শিকড়/তাবিজ বেঁধে চিকিৎসা করার পর ফতোয়া জেনে শিকড় খুলে ফেলা হয়েছে—এখন করণীয় কী?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7443
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 27 Oct 2026, 04:12 PM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 06:31 PM
Views: 9
Tokens: 4,014
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কিছুক্ষণ আগে আমি একটা শিকড় বাঁধার চিকিৎসা নিয়ে জিজ্ঞেস করায় আপনারা এমন বলেছিলেন ❝শিকড়/তাবিজ বেঁধে চিকিৎসা—যদি কুরআন-দুআবিহীন এবং বস্তুকে স্বতন্ত্র শিফার কারণ মনে করা হয়—নাজায়েয ও শিরকের সীমান্তে।❞

চিকিৎসা শুরুর সময় আমার মন বলছিলো এই পদ্ধতি হারাম, প্রায় ১মাস হয়ে গিয়েছে শিকড়টা ব্যবহারের, ফাতওয়া জিজ্ঞেস করবো বলে বলে অলসতায় দেরি হয়ে গিয়েছে...
আমার এখন কি করণীয় জানাবেন অনুগ্রহ করে, আমি সুস্থ ও হয়ে গিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ, আর উত্তর পাওয়া মাত্রই শিকড়টা খুলে ফেলেছি। অজান্তে শিরকের মতো গুনাহ হয়ে গিয়েছে....আমি ভীষণ অনুতপ্ত, অনেক অপরাধবোধ হচ্ছে ।

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নিন: আপনি শিরকে লিপ্ত হননি, ইনশাআল্লাহ। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি শিকড়কে স্বতন্ত্র শিফার কারণ (independent cause) মনে করেননি; বরং আল্লাহর উপর ভরসা রেখেই ব্যবহার করেছেন এবং সন্দেহ হলে ফতোয়া জানার পরই তা খুলে ফেলেছেন। এটি শিরক নয়, বরং এটি ছিল একটি সন্দেহজনক (মশকুক) ও সম্ভাব্য নাজায়েয الوسيلة অবলম্বন, যা আপনি অজ্ঞতাবশত ও অবহেলাবশত করেছেন। ইসলামে অজ্ঞতা ও ভুলের ভিত্তিতে ক্ষমা রয়েছে—আল্লাহ তাআলা বলেন:

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا "হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

নবী ﷺ বলেছেন: «رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ» — "আমার উম্মত থেকে ভুল, বিস্মৃতি ও জবরদস্তি করা বিষয় উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সুনানে বায়হাকী)

তবে যেহেতু আপনার অন্তরে সন্দেহ ছিল এবং আপনি ফতোয়া জানতে দেরি করেছেন, এটি একটি তাকওয়ার ত্রুটি। এর জন্য তাওবা ও ইস্তিগফারই যথেষ্ট।

এখন করণীয়:

১. তাওবা ও ইস্তিগফার করুন। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। তিনি গাফফারুর রাহীম। আপনি শিকড় খুলে ফেলেছেন—এটি তাওবার একটি বাস্তব প্রমাণ। তাওবার শর্ত: (ক) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (খ) অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া, (গ) ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প। (রাদ্দুল মুহতার: ৪/১৪১; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/১৩৫)

২. শিরকের ভয় নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। শিরক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা বা কোনো মাখলুককে স্বতন্ত্রভাবে উপকার-ক্ষতির মালিক মনে করা। আপনি তা করেননি। ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন, তাবিজ-শিকড় ব্যবহারে নিষেধতা তখনই যখন তাতে শিরকী আকীদা বা হারাম বস্তুর সংমিশ্রণ থাকে; নিছক বস্তুকে মাধ্যম মনে করা শিরক নয়, তবে তা শরীয়তসম্মত উপায় নয়। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৩-৩৬৪)

৩. অতিরিক্ত অপরাধবোধ ত্যাগ করুন। শয়তান মুমিনকে অতিরিক্ত হতাশায় ফেলে দেয়। আপনি সুস্থ হয়েছেন—এটি আল্লাহরই অনুগ্রহ। এখন শুকরিয়া আদায় করুন, নফল নামাজ পড়ুন, সদকা করুন। আল্লাহ বলেন: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ» — "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারা: ২২২)

৪. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন। কোনো সন্দেহজনক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের আগে আলেমদের সাথে পরামর্শ করুন। হাদিসে এসেছে: «دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ» — "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ করো।" (তিরমিজি: ২৫১৮)

৫. আপনার সুস্থতার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য বৈধ ও শরীয়তসম্মত উপায় (ডাক্তারি চিকিৎসা, কুরআন-দুআ, রুকইয়া শরীয়াহ) অবলম্বন করুন।

সংক্ষেপে: আপনি শিরকে পড়েননি; একটি সন্দেহজনক الوسيلة ব্যবহার করেছেন, যা খুলে ফেলেছেন। এখন আন্তরিক তাওবা, ইস্তিগফার ও শুকরিয়াই যথেষ্ট। আল্লাহ আপনার তাওবা কবুল করুন এবং অন্তরকে প্রশান্তি দিন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.