হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করে ফেললে করণীয় কী?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7395
Questioner: Nurani Rahim Disha
Question Asked: 26 Oct 2026, 08:18 AM
Reviewed & Published: 26 Oct 2026, 10:37 AM
Views: 31
Tokens: 5,268
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করে ফেলেছি, এখন করণীয় কি?

১. আসরের নামায কি সেই দিনের নিষিদ্ধ সময়ে পড়া যাবে?
২. সকাল সন্ধ্যার আমলগুলো আমি শায়খ আহমাদুল্লাহ এর বই দেখে দেখে পড়ি, কারণ সব মুখস্থ নেই, এভাবে কি আমল করা যাবে?

Answer

হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করে ফেলার পর করণীয়

ভূমিকা

হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা হানাফি মাযহাব অনুযায়ী নিষিদ্ধ (হারাম)। তবে ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তিলাওয়াত হয়ে গেলে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা ও ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট; কোনো কাফফারা আবশ্যক হবেনা।

কুরআনুল কারীম:

لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ "পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করবে না।" (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৯)

হাদিসে এসেছে:

لَا تَقْرَإِ الْحَائِضُ الْقُرْآنَ "হায়েজা নারী কুরআন পড়বে না।" (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ৪৩১; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা)

প্রশ্ন ১: আসরের নামায কি সেই দিনের নিষিদ্ধ সময়ে পড়া যাবে?

জবাবঃ- হ্যাঁ, ঐ দিনের আসরের নামাজ পড়া যাবে। তবে বিনা ওযরে ও ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করবেননা।


প্রশ্ন ২: শায়খ আহমাদুল্লাহ এর বই দেখে দেখে সকাল-সন্ধ্যার আমল পড়া যাবে?

জবাবঃ- হ্যাঁ, পড়া যাবে।

মূল নীতি

ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো নিয়ত ও sincerity (ইখলাস)। বই দেখে দেখে দুআ, যিকির, দরুদ পড়া সম্পূর্ণ জায়েয। এটি মুখস্থ না থাকলে বই দেখে পড়ায় কোনো সমস্যা নেই।

দলিল

১. কুরআন:

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ "তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫২)

২. হাদিস:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ "আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি একশত বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' বলবে, তার গুনাহসমূহ মুছে যাবে।" (সহীহ বুখারি: ৬৪০৫)

এই হাদিসে বলা হয়নি যে মুখস্থ থাকতে হবে—বরং বলা হয়েছে যে বললেই হবে। তাই বই দেখে পড়লেও হাদিসের প্রতিশ্রুতি প্রযোজ্য।

৩. সাহাবাদের আমল: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অনেক সময় লিখিতভাবে দুআ পড়তেন এবং অন্যদের শেখাতেন। ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু সাহাবি দুআ লিখে রাখতেন এবং তা দেখে পড়তেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.