ইস্তিখারার নামাজ কীভাবে পড়ব? মেয়েদের পর্দা করার ক্ষেত্রে ফুল বোরখা পড়া অথবা শুধু মুখ আর হাতের কবজি পর্যন্ত বের করে রাখার হুকুম কী?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 8080
Questioner: Isfakun Nisa-591
Question Asked: 06 Nov 2026, 08:12 PM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 08:56 PM
Views: 78
Tokens: 5,280
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১. ইস্তিখারার নামাজ কীভাবে পড়ব?
বিস্তারিত জানিতে চাই।
২. মেয়েদের পর্দা করার ক্ষেত্রে ফুল বোরখা পড়া অথবা শুধু মুখ আর হাতের কবজি পর্যন্ত বের করে রাখার হুকুম কী?
৩. মাহরাম নন মাহরাম মেনে চলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

Answer

ইস্তিখারা, পর্দা ও মাহরাম-নন-মাহরাম সম্পর্কিত বিস্তারিত ফতোয়া

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد


১. ইস্তিখারার নামাজ কীভাবে পড়ব?

ইস্তিখারা অর্থ কোনো কাজে কল্যাণ প্রার্থনা করা। শরীয়তের পরিভাষায়: কোনো জায়েয কাজে দ্বিধা থাকলে আল্লাহ তাআলার কাছে কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দুআসহ দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াকে ইস্তিখারা বলে।

ইস্তিখারার হুকুম

ইস্তিখারা করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদেরকে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেমনভাবে কুরআনের সূরা শেখাতেন। (সহীহ বুখারী: ১১৬৬)

পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)

ধাপ ১ — নিয়ত ও প্রস্তুতি: কোনো বৈধ (জায়েয) কাজ করার ইচ্ছা হলে, প্রথমে ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে। নিয়ত: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি।"

ধাপ ২ — নামাজ: সাধারণ নফল নামাজের মতো দুই রাকাত পড়বে। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া মুস্তাহাব (যদিও যেকোনো সূরা পড়া জায়েয)।

ধাপ ৩ — দুআ: নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) ও নবী ﷺ-এর উপর দরুদ পড়ে নিম্নোক্ত দুআ পড়বে:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي — أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ — فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي — أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ — فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে সামর্থ্য চাইছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। আপনি ক্ষমতা রাখেন, আমি রাখি না; আপনি জানেন, আমি জানি না; আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সর্বজ্ঞ। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরিণামের দিক থেকে (অথবা বলেছেন: তাৎক্ষণিক ও ভবিষ্যতের দিক থেকে) আমার জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন, সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দিন। আর যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরিণামের দিক থেকে আমার জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে দিন এবং যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন, অতঃপর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট করুন।"

দুআতে "هَذَا الْأَمْرَ" (এই কাজটি) বলার স্থানে নিজের প্রয়োজনটি মনে মনে নির্দিষ্ট করবে — যেমন: "এই বিয়ে", "এই চাকরি", "এই সফর" ইত্যাদি।

(সহীহ বুখারী: ৬৩৮২, ১১৬৬; সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮; সুনানে তিরমিজি: ৪৮০)

গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  1. ইস্তিখারার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই — যেকোনো সময় করা যায়, তবে তাহাজ্জুদ ও জুমার সময় বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
  2. স্বপ্ন দেখা শর্ত নয় — ইস্তিখারার মূল লক্ষ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও সহজতার দিক খুলে যাওয়া। কেউ স্বপ্ন দেখলে ভালো, না দেখলেও সমস্যা নেই।
  3. ইস্তিখারার পর করণীয় — যে দিকে অন্তর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঝুঁকে যায় বা কাজটি সহজ হয়ে যায়, সেদিকেই অগ্রসর হবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইশারা।
  4. ইস্তিখারা শুধু জায়েয কাজে — হারাম বা মাকরুহ কাজে ইস্তিখারা করা যায় না।
  5. একই কাজে বারবার ইস্তিখারা — প্রয়োজনে সাতবার পর্যন্ত করা যায় (কিছু উলামার মত)।

হানাফি ফিকহের রেফারেন্স: ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর শিষ্যগণ ইস্তিখারাকে মুস্তাহাব বলেছেন। (রাদ্দুল মুহতার: ২/২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৭৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/৪৫৬; ফাতাওয়া উসমানি: ১/৪৬৮)


২. মেয়েদের পর্দা করার ক্ষেত্রে ফুল বোরখা পড়া অথবা শুধু মুখ আর হাতের কবজি বের করে রাখার শরঈ হুকুম

ক. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপে):

ইসলামী শরীআতে পরপুরুষ বা গায়েরে মাহরামের সামনে একজন নারীর জন্য চেহারা ও হাতের কবজি সহ পুরো শরীর আবৃত করা এবং ফুল বোরকা বা জিলবাব পরিধান করে পর্দা করা ফরয/ওয়াজিব।

খ. ফিকহী ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্য দলীলাদি:

১. নামায ও প্রাত্যহিক প্রয়োজনের রুখসত বনাম পরপুরুষের সামনে পর্দা: ফিকহে হানাফী অনুযায়ী, সালাতের ভেতরে সতর ঢাকার ক্ষেত্রে এবং কেনাবেচা বা লেনদেনের মতো বাধ্যবাধকতামূলক কাজের প্রয়োজনের সময় চেহারা ও হাতের কবজি খোলা রাখার ফিকহী ছাড় (রুখসত) দেওয়া হয়েছে। তবে ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—পরপুরুষের সামনে বা সাধারণ চলাফেরায় বর্তমান জমানায় ফিতনার আশঙ্কার কারণে স্বাধীন নারীর জন্য চেহারা ও হাত অনাবৃত রাখা নিষিদ্ধ এবং মুখমণ্ডল ঢেকে পর্দা করা ওয়াজিব। ফিকহ কুতুবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে:

«وَتُمْنَعُ الْمَرْأَةُ الشَّابَّةُ مِنْ كَشْفِ الْوَجْهِ بَيْنَ الرِّجَالِ» (অর্থ: "ফিতনার আশঙ্কায় যুবতী নারীদের পরপুরুষের সামনে মুখমণ্ডল খোলা রাখা নিষিদ্ধ করা হবে।") (রদ্দুল মুহতার; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯/১২৭, ১৩০)। ২. পবিত্র কুরআনের নির্দেশ (জিলবাব/বোরকা): আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন: ﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ﴾ (অর্থ: "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের (বোরকা/চাদর) কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়।" —সূরা আহযাব: ৫৯)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, নারীরা প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাথার ওপর থেকে জিলবাব টেনে পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে নেবে, কেবল একটি চোখ খোলা রাখতে পারবে। ৩. বোরকার পোশাকের শর্তাবলী: বোরকা বা পর্দা করার কাপড়টি অবশ্যই মোটা ও ঢিলেঢালা হতে হবে। এমন আঁটসাঁট (টাইট/স্কিনফিটিং) বা পাতলা কাপড় পরিধান করা হারাম, যাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ফুটে ওঠে বা ভেতর দেখা যায়।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা ১২৬ (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯/১২৬) (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'পর্দার হুকুম, চেহারার পর্দা এবং ফিতনার সময় মুখমণ্ডল আবৃত রাখার ওয়াজিবাত')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৪০৭ (দরসুল ফিকহ ১/৪০৭-৪০৯) (অধ্যায়: 'পোশাকের নীতিমালা ও সতর আবৃত রাখার বাধ্যবাধকতা')।
  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ): পৃষ্ঠা ৫৬ (নূরুল ঈযাহ পৃষ্ঠা ৫৬) (পরিচ্ছেদ: সালাতের সতর — 'নামাযের ভেতর ও বাইরের সতরের পার্থক্য')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা সংস্করণ): পৃষ্ঠা ১৬১ (হিন্দিয়াহ ১/৫৮) (অধ্যায়: কিতাবুস সালাত — 'মহিলাদের সতর সংক্রান্ত ফিকহী মাসআলা')।

৩. মাহরাম ও নন-মাহরাম মেনে চলা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ

ক. মাহরামের পরিচয় (Mahram Definition):

ফিকহে হানাফীর প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) মাহরামের সংজ্ঞায় বলেন:

«والمحرم من لا يجوز مناكحتها علي التأبيد بقرابة أو رضاع أو صهرية» (অর্থ: "মাহরাম বলা হয় ঐসকল ব্যক্তিদের, যাদের সঙ্গে বংশগত, দুধপান বা বৈবাহিক সূত্রে চিরকালের জন্য বিবাহ হারাম।") (রদ্দুল মুহতার ৩/৪৬৪; দরসুল ফিকহ ১/১৪৭)।

খ. মাহরাম পুরুষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা (৩টি ক্যাটাগরি):

১. বংশগত সূত্রে মাহরাম (نسبی محرمات) — ৭ শ্রেণী:

  • পিতা: আপন পিতা, দাদা, নানা, পরদাদা, পরনানা (ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ)।
  • পুত্র: আপন ছেলে, নাতি (ছেলের ছেলে ও মেয়ের ছেলে) এবং তাদের অধস্তন পুত্রগণ।
  • ভাই: আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই (বাবা এক, মা ভিন্ন) ও বৈপিত্রেয় ভাই (মা এক, বাবা ভিন্ন)।
  • চাচা: আপন পিতা ও মাতার আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় চাচাগণ।
  • মামা: আপন পিতা ও মাতার আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় মামাগণ।
  • ভাতিজা: আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ও তাদের অধস্তন পুত্রগণ।
  • ভাগিনা: আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে ও তাদের অধস্তন পুত্রগণ।

২. দুধ পানের সূত্রে মাহরাম (رضاعی محرمات):

  • রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة» (অর্থ: "জন্ম সূত্রে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধ পানের সূত্রেও তাদের সাথে বিবাহ হারাম।") (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।
  • অতএব— দুধ-পিতা, দুধ-ছেলে, দুধ-ভাই, দুধ-চাচা, দুধ-মামা, দুধ-ভাতিজা এবং দুধ-ভাগিনা সম্পূর্ণ মাহরাম।

৩. বৈবাহিক সূত্রে মাহরাম (صهرية محرمات):

  • শ্বশুর: আপন শ্বশুর, দাদা শ্বশুর, নানা শ্বশুর (ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ)।
  • জামাতা: আপন মেয়ের স্বামী (জামাই), নাতনীর স্বামী।
  • সৎ ছেলে: স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত ছেলে ও তাদের অধস্তন পুত্রগণ (স্ত্রীর সাথে সহবাসের পর)।
  • সৎ পিতা: মায়ের অন্য স্বামী (যার ঔরসজাত সন্তান নিজে নয়; তবে মায়ের সাথে সহবাস হওয়ার পর)।

গ. নন-মাহরাম (গায়েরে মাহরাম)-এর পরিচয় ও পরিচিত তালিকা:

উপরোক্ত মাহরামের তালিকা ব্যতীত পৃথিবীর বাকি সমস্ত পুরুষ যাদের সাথে শরীআতে চিরতরে বিয়ে হারাম নয়, তারা সবাই নারীর জন্য নন-মাহরাম (গায়েরে মাহরাম)।

পরিচিত নন-মাহরাম আত্মীয়দের তালিকা (যাদের সাথে পর্দা করা ফরয):

  • চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই।
  • দেবর ও ভাসুর (স্বামীর ভাই)।
  • দুলাভাই/বেনোই (বোনের স্বামী)।
  • খালু ও ফুফা (মায়ের বোন ও বাবার বোনের স্বামী)।
  • শ্বশুরের ভাই (চাচা শ্বশুর, মামা শ্বশুর)।
  • অন্যান্য দূরসম্পর্কের যেকোনো পুরুষ আত্মীয় বা শিক্ষক/সহকর্মী।

বিশেষ সতর্কবার্তা (দেবর ও ভাসুর): রাসুলুল্লাহ ﷺ দেবর ও ভাসুরের সাথে পর্দার বিষয়ে বিশেষ কঠোরতা আরোপ করে ইরশাদ করেছেন: «إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ... الْحَمْوُ الْمَوْتُ» (অর্থ: "তোমরা নারীদের নির্জন কক্ষে প্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো... দেবর/ভাসুর তো মৃত্যুর সমতুল্য (ধ্বংসাত্মক) risk!") (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯/১৩৪)।


ঘ. নন-মাহরামের সাথে মেলামেশা ও কথা বলার শরঈ নিয়মাবলী:

১. শরঈ পর্দা রাখা: নন-মাহরামদের সামনে মুখমণ্ডল, চুল ও শরীর আবৃত করে পর্দা রক্ষা করে চলতে হবে। ২. একান্তে অবস্থান (খলওয়াত) নাজায়েয: কোনো নন-মাহরাম পুরুষের সাথে একাকী একটি কক্ষে বা নির্জন স্থানে অবস্থান করা সম্পূর্ণ হারাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, «তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে সেখানে শয়তান উপস্থিত থাকে» (সুনানে তিরমিযী)। ৩. কণ্ঠস্বরের পর্দা ও কথা বলার আদব: প্রয়োজনে নন-মাহরামের সাথে কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে এবং কোনো প্রকার আকর্ষণ বা নরম সুর সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক ও গম্ভীর কণ্ঠে সংক্ষেপে কথা শেষ করতে হবে (সূরা আহযাব: ৩২)।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৪৭, ১৪৮ (দরসুল ফিকহ ১/১৪৭, ১৪৮) (অধ্যায়: 'মাহরাম ও নন-মাহরামের সুনির্দিষ্ট ফিকহী তালিকা ও পরিচয়')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৩ (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৯/১৩২) (অধ্যায়: 'মাহরামের সীমা, যৌথ পরিবারে দেবর-ভাসুরের পর্দা, খলওয়াত ও পর্দার আহকাম')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড - বাংলা সংস্করণ): পৃষ্ঠা ৩৪ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ৩য় পরিচ্ছেদ: মুহাররামাত বা যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ তাদের বিবরণ)।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.