নুসুক অ্যাপের কুইজ বা লটারির মাধ্যমে উমরা করা কি হালাল?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 8089
Questioner: Neshat Zahan
Question Asked: 06 Nov 2026, 10:40 PM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 11:48 PM
Views: 51
Tokens: 3,304
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নুসুক এপ থেকে কুইজের আয়জনে পরে উমরা করাতে চাইছে, এইটা কতটুকু সত্যি? আর লটারি করে উমরা পালন, এই পদ্ধতি কি হালাল হবে?

Answer

নুসুক অ্যাপের কুইজ/লটারির মাধ্যমে উমরা: শরয়ি বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—(১) নুসুক অ্যাপ থেকে কুইজের আয়োজনে উমরা করানোর যে দাবি/প্রচলন আছে তা কতটুকু সত্য, এবং (২) লটারি করে উমরা পালনের এই পদ্ধতি শরিয়তসম্মত (হালাল) হবে কি না।


১. নুসুক (Nusuk) অ্যাপে কুইজের মাধ্যমে ওমরাহ করানোর সত্যতা:

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হলো 'নুসুক' (Nusuk)।

  • অফিশিয়াল ক্যাম্পেইনের: নুসুক অ্যাপ বা তাদের অফিশিয়াল পার্টনাররা বিভিন্ন সময় প্রচারণামূলক কাজ বা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দিয়ে থাকে। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (nusuk.sa) বা ভেরিফাইড চ্যানেল থেকে এমন ঘোষণা আসলে তা সত্য।

২. লটারির মাধ্যমে ওমরাহ পালন করার শরঈ বিধান (হালাল না হারাম?):

ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ওমরাহ পাওয়ার বিষয়টিকে ২টি সুনির্দিষ্ট ভাগে বিবেচনা করা হয়:

ক. বিনামূল্যে/উপহারভিত্তিক লটারি (শরঈ কুরআ - القرعة) [হালাল ও জায়েয]:

যদি উক্ত কুইজ বা লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো প্রকার ফি, টিকিট ক্রয় বা টাকা বাজি ধরার প্রয়োজন না হয় (যেমন: নুসুক অ্যাপ কুইজে বিজয়ী বা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ওমরাহের টিকিট/প্যাকেজ হাদিয়া দেয়), তবে শরীআতের বিচারে তা 'কুরআ' (القرعة - নিছক বিজয়ী/নাম নির্বাচন) হিসেবে গণ্য ।

  • শরঈ ফয়সালা: এই পদ্ধতিতে বিজয়ী হয়ে ওমরাহ পালন করা সম্পূর্ণ হালাল ও জায়েয। কারণ এতে অংশগ্রহণকারীর কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বা বাজি থাকে না।

খ. ফি বা টিকিটভিত্তিক লটারি (ক্বিমার/জুয়া - القمار) [হারাম ও নাজায়েয]:

যদি ওমরাহ লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়, ফি জমা দিতে হয় কিংবা কোনো আর্থিক বাজি ধরে অংশ নিতে হয় (যেখানে লটারিতে না উঠলে টাকা লস হওয়ার ঝুঁকি থাকে), তবে শরীআতের দৃষ্টিতে তা 'ক্বিমার' (জুয়া/Gambling) হিসেবে গণ্য।

  • শরঈ ফয়সালা: এই পদ্ধতিতে লটারিতে বিজয়ী হয়ে ওমরাহে যাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কারণ জুয়া বা কিমারের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ইবাদত করা শরীআতে নিষিদ্ধ।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৫৮ (মাহমুদিয়া ২০/৫৮) (অধ্যায়: বাব মা ইউতাল্লাকু বিস সিহর — 'قرعہ اندازی کی حقیقت — বিজয়ী বা নির্বাচন করার জন্য কুরআ/লটারি করা শরীআতে জায়েয হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২২শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩৮ (মাহমুদিয়া ২২/৩৮) (অধ্যায়: বাবুল ইমামা — 'قرعہ اندازی سے انتخاب کی شرعی حیثیت — অনর্থক ঝামেলা এড়াতে নিছক নাম নির্বাচনের জন্য লটারি করা জায়েয হওয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৪১ (মাহমুদিয়া ২৪/৪১ / মাহমুদিয়া ১৬/২৩৫) (অধ্যায়: বাবুল ক্বিমার — 'টাকা বা ফি দিয়ে লটারিতে অংশ নেওয়া ক্বিমার/জুয়া হওয়া এবং তা নাজায়েয হওয়ার বিধান')।
  • বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৫৯ (বুহুস ফি কাযায়া ২/১৫৯) (অধ্যায়: أحكام الجوائز — 'প্রতিযোগিতা ও হাদিয়ার ফিকহী শর্তাবলী: অতিরিক্ত ফি বা বাজি না থাকলে হাদিয়া জায়েয হওয়া, অন্যথায় কিমার হওয়া')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৯৩ (দরসুল ফিকহ ১/১৯৩) (অধ্যায়: 'প্রাইজবন্ড ও টিকিট লটারির শরঈ দৃষ্টিভঙ্গি — সুদী ও কিমার লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়া')।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.