسِنِ الْوُضُوءَ ثُمَّ لْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ... "যার আল্লাহর কাছে বা আদম সন্তানের কাছে কোনো প্রয়োজন থাকে, সে যেন অজু করে উত্তমভাবে, তারপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে..." (তিরমিজি: ৪৭৯, ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)

তবে শর্ত হলো—দুআয় একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকেই ফিরা, এবং দুআয় কোনো মাখলুকের সন্তুষ্টিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানানো নয়। বিদ্যুৎ আসা-না আসা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; দুআয় "কারেন্ট আসুক" বলা জায়েয, কিন্তু তাতে বান্ধবীর খুশিকে কেন্দ্রবিন্দু বানানো দুআর আদবের খেলাফ।

৪. বান্ধবীকে "আল্লাহর কাছে বলো" বলা — শব্দগত সতর্কতা

"তুমি আল্লাহর কাছে বলো" —এটি যদি অর্থ হয় "তুমি আমার জন্য দুআ করো", তবে ঠিক আছে। কিন্তু যদি ধারণা হয় যে প্রশ্নকারীর দুআ বিশেষভাবে কবুল হয় বা তার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ শোনেন না—তবে তা ভ্রান্ত বিশ্বাস। প্রত্যেক মুসলিম সরাসরি আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারে; কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ বলেন:

وَ اِذَا سَاَلَکَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ "যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি নিকটেই আছি।" (সূরা বাকারা: ১৮৬)


ফিকহি রায় (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | মুসলিম ভাই-বোনকে দুআর অনুরোধ করা | জায়েয (মুস্তাহাব) | | সালাতুল হাজত পড়ে দুআ করা | জায়েয (সুন্নত/মুস্তাহাব) | | "অমুককে আল্লাহ বেশি ভালোবাসেন, তাই তার দুআ বিশেষভাবে কবুল হয়" — এই বিশ্বাস | নাজায়েয, ভ্রান্ত আকিদা — সংশোধন আবশ্যক | | দুআয় সৃষ্টির সন্তুষ্টিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানানো | দুআর আদবের খেলাফ — এড়িয়ে চলা উচিত | | দুআয় আল্লাহর পরিবর্তে কোনো ব্যক্তিকে মাধ্যম/ওসিলা মনে করা | নিষিদ্ধ (শিরকের দিকে নিয়ে যায়) |

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ দুআর আদব প্রসঙ্গে বলেন—দুআয় আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ দিয়ে শুরু করা, বিনয় প্রকাশ করা এবং দুনিয়ার তুচ্ছ বিষয়কে অতিরঞ্জিত না করা কর্তব্য। (রাদ্দুল মুহতার: ২/২৬৩ প্রসঙ্গ)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ সূরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতের তাফসিরে বলেন—দুআয় কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই; বান্দা সরাসরি আল্লাহকেই ডাকবে। (মাআরিফুল কুরআন: ১/৩০০ প্রসঙ্গ)

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ দুআর অধ্যায়ে উল্লেখ করেন—দুআ কবুলের শর্ত হলো হালাল খাবার, ইখলাস এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা; কোনো ব্যক্তির "বিশেষ প্রিয়তা" নয়। (বেহেশতী জেওর, দুআ অধ্যায়)


করণীয়

১. আকিদা সংশোধন করুন — কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বা দুআ কবুলের বিশেষ মাধ্যম মনে করা থেকে বিরত থাকুন। ২. দুআয় একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরুন — দুনিয়ার তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ শর্তারোপ এড়িয়ে চলুন। ৩. বান্ধবীকে দুআ করতে বলতে পারেন — তবে "তুমি আল্লাহর কাছে বলো" নয়, বরং "আমার জন্য দুআ করো" —এভাবে বলুন। ৪. সালাতুল হাজত শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে পড়ুন — অজু, দুই রাকাত নামাজ, আল্লাহর প্রশংসা, দরুদ, তারপর প্রয়োজন পেশ করা। ৫. বিদ্যুৎ আসা-না আসা আল্লাহর ইচ্ছা — দুআয় "কারেন্ট আসুক" বলা জায়েয, কিন্তু তাতে বান্ধবীর খুশিকে কেন্দ্রবিন্দু বানানো থেকে বিরত থাকুন।


উপসংহার

কাউকে দুআ করতে বলা নিজে জায়েয, কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় যে বিশ্বাস ও পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে—যেমন "আল্লাহ অমুককে বেশি ভালোবাসেন বলে তার দুআ বিশেষভাবে কবুল হয়" এবং "কারেন্ট ঠিক তখনই আসুক যখন বান্ধবী সবচেয়ে বেশি খুশি হয়"—এগুলো শরিয়তসম্মত নয়। আকিদা সংশোধন করা এবং দুআকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে ফিরানো আবশ্যক।

وَاللّٰهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالٰی أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.